আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তাই কুষ্টিয়ার ফিলিপনগরের ঘটনার জন্য দায়ী বলে দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
বিজ্ঞাপন
আইন হাতে তুলে নেওয়া এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে কথিত পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা সমর্থন করা যায় না বলেও মনে করে দলটি।
রোববার (১২ এপ্রিল) দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে যা ঘটেছে তা ধারাবাহিক ও দীর্ঘকালীন আইনের শাসন না থাকার একটি নগ্ন দৃষ্টান্ত। কথিত পীর বহু বছর ধরে ইসলাম বিকৃত করে মানুষের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আসছিলেন। ধর্ম পালনে প্রত্যেকের স্বাধীনতা আছে; কিন্তু কোনো ধর্মকে বিকৃত করা কারো অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হতে পারে না।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গাওয়ারও একটি নির্ধারিত তাল ও লয় আছে। কেউ ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে তা বিকৃত করতে পারে না। কথিত এই পীর দীর্ঘদিন যা করছিলেন তা ধর্মীয় স্বাধীনতা নয়, বরং ধর্মবিকৃতি। প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অন্যদিকে তাকে ঘিরে যে গণবিক্ষোভ দানা বাঁধছিল, তাও প্রশাসন যথাযথভাবে আমলে নেয়নি। ফলশ্রুতিতে এমন একটি ঘটনা ঘটল যা বাংলাদেশের সুনামহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র আরও বলেন, আইন হাতে তুলে নেওয়াকে আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করি না। ফলে কথিত পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরের সাথে যা ঘটেছে তা সমর্থন করা যায় না। তবে এটাও সত্য যে, গতকাল তার সঙ্গে যা ঘটেছে তা পুরো ঘটনার আংশিক মাত্র। এই ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিন যাবৎ মানুষের বোধ-বিশ্বাসের প্রতি ধারাবাহিক অবমাননা ও ধর্ম বিকৃতির অপকর্ম জড়িত।
এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সরকারকে ধর্ম বিকৃতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় ধর্ম বিকৃতিকে ধর্ম পালনের স্বাধীনতারসঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়, এই বিষয়ে সতর্কতা জরুরি। একইসঙ্গে আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনার বিরুদ্ধেও প্রশাসনের আইনানুগ পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
জেইউ/এমএসএ
