পোস্টাল ভোট বানচালের অপচেষ্টা, কুয়েত প্রবাসীদের নিন্দা

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীরা প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। তবে প্রবাসীদের এই অধিকার ও প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি একটি মহল তা বানচালের অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন কুয়েত প্রবাসীরা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কুয়েতে অবস্থানরত প্রবাসীরা এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
প্রযুক্তি ও ডাকযোগের সমন্বয়ে শুরু হওয়া এই ভোটাধিকার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পেরে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। অনেকে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উৎসাহের বশে ব্যালট পেপারে ভোট দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করছেন। তবে গণভোটের সঠিক প্রচারণার অভাবে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছেন ভোটাররা।
কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বেশির ভাগ প্রবাসী এক রুমে একাধিক ব্যক্তি সিট ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় তাদের ঠিকানা বদলাতে হয় এবং নিজস্ব কোনো স্থায়ী ঠিকানা থাকে না। এ অবস্থায় ভোটাধিকার নিশ্চিতে কমিউনিটির নেতারা ও রাজনৈতিক কর্মীরা সাধারণ প্রবাসীদের সহায়তা করছেন। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত কর্মীরা ‘পোস্টাল ব্যালট বিডি’ অ্যাপসে নিবন্ধনে প্রবাসীদের কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছেন।
কুয়েত প্রবাসী ওমর ফারুক ও রহিমউদ্দিন জানান, অফিস সময়ে কাজের ব্যস্ততা এবং পোস্ট অফিস দূরে হওয়ায় তারা নিজেরা যেতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে পরিচিত বন্ধু ও স্বজনেরা তাদের ব্যালট পেপার এনে দিচ্ছেন।
কুয়েত প্রবাসী সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘যার ব্যালট সে-ই নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোট দেবে, অন্য কারো ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। একটি মহল এই প্রক্রিয়া নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে, আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।’
মীর নজরুল ইসলাম নামের এক প্রবাসী জানান, ডিউটির ব্যস্ততা ও নিজস্ব পরিবহন না থাকায় অনেক প্রবাসী পোস্ট অফিসে যেতে পারছেন না। তাই নিজের গাড়ি থাকায় তিনি প্রবাসীদের ব্যালট পেপার পৌঁছে দিয়ে সহায়তা করছেন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার চালু থাকলে ভবিষ্যতে যেকোনো সরকার তাঁদের মূল্যায়ন করতে বাধ্য হবে।
সিনিয়র প্রবাসীরা মনে করছেন, বন্ধু-বান্ধব বা কমিউনিটি নেতারা সহযোগিতায় এগিয়ে না আসলে অসংখ্য প্রবাসীর ভোট দেওয়া সম্ভব হতো না।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিআরইউ