মাগরিবের আজানের পর নফল নামাজ পড়া যাবে কি?

Dhaka Post Desk

ধর্ম ডেস্ক

২৫ মে ২০২২, ১২:১১ পিএম


মাগরিবের আজানের পর নফল নামাজ পড়া যাবে কি?

প্রতীকী ছবি

মাগরিবের আজানের পরে ফরজ নামাজের আগে নফল নামাজ পড়ার হুকুম কী? এবিষয়ে এক আলেমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, পড়া যাবে; কেননা বিভিন্ন সাহাবিরা পড়েছেন।

অন্য একজনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মাকরূহে তানযিহী-এর সাথে হবে; কেননা খুলাফায়ে আরবাআসহ উল্লেখযোগ্য কোনো সাহাবি পড়েননি। এ বিষয়ে শরয়ি সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

এই প্রশ্নের উত্তর হলো- মাগরিবের আজান ও ইকামতের মাঝে সুন্নত বা মুস্তাহাব পর্যায়ের কোনো নামায নেই। এ সময় আল্লাহর রাসুল (সা.) কোনো নামাজ পড়েছেন- এরকম স্পষ্ট কোনো সহিহ বর্ণনা নেই। সহিহ বর্ণনা অনুযায়ী খোলাফায়ে রাশেদিনও এ সময় কোনো নামাজ পড়তেন না। অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামও সাধারণত এ সময় নামাজ পড়তেন না।

এক বর্ণনায় এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-কে মাগরিবের ফরজের পূর্বে দুই রাকাত নামাজ পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর যুগে কাউকে উক্ত নামায পড়তে  দেখিনি। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১২৮৭)

সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব রাহ.-এর এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, ‘মুহাজির সাহাবিগণ মাগরিবের আগে দুই রাকাত নামাজ পড়তেন না, আর আনসার সাহাবিগণ তা পড়তেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, বর্ণনা : ৩৯৮৪)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.) বলেন- ‘আমি সাদ ইবনে আবি ওয়াককাস রা. ছাড়া আর কোনো ফকিহকে মাগরিবের আগে নামাজ পড়তে দেখিনি।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, বর্ণনা : ৭৪৬৪)

ইবরাহীম নাখায়ি (রহ.) বলেন, ‘আবু বকর, উমর ও উসমান রা. মাগরিবের পূর্বে দুই রাকাত নামাজ পড়তেন না। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা : ৩৯৮৫)

হাম্মাদ বিন আবি সুলাইমান (রহ.) বলেন- আমি ইবরাহিম নাখায়ি (রহ.)-কে মাগরিবের পূর্বে নফল নামাজ পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে তা পড়তে নিষেধ করলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াসাল্লাম, আবু বকর, উমর রা. এই নামায পড়তেন না। (কিতাবুল আছার : ১/১৬৩)

সুফিয়ান ছাওরি (রহ.) বলেন, আমার মতও ইবরাহীম নাখায়ির মতই। (সুনানে বায়হাকি : ২/৪৭৬)

সুতরাং খোলাফায়ে রাশেদিনসহ সাহাবা এবং তাবেয়িদের অনেকেই যেহেতু এ সময় নফল পড়তেন না এবং এ সময় নফল নামাজের বিশেষ কোনো ফযিলতও হাদিসে বর্ণিত নেই। অন্যদিকে আজানের পর বিলম্ব না করে দ্রুত মাগরিব পড়ার কথা অন্যান্য হাদিসে এসেছে। তাই এসব বিষয়ের উপর ভিত্তি করে হানাফি, মালেকি ও হাম্বলি মাজহাবের ফকিহগণ উক্ত দুই রাকাত নফল নামাজকে সুন্নত বা মুস্তাহাব পর্যায়ের আমল হিসেবে গণ্য করেননি। হানাফি মাজহাবের পূর্ববর্তী ফকিহগণের মতে এ সময় নামাজ পড়া মাকরূহে তানযিহী তথা অনুত্তম। মালেকি মাজহাবের ফকিহগণও এ সময় নামায পড়াকে মাকরূহ বলেছেন। হাম্বলি মাজহাবের কোনো কোনো ফকিহ থেকেও এমনটি বর্ণিত আছে।

তবে মনে রাখতে হবে, এটি একটি শাখাগত মাসআলা। এতে ভিন্ন মতও রয়েছে। কোনো কোনো সাহাবি এ সময় নামাজি পড়েছেন- এটিও প্রমাণিত আছে। তাই অন্য মাযহাবের কাউকে এ সময় নামায পড়তে দেখলে আপত্তি করা ঠিক নয়।

তথ্যসূত্র : আলমাবসূত, সারাখসি : ১/১৫৭, ১৭৫; তুহফাতুল মুলূক পৃষ্ঠা : ৫৯; আলইখতিয়ার : ১/৪১; তাবয়িনুল হাকায়েক : ১/৮৭; আশশারহুল কাবির, দরদের ১/১৮৭;  হাশিয়াতুশ শিলবী ১/১৮১; হাশিয়াতুস সাবি আলাশ শারহিস সাগির : ১/৯০; আল-ইনসাফ, মারদাবি : ১/৪২২; ইলাউস সুনান : ২/৬৮

Link copied