শিশুর জেদ ও দুষ্টামি দূর করার দোয়া

Dhaka Post Desk

ধর্ম ডেস্ক

২৬ মে ২০২১, ০১:৫৪ পিএম


শিশুর জেদ ও দুষ্টামি দূর করার দোয়া

প্রতীকী ছবি

জেদ বলতে একরোখা ভাব। কোনো কিছু নিয়ে একরোখা হওয়া কিংবা জেদ করা— অনেক শিশুরই বিশেষ বৈশিষ্ট্য। কোনো কিছু চাইলে, সেটা দিতেই হবে। যেকোনো কিছুতেই চেঁচামেচি করা, জিনিসপত্র নষ্ট করা— ইত্যাদি যেন তাদের জেদেরই বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু শিশুদের জেদ কেন হয়— এটা অনেকের প্রশ্ন।

সাধারণত জেদ হলো— জন্মগতভাবে পাওয়া বৈশিষ্ট্য। পাশাপাশি এটি চারপাশের পরিবেশের প্রভাবেই বিকশিত হতে থাকে শিশুর মনের গঠনও বটে। অর্থাৎ, তার সঙ্গে আমাদের আচরণ কেমন হচ্ছে, তার কোনো ব্যবহার বা আচরণ আমাদের মাধ্যমে অজান্তে উৎসাহ পাচ্ছে কিনা, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে তার মেলামেশা, চারপাশে সে কী দেখে বড় হচ্ছে ইত্যাদি নানা কিছুই প্রভাব ফেলে তার মনে। এরই প্রতিফলন দেখি শিশুর আচরণে।

Dhaka Post

শিশুর জেদ তাড়াতে যা করতে পারেন

মনোবিজ্ঞানের একটা নিয়ম হলো, সন্তানের যেসব আচরণে মা-বাবা মনোযোগ দেবেন, সেসব আচরণ সে বারবার করবে। এই মনোযোগ যেমন আমরা আদর বা প্রশংসা করা, দাবি পূরণ করার মাধ্যমে দিতে পারি, তেমনি ‘বকা দেওয়া’, ‘বোঝানো’র মাধ্যমেও হতে পারে। কিন্তু কোনো কিছু কেনার জন্য জেদ করলে, সেটা কিনে দিলে  জেদ করার প্রবণতা আরও বাড়বে।

Dhaka Post

তাহলে একরোখা বা জেদী শিশুদের সামলাতে কী করা উচিত? শিশু যখন জেদ করে সবার সামনে কান্নাকাটি করতে বা গড়াগড়ি দিতে থাকবে, তখন তার দাবি না মেটালে সামলাবেন কীভাবে? অথবা জেদ করে যখন না খেয়ে থাকবে, তখন তার ইচ্ছা পূরণ না করেই বা উপায় কী? এই ব্যাপারে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ রয়েছে। সেগুলো অনুযায়ী চেষ্টা করা যেতে পারে। এছাড়াও একটা আমলের কথা বিভিন্ন উলামায়ে কিরাম বলেছেন, শিশুর জেদ দূর করতে দোয়াটি পড়তে পারেন।

শিশুর জেদ দূর করার দোয়া

أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ

উচ্চারণ: আফাগাইরা দ্বি-নিল্লাহি ইয়াবগুন, ওয়ালাহু আসলামা মান ফিস্-সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ব, তাউআং ওয়া কারহাং; ওয়া ইলাইহি ইয়ুরজাঊন।

অর্থ : ‘তারা কি আল্লাহর দেওয়া জীবন ব্যবস্থার পরিবর্তে অন্য জীবন ব্যবস্থা তালাশ করছে? নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে— স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক তার অনুগত হবে। সবাই তার কাছে ফিরে যাবে।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৮৩)

ফজিলত ও হাদিস : যে ব্যক্তির সন্তান বা প্রাণী তাকে কষ্ট দেয়, সে যেন তার কানে সূরা আল ইমরানের ৮৩ নং আয়াত পড়ে। (আল-মুজামুল আউসাত লিত্ তাবারানি, হাদিস : ৬৪)

Dhaka Post

শিশুর জেদ দূর করার আমল

সন্তানের অতিরিক্ত জেদ থাকলে, কথা না শোনলে, কথা না মানলে প্রতিদিন ৭ বার সন্তানের কপালের উপরিভাগের চুলে হাত রেখে এ আয়াতখানা পাঠ করে তার চেহারা ও কানে ফুঁ দিলে— জেদ কমে আসে। এ আমল নূন্যতম ২১ দিন লাগাতার করতে হয়।

এছাড়াও সুতরাং শিশুর কোনো আচরণ পছন্দ না হলে— সম্পূর্ণ উপেক্ষা করুন। অর্থাৎ, বাচ্চা জেদ করলে তাকে বকা দেওয়া, বোঝানো, দাবি পূরণ করা, তাকে কটাক্ষ করা ইত্যাদি থেকে নিজেকে বিরত রাখুন এবং সম্পূর্ণ উপেক্ষা করুন। ধৈর্য ধরে দৃঢ়তার সঙ্গে ক্রমাগত যেকোনো জেদে এমন আচরণ করতে পারলে শিশু বুঝে যাবে যে জেদ করে কোনো কিছু আদায় করা যায় না। ছোটখাটো জেদকে প্রশ্রয় না দিয়ে এ অভ্যাসটি শুরু করুন ঘর থেকেই। (প্রথম আলো; ২৫ নভেম্বর, ২০১৫)
Link copied