মানুষ কি ফেরেশতাকে দেখতে পারে?

ফেরেশতা আল্লাহ তায়ালার বিস্ময়কর সৃষ্টি। ইসলামী বিশ্বাস মতে, আল্লাহর নির্দেশে লোকচক্ষুর আড়ালে তারা বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত। হাদিসে ফেরেশতাদের বিস্ময়কর জীবনযাপন নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। আল্লাহ তায়ালার বার্তা নিয়ে নবী-রাসুলদের কাছে অসংখ্যবার আগমন করেছেন জিবরাঈল (আ.)-সহ বিভিন্ন ফেরেশতা।
নবীদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষেও ফেরশতার সাক্ষাৎ লাভ সম্ভব। পবিত্র কোরআন থেকেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হজরত মারইয়াম (আ.), লুত (আ.) ও ঈসা (আ.)-এর ঘটনা থেকে বিষয়টি প্রমাণিত।
আল্লাহ তায়ালা হজরত মারইয়াম (আ.)-এর কাছে মানুষের আকৃতিতে জিবরাইল (আ.)-কে পাঠিয়েছিলেন। কোরআনের বর্ণনা থেকে জানা যায়, তিনি মারইয়ামের সামনে একজন পরিপূর্ণ মানুষের রূপে উপস্থিত হন।
একইভাবে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কাছেও ফেরেশতারা মানুষের বেশে উপস্থিত হয়েছিলেন। শুরুতে তিনি বুঝতেই পারেননি যে, তারা ফেরেশতা। পরে ফেরেশতারাই নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেন। কোরআনে এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এসেছে।
হজরত লুত (আ.)-এর কাছেও ফেরেশতারা সুদর্শন যুবকের আকৃতিতে এসেছিলেন। তাদের দেখে লুত (আ.) উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, কারণ তার সম্প্রদায় নৈতিকভাবে অধঃপতিত ছিল। কোরআনে ঘটনার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোরআনের বর্ণনার প্রেক্ষিতে আলেমদের মতামত হলো— মানুষের পক্ষে ফেরেশতাকে দেখা সম্ভব। জাগ্রত এবং ঘুমন্ত উভয় অবস্থায় ফেরেশতাদের দেখা সম্ভব। তবে জাগ্রত অবস্থায় হোক বা স্বপ্নে, নিশ্চিতভাবে এ দাবি করার সুযোগ নেই যে, তিনি ফেরেশতাকেই দেখেছেন। কারণ, ফেরেশতা হিসেবে কোনো সত্তাকে শনাক্ত করার বিষয়টি আল্লাহ তায়ালার ওহীর ওপর নির্ভরশীল। এমনকি ইব্রাহিম ও লুত (আ.)-এর মতো নবীরাও শুরুতে ফেরেশতাদের চিনতে পারেননি। সুতরাং সাধারণ মানুষের পক্ষে নিশ্চিতভাবে তা নির্ণয় করা অসম্ভব হিসেবেই গণ্য।
সূত্র : ইসলাম ওয়েব
এনটি