আজওয়া খেজুর কালো হয় কেন?

আজওয়া খেজুরের প্রতি মুসলিমদের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। সহিহ হাদিসে যাদু ও বিষের ক্ষতি থেকে রক্ষার কথা উল্লেখ থাকায় অনেকেই একে অলৌকিক গুণসম্পন্ন খাদ্য মনে করেন। আজওয়া খেজুরের সঙ্গে বিস্ময়কর এক ইতিহাস জড়িয়ে আছে।
হজরত সালমান ফারসী (রা.) পারস্য থেকে মদিনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণ করার প্রাথমিক দিনগুলোতে তিনি দাস ছিলেন। দাসত্বের কারণে তিনি বদর ও উহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তিনি একজন ইহুদির দাস ছিলেন। দাস জীবন থেকে মুক্তির জন্য সালমান ফারসী (রা.)-কে ইহুদি দুটি কঠিন শর্ত দিয়েছিলেন। শর্ত দুটি পূরণ করতে পারলে সালমান ফারসি (রা.)-কে মুক্তি দেওয়া হবে। শর্ত দুটি হলো—
১.অল্প কয়েক দিনের মধ্যে নগদ ৬০০ দিনার ইহুদিকে দিতে হবে এবং ২. অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ৩০টি খেজুর গাছ রোপন করে তাতে খেজুর ধরে পাকতে হবে। তবেই সালমান ফারসি (রা.)-কে মুক্তি দেওয়া হবে।

এই শর্তটি পূর্ণ করা প্রায় সম্পূর্ণ অসম্ভব ব্যাপার। বিষয়টি নবীজি (সা.) অবগত হলে তিনি প্রথমে ৬০০ দিনারের ব্যবস্থা করলেন। তারপর হজরত আলী (রা.)-কে সঙ্গে নিয়ে ইহুদির কাছে গেলেন। ইহুদি এক কাঁদি খেজুর দিয়ে বলল, এই খেজুর থেকে চারা উৎপন্ন করে তাতে ফল ফলাতে হবে। রাসুল (স.) দেখলেন যে, ইতোমধ্যে খেজুরগুলো আগুনে পুড়িয়ে কয়লা করে ফেলেছে সে, যাতে চারা না গজায়।
রাসুল (সা.) খেজুরের কাঁদি হাতে নিয়ে আলী (রা.)-কে গর্ত করতে বললেন আর সালমান ফারসিকে বললেন পানি আনতে। আলী (রা.) গর্ত করলে রাসুল (সা.) নিজ হাতে প্রতিটি গর্তে সেই পোড়া খেজুর রোপন করলেন।
বাগানের একদিক থেকে পোড়া কালো দানা রোপণ করতে করতে বাগানের শেষ পর্যন্ত গেলেন। রাসুল (স.) সালমান ফারসিকে এ নির্দেশ দিলেন যে, বাগানের শেষ প্রান্তে না যাওয়া পর্যন্ত তুমি পেছন ফিরে তাকাবে না। সালমান ফারসি পেছনে না তাকিয়ে পানি দিতে লাগলেন। বাগানের শেষ প্রান্তে যাওয়ার পর তিনি তাকিয়ে দেখলেন যে প্রতিটি গাছ খেজুরে পরিপূর্ণ।
আল্লাহর অশেষ মহিমায় সেই পোড়া খেজুর থেকে চারা গজালো। আর খেজুরগুলো পেকে কালো বর্ণ হয়ে গেল। কারণ, এই খেজুরের দানাগুলো ছিলো আগুনে পোড়া কয়লার মতো কালো। তাই এর স্বাদও অনেকটা পোড়া পোড়া। গন্ধও তাই। এই খেজুর পৃথিবীর সবচেয়ে দামি খেজুর। আর স্বাদের দিক দিয়েও সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু।
এনটি