রমজানের আগে নিজেকে গুছিয়ে নিন ৫ উপায়ে

এগিয়ে আসছে রমজানের দিনক্ষণ। মুসলমানদের মনে বাড়ছে এক অন্যরকম প্রত্যাশা। প্রতিটি রমজান আসে আত্মশুদ্ধি ও নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান নিয়ে।
কোনো বিশেষ অতিথি যদি আপনার ঘরে আসে, তাহলে আপনি নিশ্চয়ই ঘর গুছিয়ে নেবেন, আপ্যায়নের ব্যবস্থা করবেন, পরিবারের সবাইকে প্রস্তুত করবেন। রমজানও তেমনই এক বিশেষ অতিথি। তবে সে আমাদের ঘরে নয়, আসে আমাদের হৃদয়ে। তাই ঘরের মতোই হৃদয়কেও প্রস্তুত করা জরুরি।
রমজানের আগে আত্মিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো।
১. নিয়ত শুদ্ধ করা
ইসলামে নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। আপনি কী করলেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কেন করলেন এবং কার জন্য করলেন। রমজানের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে নিজের নিয়তগুলো নতুন করে যাচাই করুন। রোজা কেন ফরজ করা হয়েছে, তা স্মরণ করুন।
কোরআনে বলা হয়েছে, হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩)।
এই আয়াত আমাদের জানিয়ে দেয়, রমজানের মূল লক্ষ্য তাকওয়া অর্জন। তাকওয়া মানে আল্লাহভীতি ও আল্লাহ সচেতনতা।
কোরআনে আরও বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান সেই ব্যক্তি, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান। (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১৩)।
তাই রমজানের আগে নিজের নিয়ত পরিষ্কার করুন, দৃঢ় করুন এবং প্রতিদিন নতুন করে তা ঝালাই করুন।
২. কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা
রমজান কোরআনের মাস। তাই রমজান এলে কোরআন খুলব, এই মানসিকতা বাদ দিতে হবে। আজ থেকেই কোরআন তিলাওয়াত শুরু করুন।
৩. রোজা ও দোয়ার চর্চা
রমজানে রোজা ফরজ হলেও তার আগের মাস শাবানে নফল রোজা রাখা সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ। এটি নফসকে নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ এক মাসের প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করে।
দোয়া হলো ইবাদতের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম। এর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বা অজুর বাধ্যবাধকতা নেই। যে কোনো সময়, যে কোনো স্থানে অন্তর থেকে আল্লাহকে ডাকলেই দোয়া হয়ে যায়।
দোয়া শুধু নিজের জন্য নয়; পরিবার, সমাজ ও পুরো উম্মাহর জন্য করুন। রমজান থেকে আত্মিকভাবে উপকৃত হওয়ার নিয়তে দোয়া করুন।
৪. নামাজে মনোযোগ বাড়ানো
কিয়ামতের দিন প্রথম যে প্রশ্নটি করা হবে, তা নামাজ নিয়ে। এই কথাটিই নামাজের গুরুত্ব বোঝাতে যথেষ্ট। নামাজ ঠিক না হলে ঈমানও ঝুঁকির মুখে পড়ে।
এখন থেকেই নামাজে মনোযোগ বাড়াতে পারলে, রমজানে অতিরিক্ত নফল নামাজ আদায় করা সহজ হবে।
৫. আচার-আচরণ ও চরিত্রের দিকে নজর
ইসলামী শিষ্টাচার বা আদব, এই বিষয়টি অনেক সময় অবহেলিত হয়। অথচ আচরণ খারাপ হলে রোজার আসল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়।
রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা, মন্দ কাজ ও কটু ভাষা ত্যাগ করে না, তার খাবার ও পানাহার ত্যাগের কোনো প্রয়োজন আল্লাহর নেই (বুখারি)।
আজ থেকেই নিজের চরিত্রের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করুন। রাগ নিয়ন্ত্রণ, ভাষা সংযত রাখা, মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ এসব বিষয়ে নবীজির জীবন পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চান।
এনটি