যে ৪ উপায়ে রমজানের প্রস্তুতি নিতেন সাহাবিরা

রমজানের প্রস্তুতি বলতে আমরা সাধারণত বাজারঘাট বা ইফতারের আয়োজন বুঝি। তবে সাহাবিদের রমজানের প্রস্তুতির ধরণ ছিল একেবারেই ভিন্ন। তাদের কাছে এই মাসটি ছিল মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ সুযোগ।
১. ছয় মাস আগে থেকেই শুরু হতো ব্যাকুলতা
সাহাবিদের জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। প্রখ্যাত তাবেয়ি মুয়াল্লা বিন ফজল বলেন, সাহাবায়ে কেরাম বছরের ছয় মাস আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যেন তিনি তাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। আর রমজান শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পাঁচ মাস দোয়া করতেন যেন আল্লাহ তাদের আমলগুলো কবুল করে নেন।
অর্থাৎ, তাদের পুরো বছরটিই আবর্তিত হতো রমজানকে কেন্দ্র করে।
২. শাবান মাস : কোরআন পাঠের মহড়া
সাহাবিরা রমজানের মূল আমল অর্থাৎ কোরআন তিলাওয়াতের প্রস্তুতি নিতেন শাবান মাস থেকেই। যখন শাবান মাস শুরু হতো আমর বিন কাইস (রহ.) তখন নিজের ব্যবসা বন্ধ করে দিতেন এবং পূর্ণ সময় কোরআনের জন্য বরাদ্দ করতেন।
তারা বলতেন, শাবান হলো তিলাওয়াতকারীদের মাস। যেন রমজানের দীর্ঘ তিলাওয়াত তাদের কাছে ক্লান্তি নয়, বরং প্রশান্তি হয়ে ধরা দেয়।
৩. পাপমুক্তির মানসিক প্রস্তুতি
সাহাবিরা বিশ্বাস করতেন যে, গুনাহ মানুষের অন্তরকে শক্ত করে দেয় এবং ইবাদতের স্বাদ কমিয়ে দেয়। তাই রমজানের আগেই তারা তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিজেদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে নিতেন। যেন রমজানের প্রথম রাতেই তারা আল্লাহর বিশেষ রহমত পাওয়ার উপযুক্ত হতে পারেন।
৪. দান-সদকার অভ্যাস
রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল হতেন। সাহাবিরাও এই সুন্নাহর অনুসরণে রমজানের আগে থেকেই নিজেদের হাতকে অবারিত করতেন। অন্যের দুঃখ মোচনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি খোঁজার এই মানসিকতা তাদের রমজানকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলত।
সাহাবিদের রমজান থেকে আমাদের শিক্ষা
সাহাবিদের অনুসরণ করে আমরাও কিছু পদক্ষেপ নিতে পারি :
মানসিক সংকল্প : আজ থেকেই মনে মনে সিদ্ধান্ত নেওয়া যে, এই রমজান হবে আমার জীবনের সেরা রমজান।
কো রআনের সাথে সখ্যতা : তিলাওয়াতের অভ্যাস এখনই শুরু করা।
অপ্রয়োজনীয় কাজ বর্জন : সোশ্যাল মিডিয়া বা আড্ডার সময় কমিয়ে ইবাদতের জন্য সময় বের করা।
সাহাবিদের একাগ্রতা এবং ব্যাকুলতা যদি আমাদের মাঝে সামান্যতমও আসে, তবেই আমাদের সিয়াম সাধনা সার্থক হবে।
