কাজা নামাজ আদায়ের নির্দিষ্ট কোনো সময় আছে?

প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করা পবিত্র কোরআনের বিধান। যত ব্যস্ততাই থাক না কেন, সময়মতো নামাজ আদায়ের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নামাজ মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ।’ (সুরা নিসা, আয়াত, ১০৩)
তাই কোনো ধরনের ওজর বা অপারগতা ছাড়া সময় চলে যাওয়ার পর নামাজ আদায় করা জায়েজ নেই। কেউ ইচ্ছাকৃত সময়মতো নামাজ আদায় না করলে, তাকে গুনাহগার হতে হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৯৬)
তবে নিতান্ত ভুলবশত, অপারগ হয়ে কিংবা বিশেষ কারণে কোনো ওয়াক্তের নামাজ আদায় করতে না পারলে পরবর্তী সময়ে এই নামাজ আদায় করে দিতে হয়। আর এই নামাজ আদায়কে কাজা নামাজ বলা হয়। ফরজ কিংবা ওয়াজিব নামাজ ছুটে গেলে, সে নামাজের কাজা আদায় করা আবশ্যক।
কোনো নামাজ কাজা হয়ে গেলে দ্রুত কাজা আদায় করা উচিত। দিন রাতের যেকোনো সময় কাজা নামাজ আদায় করা যায়। তবে নামাজ আদায়ের যে তিনটি মাকরূহ সময় আছে এই সময়গুলোতে কাজা আদায় করা যাবে না।
নামাজ আদায়ের মাকরূহ সময়গুলো হলো—
- সূর্যোদয়ের সময় থেকে ইশরাকের সময় হওয়া পর্যন্ত।
- সূর্য ঠিক মাথার উপর অবস্থানকালে (অর্থাৎ মধ্যাহ্নকাল; সতর্কতাবশত এর প্রায় পাঁচ মিনিট আগে ও পাঁচ মিনিট পরে মোটামুটি দশ মিনিট)।
- সূর্যাস্তের পূর্বে যখন সূর্য হলদেটে হয়ে যায় সে সময় থেকে সূর্য সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়া পর্যন্ত।
এ সময়গুলো ছাড়া অন্য যেকোনো সময়ে কাজা নামাজ পড়া বৈধ।
তবে আসরের নামাজের পর এবং ফজরের নামাজের পর, আবার সুবহে সাদিক হওয়ার পর ফজরের ফরজ নামাজের আগে লোকজনের সামনে কাজা নামাজ আদায় করা উচিত নয়।
যদি এসব সময়ে কাজা নামাজ আদায় করতেই হয়, তবে এমন স্থানে আদায় করবে যেখানে মানুষ দেখতে না পায়। কারণ, এসব সময়ে নফল নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ; আর কাজা নামাজ প্রকাশ্যে আদায় করলে নিজের গুনাহ প্রকাশ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
এনটি