বদর যুদ্ধে বিজয়ের মধ্যেই যে দুঃসংবাদ পেয়েছিলেন সাহাবিরা

হিজরি ক্যালেন্ডারের পাতায় ১৭ রমজান এক অনন্য গুরুত্ববহ দিন। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটি ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ বা সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের দিন হিসেবে পরিচিত। এদিন একদিকে যেমন বদরের প্রান্তরে মুসলিম উম্মাহর কৌশলগত বিজয় নিশ্চিত হয়েছিল, তেমনি ইতিহাসে এই তারিখটি সাক্ষী হয়ে আছে শোক এবং রাজনৈতিক উত্থান-পতনেরও।
বদর যুদ্ধ: মক্কার অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভাঙার লড়াই
২ হিজরির (৬২৪ খ্রিস্টাব্দ) এই দিনে বদরের প্রান্তরে সংঘটিত যুদ্ধটি শুধু একটি কাফেলা আটকের লড়াই ছিল না। এটি ছিল মক্কায় মুহাজিরদের ফেলে আসা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রতিবাদে একটি ‘অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার’ অভিযান। নবীজীর (সা.) লক্ষ্য ছিল মক্কার বাণিজ্যিক পথ রুদ্ধ করে তাদের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
এই যুদ্ধে সাহাবী হুবাব বিন মুনজিরের (রা.) পরামর্শে পানির কূপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং সাদ বিন মুয়াজের (রা.) পরামর্শে কমান্ড সেন্টার বা ‘আঁশ-শাজারাহ’ নির্মাণ করা ছিল যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া কৌশল। আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা অদৃশ্য সাহায্য এবং সাহাবীদের অটল মনোবল কুরাইশদের অহংকার চূর্ণ করে দেয়।
নবী-নন্দিনী রুকাইয়াহ’র (রা.) বিদায়
বদর যুদ্ধের বিজয়ের খবরে যখন মদিনাবাসী উদ্বেলিত, ঠিক তখনই সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। এদিন ইন্তেকাল করেন আল্লাহর রাসুলের (সা.) কন্যা হযরত রুকাইয়াহ (রা.)। নবীজীর নির্দেশে তার স্বামী উসমান ইবনে আফফান (রা.) বদরে না গিয়ে স্ত্রীর সেবাশুশ্রূষায় মদিনায় অবস্থান করেছিলেন।
বিজয়ীর বেশে নবীজী (সা.) মদিনায় ফেরার আগেই ‘দুই হিজরতের অধিকারিণী’ এই মহীয়সী নারীকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।
জেরুজালেম ও খেলাফতের দ্বন্দ্বে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন
৪৯০ হিজরির (১০৯৭ খ্রিস্টাব্দ) ১৭ রমজান জেরুজালেম বা পবিত্র কুদস এক বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়। তৎকালীন বাগদাদের আব্বাসীয় খেলাফত এবং কায়রোর ফাতিমীয় খেলাফতের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে কুদস ছিল মূল কেন্দ্রবিন্দু।
সেলজুক তুর্কিদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ফাতিমীয় উজির আল-আফদাল শাহানশাহ জেরুজালেম দখল করেন। দীর্ঘ বিরতির পর আল-আকসা মসজিদে আবারও ফাতিমীয় খলিফা ‘আল-মুস্তালি বিল্লাহ’-র নামে খুতবা পাঠ শুরু হয়।
তবে ঐতিহাসিকদের মতে, এই বিজয় ছিল আদতে একটি ‘কৌশলগত পরাজয়’। কারণ, অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল মুসলিম শক্তিকে এতটাই দুর্বল করে দিয়েছিল যে, এর মাত্র দুই বছরের মাথায় ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করে নেয় এবং আল-আকসার চত্বরে ইতিহাসের বর্বরোচিত গণহত্যা চালায়।
সুলতান বাইবার্স জাশনাকিরের পদত্যাগ
৭১০ হিজরির এই দিনে (১৩১০ খ্রিস্টাব্দ) মিশরের মামলুক সুলতান বাইবার্স আল-জাশনাকিরের শাসনের অবসান ঘটে। তার শাসনকাল ছিল মাত্র দেড় বছরের। সুলতান নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউনের অনুপস্থিতিতে তিনি ক্ষমতায় বসলেও জনপ্রিয় হতে পারেননি। কাকতালীয়ভাবে তার শাসনামলে নীল নদের পানির স্তর কমে যায় এবং দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। মানুষ তাকে ‘অশুভ’ হিসেবে গণ্য করতে শুরু করে। তীব্র গণ-অসন্তোষের মুখে এদিন তিনি ক্ষমতা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এনটি