অস্ট্রেলিয়ায় ইফতারে বৈচিত্র্যময় খাবারের গল্প

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ খেলছে। অস্ট্রেলিয়ায় এবার এশিয়া কাপের সূচি পড়েছে রমজানের মধ্যে। বাংলাদেশ থেকে টুর্নামেন্ট কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিক ও ফুটবলসংশ্লিষ্টদের ইফতার নিয়ে খানিকটা চিন্তা ছিল। তবে সিডনি, পার্থ সর্বত্র ইফতারের দারুণ ব্যবস্থাপনায় রীতিমতো মুগ্ধতার রেশ।
বিজ্ঞাপন
বিশাল বড় দেশ অস্ট্রেলিয়ার বড় রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলস। এই প্রদেশের রাজধানী সিডনি। বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবস্থান সিডনিতেই সর্বোচ্চ। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সিডনি পৌঁছাই। পরের দিন ইফতার করতে লাকাম্বার মসজিদে নিয়ে যান সাবেক সহকর্মী ও সিডনি প্রবাসী ইদ্রিস আলী। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মসজিদে বেশ সুন্দর করে সাজানো ইফতার। ফল, পানি ও শরবত দিয়ে ইফতার সারেন সবাই।
ইফতারের পর মাগরিবের নামাজ আদায় হয়। মাগরিবের নামাজের পরই যখন মসজিদ থেকে বের হব, তখন অন্যরা বলে বসেন,‘ ইফতার পরবর্তী খাবার এখনই পরিবেশন করা হবে।’ নামাজের পরপরই আবার দস্তরখানা বিছানো শুরু হয়। পোলাও, মাংসের ডিশ আসছে একের পর এক। প্রায় একশ জন বেশ তৃপ্তি নিয়েই ইফতার ও ডিনার করলেন।
বিজ্ঞাপন
পেশাগত ব্যস্ততায় পরবর্তী কয়েক দিন অন্যত্র ইফতার করতে হয়েছে। আবার কিছু দিন পর সেই মসজিদে ইফতার করতে যাওয়া। এবার একটু ভিন্নতা। ইফতারের শুরুতেই হালিম ও রুটি। ইফতার শেষে দস্তরখানা উঠিয়ে আবার নামাজ উপযোগী পরিবেশ। নামাজ শেষে আবার খাবার আয়োজন।

৬ মার্চ সিডনিতে বাংলাদেশ-উত্তর কোরিয়া ম্যাচ কাভার করে পরের দিন পার্থ রওনা হই। পার্থে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু ফয়সালের মাধ্যমে ১০ মার্চ আরেকটি ব্যতিক্রম ইফতারের অভিজ্ঞতা হয়। পার্থের কানিংভ্যালিতে সপরিবারে থাকে ফয়সাল। তার সঙ্গে এক পাকিস্তানী পরিবারও থাকেন। ১০ মার্চ দুই পরিবার সিদ্ধান্ত নেয় আধ ঘন্টা দূরত্বে বাইরে ইফতার করার। আমিও সঙ্গী হই। প্রায় ২০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে যাওয়া হয়। ইফতারের সময় নিকটবর্তী হওয়ায় রেস্টুরেন্টের সামনে লাইন ছিল। ফল,মুড়ি, মিস্টি, শরবত খুব দ্রুত প্রদান করায় লাইনে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে হয়নি।
ইফতার নিয়ে কেউ রেস্টুরেন্টের ভেতরে আবার কেউ বাইরে ইফতার করছিলেন। এই খাবারগুলো যখন শেষ তখন রেস্টুরেন্ট থেকে আবার ডাক,‘ খিচুড়ি, বিরিয়ানি।’ এরপর আবার লাইনে সবাই। রেস্টুরেন্টের ভেতর থেকে জন পাচেক লোক একের পর এক প্লেট দিচ্ছেন। পার্থের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের অনেকেই পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে বাইরে ইফতার উদযাপন করতে এই রেস্টুরেন্ট বেছে নেন। বাংলাদেশি প্রবাসীদের তথ্য মতে, এই রেস্টুরেন্টের মালিক পাকিস্তানী ব্যবসায়ী। তিনি প্রতি বছর রমজানে রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন কয়েক হাজার ডলার খরচ করেন ইফতারে।
বিজ্ঞাপন

পার্থ থেকে মেলবোর্ন হয়ে আবার সিডনি ফিরি। এবার সিডনির আরেকটি মসজিদে ইফতারের অভিজ্ঞতা হয়। সিডনির লাকাম্বায় দারুল ইমাম মসজিদের ইফতার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। নিচতলায় নামাজের স্থান, দ্বিতীয় তলায় ইফতারের ব্যবস্থা। দস্তরখানা বিছিয়ে বড় এক প্লেটে আস্ত চিকেন ও পোলাও। দস্তরখানার দুই পাশে দুই জন এক প্লেটে ইফতার করে। বাংলাদেশে বড় কোনো অনুষ্ঠানে একজনের জন্য পর্যাপ্ত যেমন খাবার তার চেয়েও বেশি খাবার থাকে সিডনির লাকাম্বার ইফতার আয়োজনে। খাওয়ার পর কারো ভাত, ঝোল ও মাংস লাগলে পুনরায় দেওয়া হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় মসজিদে রমজানে বিনামূল্যে ইফতার প্রদান করা হয়। বেশ উন্নত ও ভালো মানের ইফতার গ্রহণ করেন মুসলিম ধর্মপ্রাণরা। প্রতি নামাজের ওয়াক্তের পর দান করা হয়। সারা বছরের দানের অংশ ও মসজিদ কমিটির ব্যবস্থায় এমন ইফতার আয়োজন হয়। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, লেবানিজসহ আরও অনেক মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকরা মিলে মসজিদ পরিচালনা ও ইফতার ব্যবস্থাপনা করেন।
মসজিদ ও রেস্টুরেন্টে বিনামূল্যে ইফতার ছাড়াও রয়েছে ইফতার বাজার। বিশেষ করে সিডনির লাকাম্বায় ইফতারের পসরা বসে৷ বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় বাংলাদেশের মতো থাকে ভাজাপোড়া খাবার আবার তার্কিশ কাবাবসহ নানা আইটেম। মুসলিম ছাড়াও খাবার প্রিয় মানুষরা লাকাম্বার ইফতার ক্রয় করে উপভোগ করেন।
এজেড/এনটি