বিজ্ঞাপন

শাওয়াল ও আইয়ামে বিজের রোজা একসঙ্গে রাখা যাবে?

অ+
অ-
শাওয়াল ও আইয়ামে বিজের রোজা একসঙ্গে রাখা যাবে?

রমজান পরবর্তী শাওয়াল মাসের ছয় রোজা নিয়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে প্রতি বছরই বেশ আগ্রহ দেখা যায়। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, শাওয়ালের এই নফল রোজার সঙ্গে প্রতি আরবি মাসের তিন রোজা বা আইয়ামে বিজের (হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) একসঙ্গে মিলিয়ে রাখলে যাবে কিনা এবং রাখলে সওয়াব পাওয়া সম্ভব কিনা। অর্থাৎ, শাওয়ালের রোজার নিয়ত করলে কি আইয়ামে বিজের সওয়াবও আমলনামায় যুক্ত হবে?

বিজ্ঞাপন

এক নিয়তে দুই সওয়াব

সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেম শায়খ বিন বাজ (রহ.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রখ্যাত আলেম ও গবেষক শায়খ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ জানান, কেউ যদি শাওয়ালের ছয় রোজার মধ্যে তিনটি রোজা আইয়ামে বিজের দিনগুলোতে (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) পালন করেন, তবে ইনশাআল্লাহ তিনি উভয় রোজার সওয়াবই লাভ করবেন। কারণ ওই দিনগুলোতে রোজা রাখার মাধ্যমে একদিকে যেমন শাওয়ালের নির্দেশ পালন হচ্ছে, তেমনি মাসের নির্দিষ্ট তিন দিনের রোজার সুন্নতও আদায় হচ্ছে। আল্লাহর রহমত প্রশস্ত, তাই তিনি বান্দাকে উভয় নেকিই দান করতে পারেন।

শায়খ ইবনে উসাইমীনের ব্যাখ্যা

বিজ্ঞাপন

একই বিষয়ে প্রখ্যাত ফকিহ শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.) আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি কেউ শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখেন, তবে তার জন্য ওই মাসে আলাদা করে আইয়ামে বিজের রোজা রাখার প্রয়োজন নেই। আর কেউ ওই তিন দিনের সঙ্গে শাওয়ালের রোজা মিলিয়ে রাখলে বা মাসের অন্য যেকোনো সময় ছয় রোজা পূর্ণ করলেও মাসে তিন দিন রোজা রাখার সাধারণ সুন্নত আদায় হয়ে যাবে।

এর সপক্ষে তিনি উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.)-এর একটি বর্ণনা তুলে ধরেন। আয়েশা (রা.) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতেন। তবে তিনি মাসের শুরুতে, মাঝে নাকি শেষে রোজা রাখছেন, তা নিয়ে চিন্তিত হতেন না। অর্থাৎ মাসের যেকোনো সময় তিন রোজা রাখলেই আইয়ামে বিজের উদ্দেশ্য সফল হয়।

বিজ্ঞাপন

মসজিদে প্রবেশের নামাজের সাথে তুলনা

বিষয়টিকে আরও সহজভাবে বোঝাতে তিনি তাহিয়্যাতুল মসজিদের উদাহরণের কথা বলেন। মসজিদে প্রবেশ করে কেউ যদি সরাসরি ফরজ বা অন্য কোনো সুন্নত নামাজ শুরু করেন, তবে তাকে আলাদাভাবে আর তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামাজ পড়তে হয় না। ওই এক নামাজেই যেমন দুই উদ্দেশ্য পূরণ হয়, শাওয়ালের রোজার ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনেকটা তেমনই।

মূলত যারা শাওয়াল মাসের ফজিলত পূর্ণ করতে চান, তারা যদি হিসাব করে হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখেও রোজা রাখেন, তবে তারা একইসাথে আওয়ামে বীজ ও শাওয়ালের রোজা রাখার সওয়াব লাভ করবেন বলে আশা করা যায়।

এনটি