বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি বা খরা, যেকোনো পরিস্থিতিতে নামাজ আদায় করা আবশ্যক। খরা ও অতিরিক্তি গরমের দিনে কিছুটা দেরিতে জোহরের নামাজ আদায় করতে বলেছেন রাসুল (সা.)। আবার শীতকালে বিলম্ব না করে প্রথম ওয়াক্তেই নামাজ আদায় করতে বলেছেন। সব ধরনের আবহাওয়াতেই জামাতে নামাজ আদায়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মহানবী (সা.)-এর বর্ণিত হাদিসে। তবে প্রচণ্ড ও অতিবৃষ্টির সময় মসজিদে না গিয়ে ঘরে নামাজ আদায়ের অনুমতি রয়েছে রাসুল (সা.)-এর হাদিসে।
এক হাদিসে হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা কোন এক সফরে নবীজি সাল্লাল্লাহু’আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। আমাদেরকে বৃষ্টিতে পেল। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার ইচ্ছা নিজের হাওদার মধ্যে নামাজ আদায় করে নিতে পারে। (সহিহ আবু দাউদ, হাদিস : ৯৭৬)।
এই হাদিসের ভিত্তিতে ফকীহ ও মুহাদ্দিসগণ বৃষ্টি ও কাদা মাটির কারণে জামাত ছেড়ে ঘরে নামাজ আদায়ের সম্মতি দিয়েছেন। ইমাম আহমদ ও ইসহাক একই রকম কথা বলেছেন।
রাসুল (সা.)-এর যুগে স্বাভাবিক বৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি সব কিছুই ছিল বর্তমান সময়ের মতো। রাসুল (সা.) অনাবৃষ্টি থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন এবং ইস্তিস্কা বা বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজ পড়েছেন। তার সুন্নতের অনুসরণে অনাবৃষ্টি দেখা দিলে বর্তমান সময়েও বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজ আদায় করা হয়।
পবিত্র কোরআনে বৃষ্টির বর্ণনা
পবিত্র কোরআনে বৃষ্টিকে আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত বলা হয়েছে। কোরআনের একাধিক আয়াতে বৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে, তিনিই আল্লাহ, যিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃজন করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জন্য ফলের রিজিক উৎপন্ন করেছেন এবং নৌকাকে তোমাদের আজ্ঞাবহ করেছেন, যাতে তার আদেশে সমুদ্রে চলাফেরা করে এবং নদ-নদীকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৩২)।
আরেক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তুমি কি দেখ না আল্লাহ আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন, অতঃপর ভূ-গর্ভে একে স্রোতাকারে প্রবাহিত করেন’। (সূরা যুমার, আয়াত : ২১)
আল্লাহ আরও বলেন, ‘তুমি কি দেখো না, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন; এরপর পৃথিবী সবুজ-শ্যামল হয়ে ওঠে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৬৩)
বৃষ্টির পানির পবিত্রতা ঘোষণা করে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি পবিত্র পানি। তা দিয়ে মৃত ভূমিকে সঞ্জীবিত করা এবং আমার সৃষ্ট বহু জীবজন্তু ও মানুষকে তা পান করানোর জন্য।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৪৮-৪৯)
এনটি
