বিজ্ঞাপন

৬ বছরে আয়া সোফিয়ায় ৩ কোটির বেশি মুসল্লি ও দর্শনার্থী

৬ বছরে আয়া সোফিয়ায় ৩ কোটির বেশি মুসল্লি ও দর্শনার্থী

নামাজের জন্য খুলে দেওয়ার পর গত ৬ বছরে ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া গ্র্যান্ড মসজিদ পরিদর্শন করেছেন ৩ কোটির বেশি মুসল্লি ও দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী।

১৪৫৪ সালে সুলতান মুহাম্মদ ফাতিহ ইস্তাম্বুল জয়ের পর ৯১৬ বছরের পুরোনো এই চার্চকে মসজিদে রূপান্তর করেন। পরবর্তীতে ১৯৩৪ সালে মন্ত্রিপরিষদের এক সিদ্ধান্তে মসজিদটিকে জাদুঘরে পরিণত করা হয় এবং দীর্ঘ ৮৬ বছর মসজিদটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২০২০ সালের ১০ জুলাই তুর্কি কাউন্সিল অফ স্টেট সর্বসম্মতিক্রমে ১৯৩৪ সালের সিদ্ধান্তটি বাতিল করে আয়া সোফিয়াকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের আইনি পথ সুগম করে। একই দিনে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান স্বাক্ষর করে মসজিদটির দায়িত্ব ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তরের কাছে ন্যস্ত করেন। এরপর ২০২০ সালের ২৪ জুলাই দীর্ঘ ৮৬ বছর পর প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের উপস্থিতিতে প্রথম জুমার নামাজের মাধ্যমে মসজিদটি আবারো ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

ইস্তাম্বুলের উপ-মুফতি আরিফ জেভলেক জানান, আয়া সোফিয়াকে আবারো ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত তুরস্কসহ পুরো মুসলিম বিশ্বে বিপুল আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছিল। তিনি বলেন, মসজিদটিকে মূল পরিচয়ে ফিরিয়ে আনা পুরো মুসলিম বিশ্বের, বিশেষ করে তুরস্কের মুসলমানদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে। এই স্থানটি ছিল বিজয়ের এক অনন্য প্রতীক।

তিনি আরও জানান, প্রথম দিনের মতোই মসজিদটি ঘিরে দর্শনার্থীদের আগ্রহ এখনও অটুট রয়েছে। মানুষ যেমন এখানে নামাজ আদায় করতে আসছেন, তেমনি এর ঐতিহাসিক ও শৈল্পিক গুরুত্ব দেখতেও ভিড় করছেন। সুলতান মুহাম্মদ ফাতিহের ওয়াকফ দলিলের নির্দেশিকা অনুযায়ী এখানে বছরজুড়ে ধর্মীয় শিক্ষা দান কার্যক্রম চালু রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের জন্য পথপ্রদর্শক কর্মীরা ধর্মীয় দিকনির্দেশনামূলক সেবা দিচ্ছেন।

জেভলেক বলেন, এই পবিত্র স্থানের আধ্যাত্মিক পরিবেশে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন। প্রায় প্রতিদিনই বা প্রতি সপ্তাহে এখানে মানুষের ইসলাম গ্রহণের ঘটনা ঘটছে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, তুর্কিয়ে টুডে

এনটি