বিজ্ঞাপন

ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনের ৬ উপায়

ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনের ৬ উপায়

রাসুলুল্লাহ হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম উপলক্ষে মুসলমানদের মধ্যে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রচলন রয়েছে। নবীজি (সা.)-এর জন্মের স্মরণে পালিত এ আয়োজনকে সাধারণত মিলাদ বা মাওলিদ বলা হয়। 

প্রতি বছর রবিউল আউয়াল মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজন করেন। ১২ রবিউল আউয়ালকে কেন্দ্র করে আয়োজনের মাত্রা বেশি থাকে। এ দিনটিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মদিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

৫ উপায়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্ম দিনটি পালন করা যেতে পারে—

১. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্ম উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো তার প্রতি দরুদ পাঠ ও সালাম পেশ করা। তার প্রতি দরুদ পাঠের মাধ্যমে মুসলমানরা শাফায়াত লাভ করবেন।

এক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন, তার দশটি গুনাহ মুছে দেন এবং তার মর্যাদা দশ ধাপ বৃদ্ধি করেন। (সুনানে নাসায়ি)

২. কোরআন তিলাওয়াত

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্ম উপলক্ষে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমেও কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রকাশ করা যায়। কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মহান রব ও তার প্রেরিত রাসুলের(সা.) সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হওয়া সম্ভব।

আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কিছু মানুষ আল্লাহর পরিজন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা? তিনি বলেন, কোরআন তেলাওয়াতকারীরা আল্লাহর পরিজন এবং তার বিশেষ বান্দা।’(ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১৫)

৩. সুন্নাহ অনুসরণ

নিয়মিত রাসুল্লাহর (সা.) সুন্নাহ অনুসরণ করা উচিত। তার সুন্নত পালনের মাধ্যমেও ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা যেতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র, শিষ্টাচার ও অভ্যাসের সমষ্টিই তার সুন্নাহ। তার সুন্নাহ অনুসরণের বিভিন্ন উপকারিতা রয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে সুন্নাহর চর্চার মাধ্যমে ঈমান আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উত্তম গুণাবলি নিজেদের মধ্যে গড়ে তোলা সম্ভব।

রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে আমার পর জীবিত থাকবে, সে অনেক মতভেদ বা অনৈক্য দেখবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নত ও সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদ্বীনের রীতিকে আঁকড়ে ধরবে এবং তা দাঁত দিয়ে মজবুত করে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনে নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ (বেদআত) থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ, প্রত্যেক বেদআতই ভ্রষ্টতা।’ (আবু দাউদ, দারেমি, তিরমিজি)

৪. দরিদ্রদের খাবার খাওয়ানো

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্ম উপলক্ষে মুসলমানদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যগত আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে দরিদ্রদের খাবার খাওয়ানো অন্যতম। যারা দরিদ্র, তাদের সঙ্গে নিজের সম্পদের কিছু অংশ আন্তরিকতার সঙ্গে ভাগ করে নিলে আল্লাহ তার বান্দার ওপর বরকত ও রহমত বর্ষণ করবেন।

এক হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা নবিজিকে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, কোন কোন কাজের সওয়াব নিয়ে ফেরেশতারা আলোচনা করে—তা আপনি জানেন?’ নবীজি (সা.) বলেন, আমি বললাম, মানুষকে খাদ্য দান করা, নরম ভাষায় কথা বলা এবং রাতের বেলা যখন সবাই ঘুমায় তখন নামাজে মগ্ন হওয়া। (সুনানে তিরমিজি: ৩২২৫)

৫. ভালো কাজ করা

একজন মুসলমানের উচিত প্রতিদিন ভালো কাজ করার চেষ্টা করা এবং এর মাধ্যমে যত বেশি সম্ভব মানুষের উপকার করা। আল্লাহ বলেন, ‘সৎকাজ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ১৯৬)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ নেক কাজ ও গুনাহের কাজ লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর তিনি এভাবে বর্ণনা করেছেন—যে ব্যক্তি নেক কাজ করার ইচ্ছা করে, কিন্তু এখনো তা বাস্তবে আমল করেনি। আল্লাহ তার জন্য তার কাছে একটি পরিপূর্ণ নেকি লিপিবদ্ধ করেন। আর যদি সে নেক কাজ করার ইচ্ছা করে এবং তার ওপর আমল করে, তাহলে আল্লাহ ১০ থেকে সাত শ গুণ বা আরো বেশি গুণ বাড়িয়ে নেকি লিপিবদ্ধ করেন। যদি সে গুনাহের কাজের ইচ্ছা করে এবং তা বাস্তবে পরিণত না করে তাহলে আল্লাহ তার কাছে একটি পরিপূর্ণ নেকি লেখেন। আর যদি সে গুনাহের ইচ্ছা করে এবং কাজে পরিণত করে আল্লাহ একটিমাত্র গুনাহ লিখে রাখেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৯১)

৬. মহানবীর (সা.) জীবনী পাঠ

মহানবীকে (সা.) জানার অন্যতম মাধ্যম হলো তার সীরাত বা জীবনী অধ্যয়ন করা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী অধ্যয়ন শুধু জ্ঞানবৃদ্ধি নয়, একজন মুসলিমের দ্বীনি প্রয়োজনও। মানবজীবনের এমন কোনো দিক নেই, যা প্রিয়নবী (সা.)-কে স্পর্শ করেনি। ফলে তার জীবনাদর্শ মানবজাতির জন্য অনুকরণীয়।

এনটি