২০০ কেজি স্বর্ণ দিয়ে তৈরি হলো কোরআন শরিফ

Dhaka Post Desk

মুহাম্মদ হেদায়াতুল্লাহ, অতিথি লেখক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৪৬ পিএম


২০০ কেজি স্বর্ণ দিয়ে তৈরি হলো কোরআন শরিফ

২০০ কেজি স্বর্ণ দিয়ে তৈরি হলো কোরআন শরিফ

দুই শ কেজি স্বর্ণ ও দুই হাজার কেজি অ্যালুমিনিয়ামে তৈরি হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কোরআনের কপি। পাকিস্তানি শিল্পী শহিদ রাসাম ও চার শ’ শিক্ষার্থীর টিম ঐতিহাসিক এ নান্দনিক ও শৈল্পিক কাজটি করেছে। আগামী অক্টোবরে শুরু হতে যাওয়া এক্সপো ২০২০ দুবাই প্রদর্শনীতে এটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্বর্ণের তৈরি সর্ববৃহৎ কোরআন নিয়ে পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন দুবাই (পিএডি) এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। খালিজ টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

খবরে জানা যায়, কোরআনের সর্ববৃহৎ কপিটি অ্যালুমিনিয়াম ও স্বর্ণের প্রলেপ দিয়ে তৈরি ক্যানভাসে খোদাই করা হয়। সাধারণত কাগজ, কাপড় বা চামড়ার ওপর পবিত্র কোরআন খোদাই করা হয়। তাই ইসলামের ১৪ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম অ্যালুমিনিয়ামে খোদাই করে কোরআন তৈরি করা হয়েছে।

Dhaka Post
২০০ কেজি স্বর্ণে তৈরি কোরআনটির পৃষ্ঠা দেখতে যেমন। ছবি : সংগৃহীত 

সর্ববৃহৎ কোরআনের আয়তন ও শব্দ

সংবাদমাধ্যমকে শিল্পী রাসাম জানান, বিশ্বের সবচেয়ে বড় খোদাই করা পবিত্র কোরআনের প্রকল্পটি একটি অনন্য প্রকল্প। ফ্রেম ছাড়া পবিত্র কোরআনের কপিটির দৈর্ঘ্য ৮.৫ ফুট এবং প্রস্থ ৬.৫ ফুট। এর মধ্যে ৮০ হাজার শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতি পৃষ্ঠায় ১৫০ শব্দ থাকবে। আর মোট ৫৫০ পৃষ্ঠা থাকবে। এতে দুই শ কেজি স্বর্ণ ও দুই হাজার কেজি অ্যালুমিনিয়ান ব্যবহৃত হয়।

আরও পড়ুন : কোরআন তেলাওয়াত শেষে দোয়া পড়তে হবে কি?

শিল্পী রাসাম করাচির চারুকলা প্রতিষ্ঠান দ্য আর্টস কাউন্সিল ইনস্টিটিউট অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্পূর্ণ ভিন্নতর নতুন এ কর্ম উপহার দেওয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন এ শিল্পী। নানারকম সৃজনশীল শৈল্পিক কর্মের মাধ্যমে সবাইকে তাক লাগিয়ে আসছেন তিনি।

৫৫০ ক্যানভাসে তৈরি হয়ে এই কোরআন

পাকিস্তানি এ শিল্পী আরও জানান, তিনি সব সময় চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন। আর তাই সর্বদা নিত্য-নতুন বিষয় নিয়ে কাজ করেন। চার বছর আগে এ প্রকল্পটি তিনি শুরু করেন। ৫৫০ ক্যানভাসে পবিত্র কোরআন শেষ করার কাজটি এখনও চলমান আছে। প্রাকৃতিক মূল্যবান পাথর ও অ্যালুমিনিয়ামে স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া পবিত্র কোরআনের কপিটি আগামী এক হাজার বছর স্থায়ী হবে বলে জানান তিনি।

Dhaka Post

তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআনের অনেক অধ্যায় শেষ হলেও এক্সপো ২০২০-এর সময়ে শুধুমাত্র একটি অধ্যায় প্রদর্শনে থাকবে। পাঁচ পৃষ্ঠায় লেখা সুরা আর রহমান অধ্যায়টি প্রদর্শনীর পাকিস্তান প্যাভিলিয়ন কিংবা আলোচনাসাপেক্ষে অন্য কোনো সাইটে দেখা যাবে। 

প্রথমদিকে রাসাম নিজেই এ বিশাল কাজ শুরু করেন। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আরো দুই শ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেন। প্রকল্পের একটি অংশ এবারের দুবাই এক্সপো ২০২০-এর প্রদর্শনীতে থাকবে। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করতে তারা কাজ করে যাচ্ছে।

এর আগেও নজর কেড়েছেন শিল্পী রাসাম

দুবাইভিত্তিক উদ্যোক্তা শীর্ষ করপোরেট কর্মকর্তা ইরফান মুস্তফা বলেন, রাসাম একজন প্রসিদ্ধ শিল্পী। নিজের সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে তিনি সবার কাছে পরিচিত। আমি নিশ্চিত যে শিল্পী শহিদ রাসাম শুরু হতে যাওয়া এক্সপো ২০২০ দুবাইয়ে মানসম্মত শিল্পকর্ম নিয়ে আসবেন।

অনন্য শৈল্পিক কারুকার্য তৈরি করে শহিদ রাসাম বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। এর আগে রাসাম অ্যালুমিনিয়াম ও স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া প্লটে আল্লাহর ৯৯ নাম লিখে সবার নজর কাড়েন।

গিনেস রেকর্ড বুকে সবচেয়ে বড় কোরআন...

গিনেস রেকর্ড অনুসারে, সবচেয়ে বড় মুদ্রিত কোরআনের কপি উচ্চতায় ৬.৭৪ ফুট ও প্রস্থে ৪.১১ ফুট এবং এর ঘনত্ব ৬.৬৯ ফুট। এতে ৬৩২ পৃষ্ঠা রয়েছে, যার ওজন ৫৫২.৭৪ কেজি। 

প্রসঙ্গত, বৈশ্বিক এই প্রদর্শনীর আয়োজক মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশ দুবাই। গত বছরের অক্টোবর মাসেই দুবাই এক্সপো ২০২০ অনুষ্ঠিত হওয়ার সব আয়োজন ছিল। কিন্তু মহামারি করোনার কারণে তা পিছিয়ে যায়। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

অক্টোবরের ০১ তারিখে শুরু হয়ে ২০২২ সালের ৩১ মার্চ আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী শেষ হবে। বিশ্বের ১৯২টি দেশ শিল্প-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা কিছু এই প্রদর্শনীতে তুলে ধরবে।

Link copied