শায়খ আহমাদুল্লাহর নতুন বই, কী আছে এতে?

দীর্ঘ দেড় বছরের সাধনা ও নিবিড় অধ্যবসায়ের পর নতুন একটি বই প্রকাশের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। ‘ঈমানের অপরিহার্য পাঠ’ শিরোনামের এই গ্রন্থে ঈমানের মৌলিক বিষয়গুলোকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন বইমুখী। বই ছাড়া ডানে-বামে তাকাতেন না। এজন্য এক শিক্ষক মজা করে তাকে ‘জিন’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন। নতুন এই বইটি লিখতে গিয়ে সেই কিতাবমুখর ছাত্রজীবনের স্মৃতি যেন আবার ফিরে এসেছে।
লেখার প্রয়োজনে বিপুল সংখ্যক বই ও রচনার সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়ে জীবনের এই মাঝপর্বে এসে নিজেকে নতুন করে ‘বইপাগল’ ছাত্র হিসেবেই আবিষ্কার করেছেন তিনি।
দেড় বছর আগে বইটির কাজ শুরু হলেও, গত কয়েক মাস ছিল তার জন্য প্রায় গৃহবন্দিত্বের মতো। পাহাড়সম পরিশ্রম আর একাগ্র সাধনার পর বইটির লেখা শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে প্রকাশনার প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি জানান, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল আরও বিস্তৃত। ঈমানের অংশ নয়, বরং সামগ্রিক ইসলামকে জানার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো এক মলাটে আনার ইচ্ছা থেকেই কাজ শুরু করেছিলেন। বিষয়টি আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠকদের জানিয়েও ছিলেন। তবে লেখার গভীরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন অনুসন্ধান ও বিস্ময়ের মুখোমুখি হতে থাকেন। ফলে গ্রন্থের কলেবর দ্রুত বেড়ে যায়।
এই বাস্তবতায় প্রথম ধাপে শুধু ঈমান বিষয়ক আলোচনা নিয়ে আলাদা একটি বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই পরিকল্পনারই ফল ‘ঈমানের অপরিহার্য পাঠ’।
বইটিতে ঈমানের মৌলিক স্তম্ভগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি কোরআন ও হাদিসের আলোকে সমকালীন নানা কুফর ও নিফাকের লক্ষণ চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সময়ের সংশয়, বিশ্বাসগত সংকট ও বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ঈমানের প্রয়োজনীয়তা ও সুফল নিয়েও আলোচনা স্থান পেয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বইটির নাম চূড়ান্ত করার আগে পাঠকদের মতামত নেওয়া হয়। এতে সাড়া দেন প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। পাঠকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ পর্যন্ত ‘ঈমানের অপরিহার্য পাঠ’ নামটিই চূড়ান্ত করা হয়।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও জানান, ঈমানের পর ইসলামের ইবাদত, আখলাক, লেনদেনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও পর্যায়ক্রমে স্বতন্ত্র বই প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
বইটি প্রসঙ্গে সবার কাছে দোয়া কামনা করে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ যেন এই কাজ কবুল করেন এবং এটি যেন ঈমান শেখা, ঈমানের পুনর্মূল্যায়ন ও নাজাতের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে।
এনটি