ক্রীড়াঙ্গনে খালেদা জিয়াকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। সরকার কিংবা বিরোধী দল উভয় অবস্থান থেকেই তিনি ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণে আজ বিকেলে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ঢাকা মোহামেডানে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাবেক তারকা ক্রীড়াবিদ, সংগঠকসহ সকল স্তরের ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
আজকের এই অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা মোহামেডানের সাবেক ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বেগম খালেদা জিয়ার এক সময়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা লোকমান হোসেন ভূইয়া। খুব কাছ থেকে তিনি দেখেছেন খালেদা জিয়াকে। আজ মোহামেডান ক্লাবে দোয়া মাহফিল শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের এই ক্লাবে তিনি ১৯৯৮ সালে এসেছিলেন একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে। আমাদের ক্লাবের সদস্য শরিফুল আলমের বিয়ে হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে তিনি এসেছিলেন। ক্রীড়াঙ্গনে তার অবদান অনেক। এজন্য ক্রীড়াঙ্গনের সবাইকে নিয়ে একটি দোয়া মাহফিল করা হয়েছে।’
মোহামেডান ক্লাবের সাবেক সভাপতি মোসাদ্দেক আলী ফালু। দুই দশকের বেশি সময় তিনি ক্লাবের শীর্ষ পদে ছিলেন। তিনি খালেদা জিয়া সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের এই ক্লাবের আনুষ্ঠানিক দলিল কিন্তু তার সময়েই। তিনি এবং তার পরিবার সব সময় ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ করেছেন। ২০১১ সালে বিশ্বকাপের সময় রাজনৈতিক আন্দোলন চলছিল। বিশ্বকাপ যেন সকল ভেন্যুতে নির্বিঘ্নে হয় সেজন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।’
জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক এখন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের ক্রীড়া সম্পাদক। খেলোয়াড়ী জীবন থেকে কাছ থেকে দেখছেন খালেদা জিয়াকে। সেই স্মৃতি থেকে বলেন, ‘২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আমাদের দেশনেত্রী সকল খেলোয়াড়কে ৫ কাঠা করে জমি দিয়েছিলেন। ক্রীড়াবিদদের জন্য এ রকম উপহার বাংলাদেশে আর কেউ দেয়নি।’

ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের আহ্বায়ক ইশরাক হোসেন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে প্রথম ১৯৯১ এ আমার বাবা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। তখনই আমার বয়স চার বছর এবং আমি ছোটবেলা থেকেই দেখেছি যে ক্রীড়াঙ্গনকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমার বাবা নিরলস পরিশ্রম করেছিলেন এবং সে সময় সাফ গেমস আয়োজনও করা হয়েছিল। এ সব কিছুই কিন্তু সম্ভব হয়েছিল বেগম জিয়ার যে ক্রীড়া এবং যুবকদেরকে একটা সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার এবং ক্রীড়া চর্চাকে একটা পেশা হিসেবে পেশাদার জায়গা থেকে চর্চা করার একটা যে প্রয়াস ছিল সেখান থেকে উঠে এসেছে।’ মোহামেডান ক্লাবের সদস্য ও সাবেক ক্রীড়া মন্ত্রী মির্জা আব্বাস বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় ও দলীয় অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও ম্যাডাম ক্রীড়াঙ্গনের খোজ-খবর সব সময় রেখেছেন।’
খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ, ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি এসএ সুলতান, সাবেক তারকা ফুটবলার সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির, সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক, বিসিবির সাবেক পরিচালক ও সাবেক ক্রিকেটার মাহবুব আনাম, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, মোহামেডানের পরিচালক ও ক্রীড়া সংগঠক মাসুদুজ্জামান, সাবেক ফুটবলার ছাইদ হাসান কানন, কায়সার হামিদ, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, কিংবদন্তী নারী ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক কামরুন নাহার ডানা, সাবেক টিটি তারকা সাইদুল হক সাদী, সাবেক জাতীয় হকি খেলোয়াড় আরিফুল হক প্রিন্স, জাতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি, সাবেক হকি খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম কামাল, সাজেদ এএ আদেল, ক্রীড়া সংগঠক মোস্তাকুর রহমান, ফজলুর রহমান বাবুলসহ বিভিন্ন ফেডারেশনের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা।
এজেড/এইচজেএস