ফিফার টাকা হাতছাড়া হবে না, জানালেন বাফুফে সভাপতি

কক্সবাজারে ফিফার অর্থায়নে বাফুফে ট্যাকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণ করবে। ফিফার অর্থায়নের পূর্বশর্ত জমির মালিকানা ফেডারেশনের হতে হবে। বাফুফে এখনো কক্সবাজারে ট্যাকনিক্যাল সেন্টারের জন্য জমি নিজেদের নামে করতে পারেনি। এরপরও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল আজ নিশ্চিত করেছেন ফিফার ফান্ড হাতছাড়া হবে না।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাফুফে ভবন ত্যাগ করার পর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্ন উত্তরে মুখোমুখি হন। সেই সময় তিনি বলেন, 'একটা আইনের ব্যাপার আছে আর সরকারি প্রক্রিয়ার ব্যাপার আছে। চিফ অ্যাডভাইজার অফিস থেকে জমিটা অলরেডি আমাদেরকে বরাদ্দ দিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাকিটা হলো প্রসেস এবং আনুষ্ঠানিক ব্যাপার। ওই চিফ অ্যাডভাইজারের কাগজ নিয়েই আমরা ফিফাকে বোঝাতে পেরেছি যে জমিটা আমাদের হয়ে গেছে, এখন হয়তো একটু সময় লাগবে আমাদের নামে নামজারি করার জন্য। তো সেই জায়গায় যে মূল কোয়েশ্চেন যে আর্থিক জায়গাটা আমরা হারিয়ে ফেলব কি না? না, আমরা আমাদের ফিফা ফরওয়ার্ড প্রোগ্রামের ডলারটাকে আমরা সেফগার্ড করতে পেরেছি। এখন বাকিটা আমি বিশ্বাস করি আগামী এক মাসে আমরা অবশ্যই দ্রুত ফরমালিটি কমপ্লিট করতে পারব।’
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বাফুফেকে জমি প্রদানে প্রয়োজনীয় সহায়তা করেছে। রাষ্ট্রীয় নিয়মে জমি ক্রয়ে মূল্য পরিশোধ করতে হয়। সেটাও বেশ কয়েক কোটি টাকার ব্যাপার। এ নিয়ে বাফুফে সভাপতি বলেন, ’টাকা তো আমরা বাফুফে বলছি এখনও যে আমরা দিতে পারছি না। আর আমরা যদি সেই টাকাটা দেই তাহলে অন্য খাত থেকে টাকাটা কমে যাবে যা অলরেডি আমাদের নেই। আজকে ওনারা বুঝে গিয়েছেন জিনিসটা। আই অ্যাম সিওর আগামীতে একটা না একটা সলিউশন ওনারা বের করে আনবেন। এতদূর যখন আমরা চলে এসেছি, আই অ্যাম ১০০% কনভিন্সড বাকিটা আমাদেরকে আর ঠেকিয়ে রাখবে না।’
ফুটবল দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলার একটি। এরপরও অবকাঠামো সমস্যায় ভুগছে। আজ যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে সেই বিষয়টি উঠে এসেছে। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এই বিষয়ে বলেন, ‘আজকে আমার কাছে উনাদের (বাফুফে) কিছু দাবি-দাওয়া ছিল। আমি খুব অল্প দিনের জন্য আছি, কিন্তু তারপরও আমার কাছে মনে হয়েছে কয়েকটা জিনিস আমরা উনাদের দাবির সাথে একমত পোষণ করেছি। এটা হচ্ছে ঢাকা স্টেডিয়াম যেটা আছে এটা সম্পূর্ণভাবে ফুটবলকে দিয়ে দেওয়া। তবে অন্যান্য যত স্পোর্টস আছে ক্রিকেট ছাড়া, তাদের আয়োজনের প্রয়োজন হলে সেখানে আয়োজন করবে। যদি তারা অন্য কোথাও, ফর এক্সাম্পল পূর্বাচল স্টেডিয়াম বা অন্য কোথাও যদি তারা জায়গা পেয়ে সরে যায় তখন এটা সম্পূর্ণ ফুটবলের হয়ে যাবে।’
ঢাকার বাইরেও ফুটবল ভেন্যু নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘সিলেট এবং চিটাগাং (চট্টগ্রাম), এটা ডেডিকেটেড ওয়েতে ফুটবলকে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। তবে শর্ত আছে, ক্রিকেট ছাড়া অন্যান্য খেলার যদি টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রয়োজন পড়ে উনারা সেখানে আয়োজন করতে দেবেন। আর হচ্ছে আমাদের কমলাপুরে যে স্টেডিয়ামটা আছে সেখানে শুধু মাঠের দায়িত্বভার ফুটবলকে দেওয়া হয়েছিল, এখন গ্যালারির দায়িত্বভারও দেওয়া হয়েছে। সেখানে যে ডরমিটরি আছে সেটাও রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনা করবে ফুটবল ফেডারেশন, কিন্তু ওখানে অ্যালোকেশন দেবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে।’
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বাফুফেকে সাত জেলা স্টেডিয়াম বরাদ্দ নিয়ে চিঠি প্রদান করেছে কয়েক মাস আগেই। এখন পর্যন্ত ফেডারেশন সেই স্টেডিয়ামগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেয়নি বা দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়নি। শুধু ফুটবলের জন্য স্টেডিয়াম বরাদ্দে অনেক জেলায় প্রতিবাদও হয়েছে।
এজেড/এইচজেএস