অবশেষে ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি পেল ভারতের সেই ‘ট্র্যাজিক’ স্টেডিয়াম

২০২৫ সালে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আইপিএলের শিরোপা জিতেছে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। কিন্তু তাদের সেই ঐতিহাসিক বিজয় উদযাপন করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মারা যান ১১ সমর্থক। ফলে আনন্দঘন মুহূর্তটি বিষাদে রূপ নেয়। একইসঙ্গে ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি হারায় বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম। মাসখানেকের অনিশ্চয়তা শেষে অবশেষে তারা পুনরায় খেলা আয়োজনের ছাড়পত্র পেয়েছে।
ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি আসন্ন আইপিএলের ম্যাচ গড়াতেও আর বাধা রইল না চিন্নাস্বামীর। গতকাল (শনিবার) ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত বিশেষ কিছু বিষয় ও শর্তে সম্মতির ভিত্তিতে এই অনুমোদন দেওয়া হলো।’ এর আগে চিন্নাস্বামীতে ম্যাচ আয়োজনের জন্য নানা দিকে ধরনা দিতে হয়েছে কর্ণাটক রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে (কেএসসিএ)। এ ছাড়া বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান নির্বাহী রাজেশ মেননও ২০২৬ আইপিএলে দলটির হোম ম্যাচ আয়োজনে রায়পুর স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বর্তমানে চলমান নারী আইপিএল বেঙ্গালুরু খেলছে পুনে ও নাভি মুম্বাইয়ে।
ভারত সরকারের মনোনীত টাস্ক ফোর্স কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেএসসিএ–র মুখপাত্র বিনয় মৃত্যুঞ্জয়। তিনি জানিয়েছেন, ‘স্টেডিয়াম খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার পর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফলাফল সন্তোষজনক। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে কর্নাটক সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট মাপকাঠি মানতে হবে আমাদের। সেই কাজ সম্পন্ন করার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’

বেঙ্গালুরু স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা, মানুষের সুরক্ষা এবং দর্শক নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে কর্ণাটক সরকারের কাছে। যা দেখে সন্তুষ্ট তারা। এর আগে শুক্রবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছিল, পুরো স্টেডিয়ামে ৩০০-৩৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ক্যামেরা বসানো হবে। এককালীন যে সাড়ে চার কোটি রুপি খরচ হবে তার পুরোটাই তারা দেবে। এই ক্যামেরা বসানো হলে পুলিশ এবং কেএসসিএ সহজেই দর্শকদের গতিবিধি বুঝতে পারবে, সুশৃঙ্খল লাইন সাজানো এবং কেউ অনুমতি ছাড়া স্টেডিয়ামে ঢুকতে চাচ্ছেনে কি না তা বুঝতে পারবে। সঙ্গে সঙ্গে তথ্য চলে আসবে সার্ভারে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। তবে ওই সময় পর্যন্ত খেলা আয়োজনের অনুমতি না পাওয়ায় চিন্নাস্বামীতে হবে না মেগা টুর্নামেন্টটির কোনো ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার তিন ভেন্যু ছাড়াও বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো হবে ভারতের ৫টি মাঠে। ভারতের ভেন্যুগুলো হচ্ছে– দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, কলকাতার ইডেন গার্ডেন, চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বারাম, আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি ও মুম্বাইয়ের ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়াম।
এএইচএস