আইসিসির কাছ থেকে অলৌকিক কিছুর আশায় বিসিবি

আইসিসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ভেন্যু সরানোর আবেদন প্রত্যাখ্যানের কয়েক ঘণ্টা পরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশা হারাননি। বাংলাদেশ এখনো বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে বিশ্বাস তার। তিনি আশাবাদী, আইসিসি তাদের মন পাল্টাবে এবং ভারত থেকে ম্যাচ সরিয়ে নেবে।
বাংলাদেশের ভারতে বিশ্বকাপে না খেলার অবস্থান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে আজ (বুধবার) ভার্চুয়ালি বৈঠক হয়। যেখানে বাংলাদেশ ছাড়া কেবল পাকিস্তান তাদের পক্ষে ভোট দেয়। যদিও শেষ মুহূর্তে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সমর্থনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের মন গলাতে পারেনি। আইসিসি বোর্ড বাংলাদেশকে আরও ২৪ ঘণ্টার শেষ সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে।
বিশ্বকাপে খেলতে বাংলাদেশ ভারতে যাবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিসিবির কাছে ২৪ ঘণ্টা সময় আছে। অন্যথায় আইসিসি তাদের পরিবর্তে অন্য একটি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করবে। বিসিবিকে এখন দেশের সরকারের সঙ্গে আলাপ করতে বলেছে, যেন ভারতে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। যদি বাংলাদেশ সময়সীমার মধ্যে অবস্থান পরিবর্তন না করে তবে গ্রুপ-সি'তে তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে স্কটল্যান্ড।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আইসিসির কাছ থেকে কোনো অলৌকিক কিছুর আশা করছি। কে না চায় বিশ্বকাপ খেলতে? আইসিসির প্রেস রিলিজের পর আমরা আসলে কোনো মন্তব্য করতে পারি না। মিটিংটি দেড় ঘণ্টা ধরে চলেছিল। ভোট শুরুর আগে আমরা আইসিসি বোর্ডকে আমাদের সিদ্ধান্তের কারণগুলো ব্যাখ্যা করেছি। আমরা ভোটাভুটিতে যেতে চাইনি। আমরা সরে দাঁড়িয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে খেলতে চায়। বাংলাদেশ সরকার চায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলুক। কিন্তু আমরা মনে করি না যে ভারত আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ। আমরা তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে বলেছিলাম। আমরা বলেছিলাম যে আমরা আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের সাথে অদলবদল (গ্রুপ পরিবর্তন) করতে পারি। এটিই সবচেয়ে সহজ উপায় হতে পারতো। কিন্তু শ্রীলঙ্কা জানিয়েছে যে তারা তাদের গ্রুপে নতুন কোনো দল চায় না। ভোটের পর আমি তাদের বলেছিলাম যে আমি আমার সরকারকে জানানোর জন্য একটি শেষ সুযোগ চাই। তারা বলেছে এটি একটি যৌক্তিক পয়েন্ট এবং আমাকে তাদের কাছে ফিরে আসার জন্য ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে।’
আমিনুল আরও বলেন, ‘আমি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাই না। আমরা জানি ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলার অবস্থানেই অনড় আছি। আমি জানি আইসিসি আমাদের মানা করে দিয়েছে, তবে আমরা সরকারের সাথে আরও একবার কথা বলব। আমি সরকারের মতামত আইসিসিকে জানাব। একটি সরকার যখন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা কেবল খেলোয়াড়দের কথা ভাবে না, সবার কথা বিবেচনা করে।’
বিসিবির অন্য এক কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন যে, আইসিসির মন পরিবর্তন হতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন যে, বিষয়টি সমাধানের জন্য তারা অন্তত ১৫-২০টি ইমেল আদান-প্রদান করেছেন এবং আইসিসির সঙ্গে তিনবার কথা বলেছেন। সপ্তাহের শেষ দিকে বিসিবি এই অচলাবস্থা নিরসনে ঢাকায় আইসিসি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকও করেছে, কিন্তু কোনো সমঝোতা হয়নি। মূলত দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে বিসিসিআই আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মুস্তাফিজুর রহমানকে তাদের দল থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর বিসিবি আইসিসিকে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়।
বাংলাদেশ তাদের গ্রুপ অদলবদল করতে চেয়েছিল, কিন্তু আয়ারল্যান্ড জেদ ধরে যে তারা এমন প্রস্তাবে রাজি হতে প্রস্তুত নয়।
এফএইচএম/