রাজশাহীকে বিপিএলের ফাইনালে তোলার কৃতিত্ব যাদের দিলেন হান্নান

বিপিএলের গত আসরেও ছিলেন জাতীয় দলের নির্বাচক। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বড় দায়িত্ব ছেড়ে হান্নান সরকার পরবর্তীতে কোচিংয়ে ফিরে যান। আবাহনীকে প্রিমিয়ার লিগ জেতানোর পর এবার তার দল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বিপিএলের ফাইনালে উঠেছে। বিপিএলের নিলাম থেকে দল সাজানো দিয়ে শুরু, এরপর মাঠে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কৃতিত্ব একা নিতে নারাজ জাতীয় দলের সাবেক এই ক্রিকেটার।
ফাইনাল নিশ্চিতের পর গতকাল (বুধবার) সংবাদ সম্মেলনে হান্নান জানান, ‘উপভোগ তো করছি–ই। ফলাফলই এর প্রমাণ। আমি আমার জায়গা থেকে সবসময় সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। ২০১১ সালে যখন খেলা ছেড়েছি তারপর থেকেই স্বপ্ন ছিল কোচিং লাইনেই থাকব। ৯ বছর সিলেকশন প্যানেলে ছিলাম। কোচিংয়ে ভেবেচিন্তে–ই এসেছি। আমি যেভাবে কাজ করছিলাম, যেভাবে সিলেক্টর থাকাকালে প্লেয়ারদের সঙ্গে কমিউনিউকেশন করছিলাম…সবাই বলত কোচিংয়ে আসলে হয়তো ভালো করবে। এটা আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘ঢাকা লিগ বা বিপিএলে কাজ করা, নিশ্চিতভাবেই প্লেয়ারদের কৃতিত্ব আগে দিতে হবে। তবে নিজের জায়গা থেকে বলতে পারি, প্লেয়ার সিলেকশনের কাজ যেহেতু করে এসেছি, টিম সিলেকশনের ক্ষেত্রেও কাজগুলো ভালোভাবে এগিয়ে দিয়েছে। ২৩ জানুয়ারি ফাইনালের পর আরও ভালো উত্তর দিতে পারব।’
এখন পর্যন্ত পাওয়া সাফল্য সহকর্মী কোচদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান হান্নান, ‘আমাদের বোলিং-ফিল্ডিং টুর্নামেন্টজুড়ে ভালো ছিল। ফিল্ডিং নিয়ে আলাদা করে বলতে চাই। ক্যাচ ও গ্রাউন্ড ফিল্ডিং ভালো হচ্ছে। ডিরেক্ট থ্রোতে আমরা কোনো রান আউট করতে পারিনি, এটা নিয়ে মজা করি রেগুলার। তবে ফিল্ডিং কোচ আবুল বাশারের কথা বলতে চাই। এই নামটা কখনোই সামনে আসে না। কী পরিমাণ হার্ডওয়ার্ক করছে, সেটা যদি দেখেন...আজ ফারহান পাঁচটা ক্যাচ নিয়েছে। টুর্নামেন্টজুড়ে ক্যাচ ও গ্রাউন্ড ফিল্ডিং যদি দেখেন, বুঝতে পারবেন কত হার্ডওয়ার্ক করেছে। আবুল বাশারকে ক্রেডিট দিতে হবে।’

এ ছাড়া ব্যাটিং-বোলিং কোচ রাজিন সালেহ ও তারেক আজিজেরও প্রশংসা করলেন রাজশাহীর কোচ, ‘কিছু মানুষকে কৃতিত্ব দিতে হবে। হেড কোচ হিসেবে আমি সামনে আসছি। কিন্তু আমার সাপোর্টিং স্টাফ কারা? রাজিন সালেহ–মোস্ট এক্সপিরিয়েন্সড, তারেক আজিজ–মোস্ট এক্সপিরিয়েন্সড। কোচিং স্টাফ যখন ভালো করবেন তখন দলের বন্ডিং ভালো হয়। ট্রাস্ট করে প্লেয়াররা। (পেসার) রিপন-সাকলাইন রিসেন্টলি তারেকের সঙ্গে কাজ করেছে। রাজিন-মুশফিক ন্যাশনাল টিমে খেলেছে। রাজিনের ওপর বলার কিছু নেই। ওদের ট্রাস্টের কারণে টিমে জেলিং বা বন্ডিং তৈরি হয়।’
‘হেড কোচ হিসেবে আমার কাজ সহজ হয়ে যায়। তখন আমার কাজ থাকে টিমকে এক করা। টেকনিক্যাল অনেক বিষয় থাকে, সেখানে আমার রোল প্লে করার চেষ্টা করি। তবে সাপোর্টিং যারা রয়েছে, তাদের কারণে কাজটা সহজ হচ্ছে। টিম বয় যারা, এই ৪ জন টিম বয় আবাহনীতেও ছিল। ট্রাস্ট–এর জায়গা থেকে, আই কন্টাক্ট, চোখের ভাষা বোঝা। এই প্রতিটা জিনিস এই ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আমার তৈরি হয়েছে’, আরও যোগ করেন হান্নান।
এসএইচ/এএইচএস