টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে থাকছে না বাংলাদেশ, যা বলছেন অন্য খেলার তারকারা

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল আইসিসি। আজ বিকেলে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চায়। তবে সেটা ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কায়। তবে আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্তে অনড়। এর অর্থ আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা তাহলে হচ্ছে না!
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় দেশের অন্য খেলার ক্রীড়াবিদরাও চোখ রাখেন। ক্রিকেটারদের সমর্থন করেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ ইস্যুতে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘নিরাপত্তা ইস্যুটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে মুস্তাফিজের নিরাপত্তার শঙ্কা ছিল, সেখানে পুরো দলের নিরাপত্তা অবশ্যই একটি বড় বিষয়। নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা যৌক্তিকই।’
বিশ্বকাপ খেলা যে কোনো ক্রীড়াবিদের চরম কাঙ্ক্ষিত। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই, এটা ক্রীড়াবিদ হিসেবে এমিলিকে পীড়া দেয়, ‘সব খেলোয়াড়ই বিশ্বমঞ্চে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চায়। এই বিশ্বকাপে হয়তো অনেকের অভিষেক হতো কিংবা আবার শেষ বিশ্বকাপও হতো। ক্রীড়াবিদ হিসেবে এটা অবশ্যই পীড়াদায়ক।’
গত নভেম্বরে ভারতের চেন্নাই-মাদুরাইয়ে যুব বিশ্বকাপ হকিতে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করেছিল। সেই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে। আমিরুল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি পান। হকি দল ভারতে খেলে আসলেও ক্রিকেটের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হিসেবে দেখছেন কামাল, ‘হকি দল নির্বিঘ্নে খেলে এসেছে, এটা ঠিক। কিন্তু হকি এবং ক্রিকেটের উন্মাদনা এবং সম্পৃক্ততা বেশ ভিন্ন। ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে পরিস্থিতি যেভাবে উত্তপ্ত হয়েছে, এতে খেলতে যাওয়া অবশ্যই ঝুকিপূর্ণ।’
রাজনৈতিক ঘটনা প্রভাব ক্রীড়াঙ্গনে প্রভাবিত হয়। ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখার পরামর্শ তার, ‘বাংলাদেশের ভেন্যু বদল না হওয়া এবং বাংলাদেশের ভারত না যাওয়া দুটোর পেছনেই ভূরাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে রাজনীতি না মেশানোই শ্রেয়।’
ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর স্বর্ণপদক জয়ী সাবেক শুটার শারমিন আক্তার রত্না। বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়া হলেও তিনি সরকারের অবস্থানকে যৌক্তিকই বলছেন, ‘খেলার আগে দেশের সম্মান। এমন অবস্থান আগেই নেয়া হয়েছে, সেই দৃষ্টি কোণ থেকে সরকার যেটা ঠিক করেছে, এটা আমি সমর্থন করি।’
উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নিরাপত্তা খুবই সংবেদনশীল বিষয়। এই চিন্তা মাথায় নিয়ে খেলা যায় না। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারের সিদ্ধান্ত যৌক্তিকই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপ না খেলা যেকোনো খেলার জন্য প্রভাব তো পড়বেই। ভারতে না যাওয়ায় ভারতও অনেক খেলায় বাংলাদেশে না আসতে পারে। আবার ভারতে অন্য খেলাতেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিতই থাকবে। আশাকরি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের রাজনৈতিক-কূটনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে এবং ক্রীড়াঙ্গনও স্বাভাবিক সময় ফিরে আসবে।’
এজেড/এমএমএম