বিশ্বকাপ বয়কট গুঞ্জনের মাঝেও বেড়েছে ফ্লাইট বুকিংয়ের হার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী আগ্রাসী নীতির কারণে কয়েকটি প্রতিযোগী দেশ বিপাকে পড়েছে। একইভাবে গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টাসহ বেশ কিছু কারণে ইউরোপে উঠেছে বিশ্বকাপ বয়কটের গুঞ্জন! সমর্থকদের ঝামেলায় পড়তে হতে পারে মনে করে ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটারও তাদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও একই সময়ে বেড়েছে দেশটিতে ফ্লাইট বুকিংয়ের হার।
আসন্ন ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আসর বসবে তিন দেশ– যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়। সেখানে কাউকে প্রধান আয়োজক বলা না হলেও গুরুত্বপূর্ণ বেশিরভাগ ম্যাচই গড়াবে মার্কিন ভূমিতে। যার জন্য গত ৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে ফিফার এই মেগা ইভেন্টটির সূচি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই আমেরিকাগামী ফ্লাইট বুকিংয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ট্রাভেল টেকনোলজি প্রতিষ্ঠান আমাদেউসের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
রয়টার্স বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দেশটিতে ইউরোপীয় পর্যটকের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। সীমান্তে বাড়তি কড়াকড়ির কারণে অনেক পর্যটক যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে অনীহা দেখান। তার ওপর সম্প্রতি মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসনবিরোধী ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা দেখা গেছে। যাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা কিছু মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ালেও, বিশ্বকাপ পর্যবেক্ষক ও আমাদেউসের তথ্য বলছে– বিশেষ করে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে বুকিং বেড়েছে। বুকিংয়ের ১৮ শতাংশই ব্রিটিশ নাগরিক।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বিশ্বকাপ আসর বসবে। ওই সময়ের জন্যই মূলত ফ্লাইট বুকিংয়ের নজির বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশ্বকাপের ড্র ঘোষণার পরবর্তী মাসে বুকিং হয়েছে ৩৭ শতাংশ। যদিও এসব তথ্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক অভিবাসন অভিযানের প্রভাব ফ্লাইট বুকিংয়ের ওপর পড়ছে কি না তা স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি বড় কোনো ক্রীড়া আসর যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়োজক দেশের পর্যটন বাড়াবে– তারও নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না, যেমনটি দেখা গেছে ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের ক্ষেত্রে।
এই বিষয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চার্লস দ্য পিসি এজেন্সির প্রধান নির্বাহী ও ট্রাভেল বিশ্লেষক পল চার্লস বলেছেন, ‘এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের দেখার সুযোগ রয়েছে, এমন অভিজ্ঞতার জন্য সমর্থকরা যেকোনো জায়গায় যেতে প্রস্তুত থাকেন। এক্ষেত্রে আয়োজক দেশের নীতি বা রাজনীতি যাই হোক না কেন। তবে নিরাপত্তাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই দর্শনার্থীরা আশা করছেন আয়োজক শহরগুলোতে পরিস্থিতি শান্ত থাকবে এবং জুন-জুলাইয়ের জন্য পরিকল্পিত ভ্রমণে তাদের ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স বৈধ থাকবে।’

আমাদেউসের তথ্যমতে– প্রতিদিনের বুকিংয়ের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আবেদন হয়েছে নিউইয়র্ক সিটিতে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচটির (১৪ জুন) জন্য। যেখানে ২,৫০০–এর বেশি ফ্লাইট বুকিং হয়েছে। এ ছাড়া কানাডা ও মেক্সিকোতেও হোটেল বুকিং বেড়েছে। মেক্সিকো সিটিতে নির্ধারিত তিন ম্যাচের আগের রাতগুলোতে হোটেলের গড় দখল হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ শতাংশে, যেখানে গত বছর একই সময়ে ছিল মাত্র ৪ শতাংশ।
এএইচএস