কোচ ম্যাচ পেছানোর দাবি জানালেও ‘বিশেষ উপায়ে’ মেক্সিকো যাচ্ছে ইরাক

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়েছে ইরাকেও। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের প্লে অফ ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন তাদের জাতীয় ফুটবল দলের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড। বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ সংস্থা ফিফার কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে খেলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ইরাক।
বিজ্ঞাপন
ইরাকি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোচের আপত্তি সত্ত্বেও তারা মেক্সিকোতে দল পাঠাচ্ছে। আগামী ৩১ মার্চ মন্টেরিতে তারা মুখোমুখি হবে বলিভিয়া কিংবা সুরিনামের মধ্যকার আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফ বিজয়ী দলের বিপক্ষে। এই ম্যাচের জন্য ইরাক দলকে ব্যক্তিগত বিমানে মেক্সিকোতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা শুরু করে। তারপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে আকাশপথ সীমিত হয়ে পড়ে। এই হামলার জেরে ইসরায়েল, গালফ রাজ্য ও অন্য নিকটস্থ দেশগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান।
ইরাকি সংবাদ সংস্থার এক ভিডিও বার্তায় ইরাকের শীর্ষ ফুটবল সংস্থার প্রধান আদনান দির্জাল জানিয়েছেন, মেক্সিকো ভ্রমণের ‘ভয়াবহ জটিলতা’ নিয়ে তিনি ফিফাকে চিঠি দিয়েছিলেন। এতে সাড়া দিয়ে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেল ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রোমকে নির্দেশ দিয়েছেন, ইরাক জাতীয় দলের মেক্সিকো যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যেন সব ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার দোরগোড়ায় ইরাক। দির্জাল নিশ্চিত করেছেন, মেক্সিকোতে প্রবেশের ভিসা তারা পেয়েছে। তবে ইউরোপিয়ান ফুটবলে খেলা ফুটবলাররা আলাদাভাবে যোগ দেবেন। ইরাকি ফুটবল সংস্থার প্রধান বলেন, ‘সবার প্রতি আমার বার্তা: আর মাত্র ১৭ দিন বাকি। আমাদের এখন শুধু ম্যাচ নিয়ে ভাবতে হবে এবং প্রস্তুতি প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য একটা, বিশ্বকাপে ওঠা।’
দির্জাল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের এবং কোচিং স্টাফের একমাত্র লক্ষ্য হলো খেলোয়াড়দের জন্য এমন এক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তারা সব চিন্তা বাদ দিয়ে কেবল মাঠের লড়াইয়ে মনোযোগ দিতে পারে। কারণ, কোটি কোটি ইরাকি সমর্থকের দীর্ঘদিনের লালিত বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণ করাই এখন তাদের প্রধান সার্থকতা।
এফএইচএম/