ডি ককের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে ক্যারিবীয়দের সিরিজ হারাল প্রোটিয়ারা

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত কেবল একবার ২৫০–এর বেশি রানের লক্ষ্য তাড়ায় জয়ের রেকর্ড আছে। তিন বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার সেই ইতিহাসগড়া জয়ের পথে সেঞ্চুরি করেছিলেন ওপেনার কুইন্টন ডি কক। একই প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ভেন্যু সেঞ্চুরিয়নে আরও একবার তার রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে ২২১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দাপুটে জয় পেয়েছে প্রোটিয়ারা। এক ম্যাচ হাতে রেখেই তারা সিরিজ নিশ্চিত করেছে।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) সেঞ্চুরিয়নের সুপার স্পোর্টস পার্কে জয় নিশ্চিতের পথে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন অবসর ভেঙে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ফেরা ডি কক। বাঁ–হাতি এই তারকা ওপেনার ৪৯ বলে ৬ চার ও ১০ ছক্কায় ১১৫ রান করেছেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের কেবল দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে নির্দিষ্ট ভেন্যুতে (সেঞ্চুরিয়ন) দুটি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করলেন ডি কক। তার আগে এই কীর্তি ছিল কেবল নিউজিল্যান্ডের কলিন মানরোর (মাউন্ড মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে)।
এ ছাড়া ছেলেদের টি-টোয়েন্টিতে উইকেটরক্ষক ব্যাটার হিসেবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডে আগে থেকেই শীর্ষে ছিলেন ডি কক। এবার করলেন অষ্টম সেঞ্চুরি। এ ছাড়া সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ইশান কিষাণ ও কামরান আকমল সমান ৫ এবং সঞ্জু স্যামসন ৪টি সেঞ্চুরি করেছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এতদিন একাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল ডেভিড মিলার ও রাইলি রুশোর। সমান দুটি সেঞ্চুরিতে তাদের পাশে বসলেন ডি কক। এখন পর্যন্ত পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দেড়শ রানের জুটি রয়েছে ৬টি, যার চারটিতেই আছেন ডি কক। প্রতিবারই তার সঙ্গী ছিলেন নতুন কেউ। এ ছাড়া আর কোনো ব্যাটারেরই একাধিক দেড়শ রানের জুটি গড়ার রেকর্ড নেই।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও গড়েছেন কুইন্টন ডি কক। ৩৩ বছর বয়সী এই ব্যাটার ৪১৬ ইনিংসে ১২১১৩ রান করেছেন। এদিন তিনি ছাড়িয়ে যান ফাফ ডু প্লেসিকে। সাবেক এই প্রোটিয়া অধিনায়ক ৪০৭ ইনিংসে করেছিলেন ১২০৪১ রান। ৫০০ ইনিংসে ১১৭১১ রান নিয়ে এর পরই অবস্থান ডেভিড মিলারের।
রায়ান রিকেলটনের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৭১ বলে ১৬২ রানের জুটি গড়েন ডি কক। ফলে মাত্র ১৭.২ ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২২২ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। যা টি-টোয়েন্টিতে দুইশ’র বেশি লক্ষ্য তাড়ায় চতুর্থ দ্রুততম। রিকেলটন ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৭ রান করেন। ফলে ১৫ বল এবং ৭ উইকেট হাতে রেখেই টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জিতেছে এইডেন মার্করামের দল।

এর আগে সিরিজে সমতায় ফেরার লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবীয়রা দলীয় ৭ রানেই অধিনায়ক শাই হোপকে হারায়। এরপর আরেক ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ও শিমরন হেটমায়ার মিলে গড়েন ১২৬ রানের জুটি। ৩০ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৯ রানে আউট হন কিং। হেটমায়ার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪২ বলে ৭৫ রানের ইনিংস সাজিয়েছেন ৮ চার ও ৩ ছক্কার সাহায্যে। এ ছাড়া শেষদিকে রোমারিও শেফার্ডকে সঙ্গে নিয়ে ৩১ বলে ৭৬ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন শেরফান রাদারফোর্ড। ফলে দুইশ পেরোনো লড়াকু পুঁজি পায় সফরকারী উইন্ডিজরা।
রাদারফোর্ড ২৪ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৭ এবং শেফার্ড ১০ বলে একটি করে চার-ছক্কায় ১৭ রান করেন। ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২২২ রান। প্রোটিয়া স্পিনার কেশভ মহারাজ নেন ২ উইকেট।
এএইচএস