ইংলিশ ফুটবলে ‘আস্থা হারিয়ে’ স্বদেশি ক্লাবে যোগ দিলেন ব্রাজিল তারকা

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে চুক্তির আরও ১৮ মাস বাকি ছিল ব্রাজিলিয়ান তারকা মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার। মাঝমাঠে তার কার্যকারিতার জন্য ২০২৩ সালে ম্যানচেস্টার সিটি তাকে প্রায় ৮০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ই তার বিরুদ্ধে স্পট-ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। সে কারণে খেলায় ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি লোভনীয় প্রস্তাবেও সাড়া দেওয়া হয়নি পাকেতার। পুরো সময়ে তার পাশে ছিল ওয়েস্ট হ্যাম।
ইংলিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষের (এফএ) সেই অভিযোগের বিপরীতে শেষ পর্যন্ত নির্দোষ বলে রায় এলেও, পুরো সময়ে অস্বস্তি ও দুশ্চিন্তায় কাটিয়েছেন পাকেতা। সেই কারণে এফএ’র ওপর তিনি আস্থা হারিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া শৈশবের ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোতে ফিরতে পারেন বলে মাঝে গুঞ্জন ছিল। সেটাকে সত্যি প্রমাণ করে ৪১ মিলিয়নেরও বেশি ইউরোয় (প্রায় ৩৫.৫ মিলিয়ন পাউন্ড) ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটিতে ফিরলেন পাকেতা। ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের শুরুটা হয়েছিল এই ফ্ল্যামেঙ্গোর হয়ে।
ফরাসি ক্লাব লিঁও থেকে পাকেতা ওয়েস্ট হ্যামে যোগ দেন ২০২২ সালে। সবমিলিয়ে ক্লাবটির হয়ে হয়ে ১৩৯ ম্যাচ খেলে তিনি ২৩ গোলের পাশাপাশি ১৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে শীতকালীন ট্রান্সফার ডেডলাইন। তার আগে স্থায়ী চুক্তি সম্পন্ন করতে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই পাকেতাকে নিজ দেশে যাওয়ার অনুমতি দেয় ওয়েস্ট হ্যাম। যদিও লন্ডনের ক্লাবটি চেয়েছিল তাকে ধারে (লোন) পাঠাতে। বিপরীতে ফ্ল্যামেঙ্গো স্থায়ী চুক্তি করায় অনড় ছিল এবং শেষ পর্যন্ত ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তিতে তাকে দলে ভিড়িয়েছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকেতার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন– ফিক্সিংয়ের তদন্ত চলাকালে তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে, তিনি ইংলিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা হারান এবং দেশীয় ক্লাবে ফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ফ্ল্যামেঙ্গোতে ফেরার গুঞ্জনের মধ্যে তিনি ব্রাজিলিয়ান গসপেল জুটি জেফারসন ও সুয়েলেনের গান থেকে একটি লাইন উদ্ধৃত করেছিলেন। যার অর্থ– ‘আমি এখানকার নই, আমি ঘরে ফিরে যাব, তিনি আমাকে নিতে আসবেন এবং আমি তার সঙ্গেই চলে যাব।’ শেষ পর্যন্ত পাকেতা অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হলেও, তিনি ব্রাজিলে ফেরার জন্য চাপ দিয়ে যেতে থাকেন।
২৩ ডিসেম্বর ওয়েস্ট হ্যাম ও ফ্ল্যামেঙ্গোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়, যার নেতৃত্ব দেন ফ্ল্যামেঙ্গোর স্পোর্টিং ডিরেক্টর হোসে বোতো। আলোচনা শেষ হয় ২৮ জানুয়ারি। শুরুতে ওয়েস্ট হ্যাম প্রায় ৫২ মিলিয়ন পাউন্ড দাবি করলেও দরকষাকষির মাধ্যমে ফি কমে দাঁড়ায় ৩৫.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে, যা কোনো ব্রাজিলিয়ান ক্লাবের দেওয়া সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি। ওয়েস্ট হ্যাম মূল্য নিয়ে নমনীয় থাকতে চেয়েছিল, যাতে অবনমন এড়াতে পাকেতা মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত ধারে থেকে যান। তবে তার মনে হয়েছিল, লন্ডনে তার সময় শেষ হয়ে এসেছে, আর তার প্রতিনিধিরাই শেষ পর্যন্ত তাকে রিও ডি জেনেইরোতে ফেরার পথ সুগম করেন।
— Transfer News Live (@DeadlineDayLive) January 30, 2026
ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে পাকেতার চুক্তির মেয়াদ ১৮ মাস বাকি ছিল। চলতি মৌসুমে তিনি প্রিমিয়ার লিগে ১৮টি ম্যাচ খেলে চারটি গোল করেছেন। তবে পাকেতা সম্ভবত ওয়েস্ট হ্যামে ভালো স্মৃতিতেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন ইউরোপা কনফারেন্স লিগ জয়ে দারুণ অবদান রাখায়। ক্লাবটিতে খেলার সময় তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন এবং সাবেক কোচ ডেভিড ময়েসের অধীনে ক্লাবের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী দল হয়ে ওঠায় তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
এএইচএস