আর্সেনালের শিরোপার স্বপ্নে বড় ধাক্কা দিলো ম্যানইউ

আগের ম্যাচে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে থাকা ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। মাইকেল ক্যারিকের শিষ্যরা এবার শীর্ষ দল আর্সেনালকে হারাল। এমিরেটস স্টেডিয়ামে ৩-২ গোলের হারে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার স্বপ্নে বড় ধাক্কা খেল গানাররা। পাঁচ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ম্যাথিউস কুনহা শেষ মুহূর্তে একটি দুর্দান্ত গোল করেন।
ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাস্টন ভিলা উভয় দলকেই জিততে দেখেছে আর্সেনাল। তাতে তাদের চ্যাম্পিয়নশিপের ব্যবধান চার পয়েন্টে কমে যায়। ব্যবধান বাড়াতে জয়ের লক্ষ্যে নেমে আর্সেনাল ২৯তম মিনিটে লিড নেয়। ইউনাইটেড ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ বলটি নিজের জালে জড়ান।
তবে মার্টিন জুবিমেন্দির হাস্যকর ব্যাকপাসের সুযোগ নিয়ে ব্রায়ান এমবিউমো ইউনাইটেডকে সমতায় ফেরান এবং হাফটাইমের পাঁচ মিনিট পর প্যাট্রিক ডরগু একটি বিধ্বংসী শট নেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার ছয় মিনিট আগে মিকেল মেরিনো কর্নার থেকে বল জালে ঠেলে দিয়ে আর্সেনালের জন্য একটি মূল্যবান পয়েন্ট উদ্ধার করার আভাস দেন। কিন্তু তার ঠিক তিন মিনিট পর বদলি খেলোয়াড় কুনহা তার দলের দ্বিতীয় দর্শনীয় গোলটি করেন। তাতে ইউনাইটেডের অন্তর্বর্তীকালীন ম্যানেজার হিসেবে ক্যারিক টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেন।
এমিরেটসে চলতি মৌসুমে নিজেদের সমর্থকদের সামনে প্রথম হার দেখল আর্সেনাল। তাতে ২২ বছরের শিরোপার অপেক্ষার অবসানের আশায় বড় ধাক্কা লাগল। গত তিন মৌসুম ধরে লিগে দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ করার কারণে মিকেল আর্তেতার খেলোয়াড়রা হতাশায় ডুবেছিল।
বুকায়ো সাকা বলটি চিপ করে মার্টিন ওডেগার্ডের দিকে বাড়িয়ে দেন এবং জুরিয়েন টিম্বারের দিকে নরওয়েজিয়ান তারকার নেওয়া ভলিটি মার্তিনেজের দাঁড়িয়ে থাকা পায়ে লেগে সেনে ল্যামেন্সকে ফাঁকি দিয়ে জালে ঢোকে। কিন্তু স্বাগতিকদের এগিয়ে যাওয়ার আট মিনিট পরেই ইউনাইটেড সমতায় ফেরে। সমতাসূচক গোলের আগেও আর্সেনালের জন্য সতর্কবার্তা ছিল। এমবিউমো রায়ার গোলের দিকে এগিয়ে যান, কিন্তু তিনি আর্সেনালের রক্ষণকে পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি এবং ফার্নান্দেজ তার সতীর্থের কাটব্যাকটি ঠিকমতো মারতে ব্যর্থ হন।
এরপর আরও একটি সুযোগ আসে যখন আর্সেনালের উদাসীনতার কারণে। তবে সালিবা ফার্নান্দেজকে বাধা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন, তার প্রচেষ্টা ডেভিড রায়াকে বিপদে ফেলতে পারেনি। জুবিমেন্দির রায়ার উদ্দেশ্যে দেওয়া ভুল ব্যাকপাসটিই এমবিউমোকে একটি সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের লক্ষ্যভ্রষ্ট পাসটি নিয়ন্ত্রণে নিতে এমবিউমো একবার বলে পা লাগান, এরপর রায়াকে কাটাতে দ্বিতীয়বার বল স্পর্শ করে তৃতীয়বারের টোকায় জাল কাঁপান।
এমিরেটসের ভেতরে স্নায়ুচাপ বাড়ছিল এবং দ্বিতীয়ার্ধের পাঁচ মিনিটের মাথায় ইউনাইটেড লিড নিলে আর্সেনাল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়। ডরগু ফার্নান্দেজের সঙ্গে দুইবার ওয়ান-টু খেলে ২০ গজ দূর থেকে একটি লাফানো হাফ-ভলি শট নেন, যেটা ক্রসবারের নিচের অংশে লেগে জালে জড়ায়।
বলটি ডরগুর হাতে লেগেছিল কি না তা দেখার জন্য ভিএআর চেক করা হয়। কিন্তু গোলটি বহাল থাকে। ম্যাচের মোড় আর্সেনালের দিকে ফেরানোর প্রচেষ্টায় আর্তেতা একসাথে চারজন খেলোয়াড় বদল করেন- যার মধ্যে দল থেকে বাদ পড়া ভিক্টর গিয়োকেরেস এবং ফর্মে না থাকা এবারিচি এজে-ও ছিলেন।
ম্যাচ শেষ হওয়ার ২০ মিনিট আগে মেরিনোর শট ডাইভ দেওয়া হ্যারি ম্যাগুয়েরের হাতে লাগলে আর্সেনাল পেনাল্টির দাবি জানায়। কিন্তু রেফারি ক্রেগ পসন তাতে সাড়া দেননি। আট মিনিট বাকি থাকতে সাকা ল্যামেন্সকে একটি ভালো সেভ করতে বাধ্য করেন এবং সেই কর্নার থেকেই আর্সেনাল সমতায় ফেরে।
ইউনাইটেড সাকার বাড়ানো সামলাতে পারেনি এবং বেঞ্জামিন সেসকো বলটি ক্লিয়ার করার আপ্রাণ চেষ্টা করা সত্ত্বেও মেরিনো বলটি জালে ঠেলে দেন।
ঘরের মাঠের সমর্থকরা হয়তো নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর জয়ের কথা ভাবছিলেন। কিন্তু কুনহার পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম। তাকে বল নিয়ে ঘোরার সুযোগ দেওয়া হলে তিনি ২০ গজ দূর থেকে একটি চমৎকার বাঁকানো শটে গোল করে আর্সেনালের চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের অভিযানে বড় ধাক্কা দেন।
২৩ ম্যাচ শেষে আর্সেনাল ৫০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই থাকল। তবে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ম্যানসিটি ও অ্যাস্টন ভিলা। ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে ম্যানইউ চতুর্থ স্থানে উঠে গেছে।
এফএইচএম/