পরবর্তী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে চাই : সোবহানা

সদ্য সমাপ্ত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। দলের এমন কীর্তিতে বড় অবদান সোবহানা মোস্তারির। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। তার প্রত্যাশা, দলের এই ধারবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে পরের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে পারবে টাইগ্রেসরা।
আসর জুড়েই পরিস্থিতি বুঝে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটিং করেছেন, রানের দেখাও পেয়েছেন সোবহানা। ৭ ম্যাচে ৫২ গড়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে ২৬২ রান। যেখানে ১৪৫ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করেছেন তিনি। দারুণ সময় পার করা সোবহানার সঙ্গে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া প্রতিবেদক সাকিব শাওন।
বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, এটা নিশ্চয়ই স্বস্তির...
সোবহানা : হ্যাঁ, অবশ্যই, যতবার আমরা কোয়ালিফাই খেলেছি ততবারই আমাদের জন্য একটা দুশ্চিন্তার বিষয় থাকত। যদিও এখানে যে চার-পাঁচটা দল থাকে তারা একই রকম রেঞ্জের। তারপরও আমরা নিজেদেরকে সেরা মনে করে খেলেই কোয়ালিফাই করেছি, আমরা তিন-চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি আগেও। যেহেতু এখন বিশ্বকাপটা নিশ্চিত করতে পেরেছি এ কারণে আমরা অনেকটা স্বস্তিতে আছি। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা আমাদের স্বাভাবিক ক্রিকেটটাই খেলেছি।
বাছাইপর্বে অপরাজিত বাংলাদেশ, এমন পারফরম্যান্সের রহস্য কী?
সোবহানা : আপনি দেখবেন যে, আমরা আগে যখন কোয়ালিফাই খেলতাম। তখন আমরা সর্বোচ্চ ১১০-২০ রান করতে পারতাম। নরমালি ব্যাটাররা আমরা এবার ভালো ছন্দে ছিলাম। ভালো ফিনিশও করেছে, আমার মনে হয় যে আমরা বেশ কয়েকটা ম্যাচ আগে ব্যাটিং করেছি। সবশেষ ম্যাচটা আজকে চেজ করেছি। এবার ১৫০ প্লাস করে করেছি প্রায় ম্যাচেই। যে কারণে আমাদের বোলারদের জন্য কাজটা সহজ হয়ে গেছে।
সব বিভাগেই দলের উন্নতি হয়েছে...
সোবহানা : সত্যি কথা বলতে আমরা আসলে অনেক কষ্ট করেছি। আমাদের বোলিং, ফিল্ডিং কিংবা ব্যাটিং সব বিভাগে কিন্তু আমরা একসাথে জ্বলে উঠতে পেরেছি। কোয়ালিফায়ারে আসার আগে আমরা ঘরের মাঠে একটা টুর্নামেন্ট খেলেছিলাম। সেখানে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট ছিল, আমরা ভালো ভালো ইনিংস খেলেছিলাম। সেটা আসলে কাজে দিয়েছে এখানে এসে। আসলে আমরা দেশের মতো একটা উইকেট পেয়েছিলাম। যে কারণে আমাদের ভালো করতে সহজ হয়েছে, আর আমরা বোলিং-ফিল্ডিং সবসময়ই ভালো করি।
টানা ৭ ম্যাচে জয়, কাজটা কতটা কঠিন ছিল?
সোবহানা : প্রথমত, আমরা আসলে গ্রুপ পর্ব থেকে টার্গেট করেছিলাম, এখান থেকে ভালো পয়েন্ট নিয়ে যেন আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারি। আমাদের খেলাটা সহজ হয়ে যাবে, যে কারণে আসলে আমরা অনুশীলন ম্যাচ থেকে এই ধারাটা অব্যাহত রেখেছি। শেষে যখন বড় দলকে পাবো তখনও যাতে এটা ধরে রাখতে পারি। আসল কথা হচ্ছে আমরা এবার কোয়ালিফাইটা নিশ্চিন্তে কাটাতে পেরেছি। আশা রাখবো এরপর থেকে যেন আমাদের আর কোয়ালিফাই না খেলতে হয়।

শুরুতে কি ভেবেছিলেন চ্যাম্পিয়ন হবেন?
সোবহানা : ২০১৯ সালে এবং ২০২২ সালে আমরা কোয়ালিফায়ারে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এবার আমাদের আরো বেশি কনফিডেন্স ছিল, সবাই রানে ছিল, ভালো টাচে ছিল বোলিংয়েও। এই কারণে আসলে কনফিডেন্ট ছিল যে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারব।
টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেরা রান সংগ্রাহক হয়েছেন...
সোবহানা : আমি এটা নিয়ে আসলে বলবো যে, আমি ভেবেছি কীভাবে কোন সময়ে কোন শট খেলতে হবে। আমি খুব বেশি আশা করিনি। এরকম ভালো করতে পেরেছি টুর্নামেন্টে, আলহামদুলিল্লাহ। আসলে দলের জন্য কনট্রিবিউট করতে পেরেছি বলেই ভালো লাগছে।
আপনার ব্যাটিংয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে...
সোবহানা : এটা আমিও দেখেছি যে, উন্নতি হয়েছে। ওয়ানডে বিশ্বকাপটা ছিল কিন্তু অনেক বেশি বলের খেলা। আর টি-টোয়েন্টি কম বলের খেলা। এখানেও আমি পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করেছি। এই সময়ে আসলে বল কম পাওয়া যায় খেলার জন্য। চেষ্টা করেছি, সফল হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও পেলাম।
ওয়ানডে বিশ্বকাপের ব্যাটিং নিয়ে আলাদা করে কোনো কাজ করেছেন?
সোবহানা : যখন যে কোচই দলের সঙ্গে কাজ করে থাকেন সেই কোচের সঙ্গেই কাজ করা হয়ে থাকে আমার। এবার আমাদের দলের সাথে ডেভিড হ্যাম্প এসেছে, তার সাথে কাজ করেছি। সে অনেক হেল্প করেছে আমাকে। ছোট ছোট কিছু টিপস দিয়েছে যেটা আসলে কাজে লেগেছে ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে।
এই সাফল্যে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেই হারগুলোর কষ্ট কিছুটা কমেছে কি?
সোবহানা : ওটা ওয়ানডে বিশ্বকাপের ম্যাচ ছিল। আর বিশ্বকাপের মতো জায়গায় ওরকম ম্যাচ হারলে তো আসলে কষ্ট লাগবেই। ওই ম্যাচগুলো যদি জিততে পারতাম তাহলে অন্যরকম ভালোলাগা থাকতো। ওই কষ্টের সাথে আসলে এই জয়গুলো আমি মেলাতে চাই না। ওই সময়ে আমরা আসলে কী দিন পার করেছি সেটা কেবল আমরাই জানি, এত ক্লোজ ম্যাচ আমরা হেরেছি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ারে ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে ভালো করেছি এটা আসলে ভালো দিক।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর নারী ক্রিকেটে মাঠের বাইরের নানা বিষয় নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে, এটা আপনাদের মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি?
সোবহানা : আমরা পেশাদার ক্রিকেটার, এখানে আসলে কোনো কিছু নিয়ে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। এই ধরনের সমস্যা কম-বেশি আসলে সবখানেই থাকে। তবে হ্যাঁ, আমরা সবাই কিছুটা খারাপ সময় পার করেছি তখন। তবে ধীরে ধীরে সব কিছু কাটিয়ে উঠেছি। ওই সময় আমাদের এনসিএল খেলা চলছিল। আমরা সেটার দিকে ফোকাসড ছিলাম সবাই, আসলে খেলা নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম।
ইংল্যান্ডের মাটিতে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, কীভাবে প্রস্তত হবেন?
সোবহানা : বিশ্বকাপের আগে আমাদের হোম সিরিজ রয়েছে শ্রীলংকার বিপক্ষে। এরপর প্রিমিয়ার লিগ রয়েছে আর বিশ্বকাপের আগে হয়তো বিসিবি একটা সিরিজ আয়োজন করতে পারে আমাদের জন্য। যেহেতু খুব বেশি সময় নেই, চার-পাঁচ মাস রয়েছে। আমরা আসলে ফিটনেস বা অন্যান্য যা আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করব। যে সিরিজগুলো থাকবে সেখানে পারফর্ম করার চেষ্টা করব। তবে ভালো কিছুই করতে চাই।
দেশের নারী ক্রিকেটের সবচেয়ে স্টাইলিশ ব্যাটারদের মধ্যে আপনি একজন। অনেকে লিটন দাসের সঙ্গে আপনার ব্যাটিংয়ের তুলনা করে...
সোবহানা : লিটন ভাই দারুণ ব্যাটার, তার খেলা দেখতে খুব ভালো লাগে, খুবই স্টাইলিশ ব্যাটিং করেন। ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল যদি কখনো ভালো জায়গায় খেলতে পারি তাহলে সেটা আমি নিজের মতো করে খেলতে চাই। সেভাবেই আমি আসলে ব্যাটিং করি।
ক্রিকেটে আপনার আইডল কে?
সোবহানা : হারমানপ্রীত কৌর আমার চাইল্ডহুড আইডল। আর ব্যাটার হিসেবে আমি লরা ওলভার্ডের ব্যাটিং পছন্দ করি।
এসএইচ/এইচজেএস
