ফিলিস্তিন-ইউক্রেনসহ বিশ্বজুড়ে ‘গণহত্যা’ নিয়ে মুখ খুললেন গার্দিওলা

ব্যাকফুটে অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের দুইয়ে উঠে আসা দলটির ম্যানেজার পেপ গার্দিওলাও স্বভাবতই চাপ কাটিয়ে উঠছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ফিলিস্তিতে মানবিক বিপর্যয় নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। একইভাবে ইউক্রেন, রাশিয়া, সুদানসহ বিশ্বজুড়ে চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থাকার কথা জানিয়েছেন এই স্প্যানিশ কিংবদন্তি কোচ।
নিজের হোম সিটি বার্সেলোনায় ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন গার্দিওলা। দ্রুতই তাকে সেখান থেকে ফিরতে হয়েছে ক্লাবের ম্যাচ থাকার সুবাদে। আজ (বুধবার) রাতে ইংলিশ লিগ কাপের ম্যাচে নিউক্যাসলের বিপক্ষে লড়বে সিটি। তবে কিছুটা দেরিতেই কোচ দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। এমনকি ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনেও ছিলেন না গার্দিওলা। দেরি হলেও অবশ্য তিনি ঠিকই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন, তবে ফুটবলের চেয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের জন্য ‘মানবিক আবেদন’ প্রাধান্য পেয়েছে সিটি কোচের কণ্ঠে।
গার্দিওলা বলছেন, ‘মানবজাতির ইতিহাসে এই প্রথম আমরা চোখের সামনে এত স্পষ্টভাবে সবকিছু দেখতে পাচ্ছি। ফিলিস্তিনে গণহত্যা হয়েছে, ইউক্রেনে যা হয়েছে, রাশিয়া-সুদানসহ বিশ্বজুড়ে যা ঘটছে– সবই আমরা দেখছি। সারা বিশ্বের যুদ্ধের ছবি যিনি দেখেন, তিনি কি প্রভাবিত হন না? এখানে ঠিক-ভুলের প্রশ্ন নয়; হয়তো কেউ বামপন্থী, কেউ ডানপন্থী রাজনীতিবিদ হতে পারেন– কিন্তু প্রতিদিন যা ঘটছে, তাতে কি কেউ প্রভাবিত না হয়ে থাকতে পারেন? আজ আমাদের সামনে সবকিছুই স্পষ্ট। আগে পারতাম না, এখন দেখি, আর সেটা আমাকে কষ্ট দেয়।’

যখনই যেখানে নির্দিষ্ট আদর্শের নামে মানুষকে হত্যা করা হবে সেখানেই প্রতিবাদী অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা সাবেক এই বার্সা কোচের, ‘যদি উল্টো দিকেও এমনটা হতো, তবু আমার কষ্ট হতো। অন্য একটি দেশের ক্ষতি চাওয়া আমাকে কষ্ট দেয়। হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে পুরোপুরি হত্যা করা আমাকে কষ্ট দেয়। বিষয়টা এতটাই সরল, এর বেশি কিছু নয়। আমার অনেক দেশে অনেক বন্ধু আছে। কিন্তু যখন কোনো আদর্শ রক্ষার নামে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে হয়– দুঃখিত, আমি এর বিরুদ্ধে দাঁড়াব। সবসময়ই দাঁড়াব।’
‘মানুষ ও মানবজীবনকে রক্ষা করাই একমাত্র আসল বিষয়। যে মানুষগুলো বাধ্য হয়ে নিজের দেশ ছেড়ে পালায়, সমুদ্রে নেমে নৌকায় করে বাঁচার চেষ্টা করে– তাদের ঠিক না ভুল সেটা জিজ্ঞেস করবেন না, আগে উদ্ধার করুন। এটা একজন মানুষের ব্যাপার। এরপর আমরা একমত হতে পারি বা সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু যখন মানুষ মারা যাচ্ছে, তখন আপনাকে সাহায্য করতেই হবে’, আরও যোগ করেন ৫৫ বছর বয়সী এই কোচ।
ক্রীড়াঙ্গনে ব্যস্ত থাকলেও, সবসময় ন্যায়বিচারের কথা বলা উচিত এবং অন্যথায় তা চাপা পড়ে যায় বলে ধারণা গার্দিওলার। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান অভিবাসনবিরোধী অবস্থানেরও সমালোচনা করেন তিনি, ‘কথা বলার মাধ্যমে সবসময় নিজের অবস্থান কাজে লাগাতে চাই। আমার দৃষ্টিতে ন্যায়বিচার মানে কথা বলা। নইলে সবকিছু চাপা পড়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে কী হয়েছে দেখুন, রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হয়েছেন। ভাবুন, এনএইচএসের (যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস) কেউ, চারপাশে পাঁচ–ছয়জন মানুষ ঘাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, আর তাকে গুলি করা হলো। আমাকে বলুন তো, এটা কীভাবে সমর্থন করা যায়?’
এএইচএস