শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনীতে দুয়ো শুনল ইসরায়েলি দল

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদার ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র। এশিয়া-আমেরিকা-ইউরোপসহ অনেক দেশে এ নিয়ে অনেক বিক্ষোভও হয়েছে। একইভাবে ক্রীড়াঙ্গনেও ক্ষোভের মুখে পড়ে ইসরায়েল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ইতালিতে শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনীতেও দর্শকদের দুয়ো শুনেছে ইসরায়েলের কন্টিনজেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই অভিজ্ঞতার শিকার হন।
গতকাল (শুক্রবার) মিলানো-কোর্তিনা ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল। যেখানে স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় ইসরায়েলের অলিম্পিক দলকে দুয়োধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানায় দর্শকরা। যদিও সামগ্রিকভাবে অনুষ্ঠানটি ছিল উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত। চার সদস্যের ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল জাতীয় পতাকা নাড়িয়ে ও হাসিমুখে সান সিরো স্টেডিয়ামে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া দুয়োধ্বনি দ্রুতই উচ্চ শব্দের সঙ্গীতে ঢাকা পড়ে যায়।
অন্যদিকে, বড় পরিসরে যোগ দেওয়া মার্কিন দলকে স্বাগত জানাতে প্রথমে করতালি শোনা গেলেও, স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সকে দেখানো হলে তা দুয়োধ্বনিতে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। মূলত তারই রেশ দেখা গেল ইতালিতেও, যা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উসকানি জুগিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ভ্যান্সের প্রতি শীতল প্রতিক্রিয়া অপ্রত্যাশিত ছিল না। অলিম্পিক চলাকালে মার্কিন প্রতিনিধিদলকে সহায়তা দিতে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) একটি শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা কাজ করবেন– এই তথ্য প্রকাশের পর ইতালিতে প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়।
শুক্রবার মিলানে ‘আইসিই আউট’ স্লোগানে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। কোর্তিনা ডি’আম্পেজ্জোতে পাহাড়ি ক্লাস্টারে অবস্থানরত ক্রীড়াবিদদের জন্য সমান্তরাল কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে মার্কিন দলকে বেশ উষ্ণ স্বাগত জানানো হয় এবং ইসরায়েলি ক্রীড়াবিদরাও কিছু করতালি পান। পরে স্কি জাম্পিং ভেন্যু প্রেদাজ্জোতেও ইসরায়েল দলের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয় দুয়োধ্বনি।
অবশ্য গাজায় লাগাতার হামলার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিলেন ইসরায়েলি ক্রীড়াবিদরা। ইসরায়েলের স্কি খেলোয়াড় বার্নাবাস সজোলোস বলেন, ‘আমি প্রস্তুত। তারা যা খুশি করতে পারে। আমি শুধু ভালো একটা রেস করতে চাই, উপভোগ করতে চাই এবং নিজের সেরাটা দিতে চাই।’
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্যমতে– গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৫৬০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। একই সময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, অলিম্পিক ইতিহাসেও রয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেদনাদায়ক এক অধ্যায়। মিউনিখে ১৯৭২ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে অলিম্পিক ভিলেজে এক হামলায় দেশটির ১১ জন ক্রীড়াবিদ নিহত হন। যাতে জড়িত থাকার অভিযোগ ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিপক্ষে।
এএইচএস