ক্যাচ মিসের পর হারল নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তানের ‘ত্রাতা’ ফাহিম

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ঝোড়ো শুরু পাওয়ার পর ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। ১৬ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে যেন ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ তকমা প্রমাণেই মরিয়া ছিল সালমান আলি আগার দল। তবে এক ক্যাচ মিসেই শেষ নেদারল্যান্ডসের স্বপ্ন, জীবন পেয়ে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে তাদের হার নিশ্চিত করেছেন ফাহিম আশরাফ। তার ১১ বলে ২৯ রানের ক্যামিওতে ৩ বল এবং ৩ উইকেট হাতে রেখে জিতে বিশ্বকাপ শুরু করল পাকিস্তান।
নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান উভয় দলেরই শুরুটা ছিল দারুণ। কিন্তু ফাহিমের শেষের ঝড়টাই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিলো। ১২.১ ওভারেই দলীয় একশ রান পূর্ণ করে নেদারল্যান্ডস। ৩ উইকেটে ১০৫ রান তোলার পরই তাদের বিপর্যয় শুরু হয়। আর ৪২ রান তুলতেই বাকি ৭ উইকেট হারিয়ে বসে ডাচরা। ফলে ১৯.৫ ওভারেই ১৪৭ রানে অলআউট নেদারল্যান্ডস। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে পাকিস্তান দলীয় শতক পায় ১২.২ ওভারে। তবে ৯৮ থেকে ১০০ রানের ভেতর হারায় ৩ উইকেট। শেষ পর্যন্ত বিপর্যয় সামলে জয় এসেছে ১৯.৩ ওভারে।

এর আগে আজ (শনিবার) কলম্বোর সিংহলিজ ক্লাব গ্রাউন্ডে টস জিতে নেদারল্যান্ডসকে ব্যাটিংয়ে পাঠান পাকিস্তানি অধিনায়ক সালমান আগা। উড়ন্ত শুরুর পর ২৮ রানে ওপেনার ম্যাক্স ও’দাউদকে (৫) হারায় ইউরোপীয় দেশটি। খানিক বাদেই আউট হন অপর ওপেনার মাইকেল লেভিট, এর আগে তিনি ১৫ বলে ২৪ রান করেন। বড় জুটি না পেলেও মিডল অর্ডারে ছোট ছোট ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন কোলিন অ্যাকারম্যান (২৫ বলে ৩০), বাস ডি লিড (১৪ বলে ২০) ও স্কট এডওয়ার্ডস (২৯ বলে ৩৭)।
অধিনায়ক এডওয়ার্ডসের ইনিংসটা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস নেদারল্যান্ডসের। এরপর আরিয়ান দত্তের ৮ বলে ১৩ রান ছাড়া আর কেউই দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। ফলে বড় পুঁজির আশা নিভে তারা সর্বসাকুল্যে পায় ১৪৭ রান। শেষ দিকে ডাচদের চেপে ধরে সালমান মির্জা ৩ এবং সাইম আইয়ুব ২ উইকেট শিকার করেন। সমান ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ নেওয়াজ ও আবরার আহমেদ।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে সাইম আইয়ুব ও সাহিবজাদা ফারহান উভয়েই মারমুখী ছিলেন। তবে জুটি ভাঙে ২৭ রানে। ১৩ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ২৪ রানে আউট হয়েছেন সাইম। মাঝে অধিনায়ক সালমান ৮ বলে ১২ রানে ক্যাচ দেন। তবে আরেকপ্রান্ত আগলে রেখে ঝড় তোলেন ফারহান। তিনি ৩১ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৭ রানে থামতেই পথ হারায় পাকিস্তান। উসমান খান (০), শাদাব খান (৮), বাবর আজম (১৫) ও নেওয়াজ (৬) দ্রুত ফিরলে দলটি হারের শঙ্কায় পড়ে। সেই শঙ্কা উড়িয়ে দেন ফাহিম। তবে তাতে প্রতিপক্ষ ফিল্ডারের পাশাপাশি সহায় ছিল ভাগ্য।

শেষ ৩ ওভারে জয়ের জন্য ২৯ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। প্রথম বলে ৬ হাঁকানোর পর লং অনে ক্যাচ দিয়েছিলেন ফাহিম আশরাফ। ও’দাউদের হাত থেকে বল ফসকাতেই জানে পানি পায় পাকিস্তান। ওই ওভারে ২৪ রান তুলে ফাহিম জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন। শেষ ওভারের ৩ বলে আসে কাঙ্ক্ষিত ও রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে জয়। ১১ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ২৯ রানে ফাহিম ও শাহিন আফ্রিদি ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। ডাচদের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন আরিয়ান ও পল ভ্যান মিকেরেন।
এএইচএস