অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশনে আলোচিত তারিক, ‘চাপ ভারতের ওপরই বেশি’

পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিক— আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং পারফরম্যান্স দিয়ে যতটা না আলোচনায়, তার চেয়ে বেশি আলোচিত বোলিং অ্যাকশন দিয়ে। গতকাল (মঙ্গলবার) যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে দলের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট পেয়েছেন। এবার তার ভারত পরীক্ষা। কিন্তু অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশনের কারণে ভারতীয় ভক্তরা তার মনোবলে ধাক্কা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। উসমান কিন্তু ভেঙে পড়ছেন না, তার মতে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে চাপ থাকবে ভারতের ওপর।
তারিক প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বের ব্যাপক নজরে আসেন তার বোলিং অ্যাকশন দিয়ে। তার অফব্রেক ডেলিভারিগুলোর রান-আপ অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু বল ছোড়ার মুহূর্তে তিনি থমকে দাঁড়ান। বল ডেলিভারি দেওয়ার ঠিক আগে প্রায় দুই সেকেন্ডের জন্য তিনি প্রায় সম্পূর্ণ স্থির হয়ে যান, এরপর একটি স্লিঙ্গিং সাইড-আর্ম অ্যাকশনে অফব্রেক ছুড়ে দেন। এমন বোলিং অ্যাকশনের কারণে পিএসএলের দুই আসরে এক বছরে দুইবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। দুইবারই সফলভাবে পরীক্ষায় উতরে গিয়ে বোলিং চালিয়ে যান।
বিশ্বকাপের আগে ধারণা করা হচ্ছিল, একবারে ভারতের বিপক্ষে হয়তো তাকে খেলানো হবে। তবে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামিয়ে তাকে প্রস্তুত করা হয়েছে। দলের হয়ে সেরা বোলিং করে এখন তিনি ভারতীয় ভক্তদের মাঝেও শোরগোল ফেলেছেন।
ভারতীয় সমর্থকদের মধ্যে চলমান আলোচনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে উসমান বলেন, ‘আমার ধারণা, চাপটা তাদের ওপরেই বেশি থাকবে। কারণ তারা যেভাবে এগুলো নিয়ে আলোচনা করছে— মানে তারা যদি কেবল আপত্তির খাতিরেই বিষয়টি নিয়ে পড়ে থাকে— তবে সেটা এটাই প্রমাণ করে যে তারা হয়তো বাড়তি চাপে আছে। তবে আমি এ নিয়ে নিশ্চিত নই। আমি আসলে আমার খেলার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। মিডিয়া বা অন্য কোথাও কী হচ্ছে, তা নিয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। বিষয়টা খুব সাধারণ, আমি শুধু আমার ক্রিকেট আর অনুশীলনে মনোনিবেশ করছি।’
১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটিকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে এই অফস্পিনার তার দলকে পরিকল্পনা সহজ রাখার আহ্বান জানান, ‘আমি মনে করি আমরা যে রেকর্ডগুলো লিখে রাখি, সেগুলো যেখানে আমরা হারতে শুরু করেছি সেখান থেকে না গুনে একদম শুরু থেকে গোনা উচিত। আপনি যদি শুরু থেকে দেখেন, তবে প্রথম থেকেই আমাদের রেকর্ড বেশ ভালো। তাই আমাদের সেগুলোও হিসাবে রাখা উচিত, কারণ সেগুলোও তো শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ ছিল। আর এছাড়া সামনে যে ম্যাচটি আসছে, সেটির ব্যাপারে আমাদের সবার ফোকাস একটাই— যেকোনো ম্যাচেই আমাদের সেরাটা দিতে হবে। এভাবে আমাদের এই বিশ্বকাপ জিততে হবে এবং সবার জন্য এটিকে স্মরণীয় করে রাখতে হবে। তাই আমার কাছে বা দলের কাছে এটি স্রেফ একটি সাধারণ ম্যাচ। কারণ, যখন আপনি মাথার মধ্যে অতিরিক্ত উত্তেজনা বা ওই জাতীয় কিছু বয়ে বেড়াবেন, তখন কাজটা কঠিন হয়ে যায়; তার চেয়ে সব কিছু সহজ রাখা ভালো। শুধু পরিকল্পনায় অটল থাকা, এটুকুই।’
এফএইচএম/