অ্যাতলেটিকোর কাছে বিধ্বস্ত বার্সেলোনা

প্রায় সবদিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষ অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের জালে একবারও বল জড়াতে পারেনি বার্সেলোনা। উল্টো হজম করেছে চার গোল। রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েই কোপা দেল রের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বড় ধাক্কা খেয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। বিপরীতে দিয়েগো সিমিওনের দল ফাইনালে ওঠার স্বপ্নে এক পা এগিয়ে গেল।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে অ্যাতলেটিকোর মাঠ মেট্রোপলিটন স্টেডিয়ামে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে বার্সেলোনা। তাদের জালে একে একে বল জড়িয়েছেন আঁতোয়ান গ্রিজম্যান, আদেমোলা লুকমান ও হুলিয়ান আলভারেজ। এর আগে বার্সার গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়ার ভুলে এরিক গার্সিয়ার করা আত্মঘাতী গোলটিও পায় অ্যাতলেটিকো। ৪-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে তারা ৩ মার্চ অ্যাওয়ে লড়াইয়ে নামবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সাকে চেপে ধরে স্বাগতিকরা। তার ওপর রাফিনিয়া এবং মার্কাশ রাশফোর্ডের মতো তারকারা চোটের কারণে মাঠের বাইরে। তৃতীয় মিনিটে বড় সুযোগ পায় অ্যাতলেটিকো। কিন্তু জুলিয়ানো সিমিওনে ফাঁকা বক্সে বল পেলেও গোলরক্ষক গার্সিয়ার কাছে পরাস্ত হয়েছেন। মিনিট দুয়েক পরই বড় ভুলটা করলেন বার্সার এই গোলরক্ষক। এরিক গার্সিয়ার ব্যাকপাস পা দিয়ে আটকানোর চেষ্টায় তিনি স্পর্শই করতে পারেননি। ১৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে অ্যাতলেটিকো। নাহুয়েল মোলিনার পাস পেয়ে গ্রিজম্যান কোনাকুনি শটে জালে জড়ান।

হ্যান্সি ফ্লিকের দল ব্যবধান কমানোর সুযোগ পায় ২০ মিনিটে, কিন্তু ফারমিন লোপেজের ভলি আটকায় ক্রসবারে লেগে। বিপরীতে একের পর এক সুযোগ পেতে থাকে সিমিওনের দল। হুলিয়ান আলভারেজের একটি শট গোললাইন থেকে ফেরত পাঠান জুলস কুন্দে। ৩৩ মিনিটে আরও পিছিয়ে পড়ে বার্সা। আলভারেজের বাড়ানো বল ধরে লুকমান নিচু শটে জাল কাঁপান। সম্প্রতি অ্যাতলেটিকোয় যোগ দেওয়ার পর তিন ম্যাচে এটি তার দ্বিতীয় গোল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েই চতুর্থ গোলও পেয়ে যায় অ্যাতলেটিকো। এবার লুকমানের পাস পেলে জোরালো শটে স্কোরলাইন ৪-০ করেন আলভারেজ।
বিরতির পর ব্যবধান কমাতে মরিয়া হয়ে ওঠে বার্সেলোনা। ৫২ মিনিটে পাউ কুবারসি একবার বল জালে জড়ালেও সেটি অফসাইডে বাতিল হয়ে যায়। এরপর ৮৫ মিনিটে কড়া ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন বার্সার ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া। পরিণত হয় ১০ জনের দলে। যোগ করা সময়ে ফেররান তোরেসের হেড বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। শেষ পর্যন্ত আর গোলই পায়নি বার্সা।
অবশ্য গত কোপা দেল রেতেও সেমিফাইনালে অ্যাতলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনাল খেলেছিল। কিন্তু সেখানে প্রথম লেগে এত ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল না তারা। ৪-৪ সমতার পর ফিরতি লেগে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল ফ্লিকের দল। এবার তাদের চ্যালেঞ্জটা বড়। ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে তাদের প্রথম লেগের ৪-০ ব্যবধানকে টপকে যেতে হবে। সেলক্ষ্যে নামবে ৩ মার্চ।
এএইচএস