বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর হতাশ অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তিরা, একগাদা প্রশ্ন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ২০২১ আসরের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ২০০৯ সালের পর এবারই প্রথম তারা কোনো ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিলো। বিপরীতে তাদের গ্রুপ থেকে সুপার এইটে উঠেছে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। দুটি দলের কাছেই হেরেছে মিচেল মার্শের দল। গত দেড় যুগের মধ্যে উত্তরসূরীদের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স দেখে চরম হতাশ অজি কিংবদন্তিরা।
আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। মাঝে দুই ম্যাচ হারের পর শেষ গ্রুপ ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে জিততেই হতো। তবে তাদের চোখ ছিল আয়ারল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে ম্যাচেও। সেটি বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়– লজ্জাজনকভাবে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। শ্রীলঙ্কা ৬ এবং জিম্বাবুয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে শেষ আটে। অন্যদিকে, শেষ ম্যাচ জিতলেও ৪ পয়েন্ট হবে মার্শ-ম্যাক্সওয়েলদের।
অবশ্য অস্ট্রেলিয়া এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছিল চোটজর্জর স্কোয়াড নিয়ে। ফলে দুশ্চিন্তার শুরুটা তখন থেকেই ছিল বলে জানান কিংবদন্তি পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রা, ‘বিশ্বকাপের শুরুতেই আমরা বলেছিলাম, অস্ট্রেলিয়া নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা আছে। প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও মিচেল স্টার্কের অনুপস্থিতি দলের দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছে। হঠাৎ করেই অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতি সেই আগের ভয়ভীতি আর নেই…দুর্ভাগ্যজনক হলেও বিষয়টি অবাক করার মতো নয়।’
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তিন তারকা ডেমিয়েন ফ্লেমিং (সঞ্চালক), ম্যাকগ্রা ও জেসন গিলেস্পি পডকাস্ট অনুষ্ঠান ‘দ্য ফাস্ট বোলিং কার্টেল’-এ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ব্যর্থতা বিশ্লেষণ করেন ম্যাকগ্রা। এ সময় তারা দল নির্বাচন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। ম্যাকগ্রা বলেন, ‘কী হচ্ছে বোঝা যাচ্ছে না…সবকিছু এলোমেলো।’ কামিন্স ও হ্যাজলউড চোটে, আর মিচেল স্টার্ক আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ায় নির্বাচকদের প্রতি এখন ‘ব্যাখ্যা চাই’ প্রশ্ন উঠেছে বলে মন্তব্য করেন গিলেস্পি। একইসঙ্গে স্টিভ স্মিথকে শ্রীলঙ্কায় উড়িয়ে নিয়েও না খেলানো এবং ম্যাট রেনশকে হঠাৎ একাদশের বাইরে রাখা নিয়ে সমালোচনা করেন।
স্মিথ-রেনশকে না রাখা প্রসঙ্গে গিলেস্পি বলেন, ‘মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত…এর কোনো যুক্তি নেই।’ অথচ অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট দারুণ ফর্মে তারা উভয়েই। যদিও স্মিথকে দলে নেওয়া হয় পরে। তিনি এখনও চলমান বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। রেনশ এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাকে একাদশের বাইরে বসিয়ে রাখা হয়।
পেস অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন তিন ম্যাচে মাত্র সাতটি বল করেছেন, অথচ জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ ৩৮ ওভারে ৪ উইকেটে ৩৫৩ রান হজম করেছে। গ্রিন এবং কুপার কনলি’র ওপর টিম ম্যানেজমেন্ট কীভাবে আস্থা রেখেছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন গিলেস্পি, ‘একসময় নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিতেই হবে। এই মুহূর্তে কনলি কিছুটা কম (ফ্লপ) হলেও গ্রিন সেই আস্থার প্রতিদান দিতে পারছে না।’
এর সঙ্গে সুর মিলিয়ে গিলেস্পি’র প্রশ্ন– ‘সে (গ্রিন) যদি বোলিংই না করে, তাহলে নির্বাচকেরা কি বলছেন– সে স্টিভ স্মিথের চেয়েও ভালো? সে যদি বোলিং না করে, তাহলে দলে তার জায়গা পাওয়া কীভাবে যৌক্তিক?’ এর আগে শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর অজি অধিনায়ক মার্শ বলেন, ‘দল ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছে।’
এএইচএস