প্রথমার্ধেই ৪ গোল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতিহাস গড়লেন গর্ডন

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আজারবাইজানের ক্লাব এফকে কারাবাগকে ৬-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নিউক্যাসল। এই ম্যাচের প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকসহ চার গোল করেছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে তিনি মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে প্রথমার্ধেই চারবার সফলভাবে প্রতিপক্ষের জালে হানা দিয়েছেন। এমনকি ইউসিএলের নকআউট পর্বে গর্ডন ছাড়া আর কেউই এই রেকর্ড গড়তে পারেননি।
ম্যাচের বয়স যখন ৩৩ মিনিট, তখনই হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয়ে যায় ২৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের। এটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের দ্রুততম হ্যাটট্রিক। এ নিয়ে চলতি আসরে ১০টি গোল করলেন গর্ডন। নিউক্যাসলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হ্যাটট্রিক করা তৃতীয় ফুটবলার তিনি এবং নকআউট পর্বে প্রথম। খেলা শেষে উয়েফাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় গর্ডন অবশ্য ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলগত অর্জনকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
নিউক্যাসলের এই তরুণ তারকা বলেছেন, ‘অবশ্যই রেকর্ড গড়তে ভালো লাগে, কিন্তু ফুটবল দলগত খেলা। দল সফল না হলে ব্যক্তিগত অর্জনের মূল্য নেই। আজও সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখানে খেলতে আসা সহজ নয়, তাই পুরো দলের জন্য আমি ভীষণ খুশি।’ গর্ডনের আগে নিউক্যাসলের কিংবদন্তি অ্যালান শিয়েরার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ছয় গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই রেকর্ড ভেঙে আরেকটি দ্বারপ্রান্তে আছেন গর্ডন। টুর্নামেন্টটির এক মৌসুমে ইংলিশদের মধ্যে কেবল হ্যারি কেইন (১১ গোল) তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন।
— Fabrizio Romano (@FabrizioRomano) February 18, 2026
এই ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই গোলের সূচনা করেন গর্ডন। পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ম্যালিক থিয়াও। ৩২ মিনিটে পেনাল্টি পায় নিউক্যাসল। সফল স্পটকিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করার পরের মিনিটেই গোলরক্ষককে কাটিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন গর্ডন। যা তার সিনিয়র ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক। যোগ করা সময়ে আরও একটি পেনাল্টি পেলে এবারও বল নিয়ে এগিয়ে যান গর্ডন। ওই সময় কিয়েরেন ট্রিপিয়ারের সঙ্গে মতবিরোধ হয় বলে মনে হয়েছিল। সেটি ছাপিয়ে নিজের চতুর্থ এবং নিউক্যাসলের চতুর্থ গোলটি করেন গর্ডন।
— OptaJoe (@OptaJoe) February 18, 2026
পরবর্তীতে নিউক্যাসলের কোচ গর্ডনের প্রশংসা করে এডি হাউ বলেন, ‘প্রথমার্ধে সে অসাধারণ ছিল। সে নিজেই প্রেসিং শুরু করে, আর কয়েকটি গোল এসেছে বল ছাড়া তার পরিশ্রম থেকে। প্রথম গোলটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে। সে আরও গোল পেতে পারত, তবে সামগ্রিকভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। এক ম্যাচে দুটি পেনাল্টি হলে কখনও কখনও আলোচনা হয়। তবে গর্ডন দুটিই দারুণভাবে নিয়েছে। ট্রিপিয়ার সবসময় দলের ভালোর কথাই ভাবে– এটা ইতিবাচক বিষয়।’
এএইচএস