ফোন বন্ধ, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে ছিলেন স্যামসন

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের শেষ ম্যাচে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করেছেন সাঞ্জু স্যামসন। অথচ বিশ্বকাপে তিনি ভারতের স্কোয়াডে ছিলেন ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে। সেই তিনিই গতকাল (রোববার) সাত ম্যাচে তৃতীয়বার সুযোগ পেয়ে বাজিমাত করলেন। ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন হলো তার।
গত রাতের আগে রান খরায় ভুগছিলেন স্যামসন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে ছিলেন অফ ফর্মে। চলতি বিশ্বকাপে আগের দুটি ম্যাচ খেলে ত্রিশ ছুঁতে পারেননি একবারও। বাঁচামরার ম্যাচে কীভাবে নিজেকে পাল্টে ফেললেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার?
মাত্র ১০ দিনের বিরতিতে বদলে যান স্যামসন। তিনি বললেন, ‘নিজের ওপর থেকে কখনো বিশ্বাস হারাইনি। ফোন বন্ধ রেখেছিলাম। সমাজমাধ্যম থেকেও দূরে ছিলাম। শুধুই নিজের কথা শুনেছি।’ বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিউজিল্যান্ড সিরিজে নিজের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের মানুষের স্বভাবই হলো নেতিবাচক চিন্তাভাবনা দিয়ে শুরু করা-‘আমি কি এটা করতে পারি? আমার মনে হয় না, পারব।’ যখনই আমার মনে এই ধরনের চিন্তা এসেছে, আমি চেষ্টা করেছি এটাকে ইতিবাচক চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন করতে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ভালো খেলে বিশ্বকাপ দলের অংশ হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সব কিছু ইতিবাচক হয়নি। তবে ভাগ্যক্রমে আমি ১০ দিনের বিরতি পেয়েছিলাম।’
কলকাতার এই ইনিংসটি তার কাছে কী অর্থ বহন করে! স্যামসন বললেন, শৈশব থেকে লালন করা একটি স্বপ্ন সত্যি হওয়ায় তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন। তার কথা, ‘ভারতের শত শত ক্রিকেটার এই রকম একটি দিনের স্বপ্ন দেখে। আমি স্বপ্ন দেখার সাহস করেছিলাম। কেরালা রাজ্যের ত্রিবান্দ্রমের এক তরুণ ছেলে, দেশের হয়ে খেলার এবং এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। আমি স্বপ্ন দেখার সাহস করেছিলাম এবং সেটিই সত্যি হয়েছে।’
এফএইচএম/