ভারতকে সেমিফাইনালে তুলে স্যামসন, ‘কখনো অনুভব করিনি, এমন বিশেষ কিছু করব’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯৫ রান করার পর ভারত ৪১ রানেই হারায় ২ উইকেট। পরিসংখ্যানের সঙ্গে যখন পরিস্থিতিও অনুকূলে নেই, তখন দাঁড়িয়ে গেলেন এমন একজন, যিনি জাতীয় দলে অনিয়মিত। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের আগের ছয় ম্যাচের মধ্যে যার সুযোগ হয়েছে মাত্র দুটিতে। কিপিংয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ডিসমিসালের পর সাঞ্জু স্যামসন ওপেনিংয়ে নেমে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচের পুরোটা সময় মাঠে ছিলেন স্যামসন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে শিমরন হেটমায়ার ও শেরফানে রাদারফোর্ডের ক্যাচ নেন। তারপর ইনিংসের চার বল বাকি থাকতে ভারতকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ৯৭ রানে অপরাজিত থেকে। ১২ চার ও ৪ ছয়ে সাজানো ছিল তার ৫০ রানের ইনিংস।

১৯৬ রানের লক্ষ্য, ভারত কখনো বিশ্বকাপে এত রান তাড়ায় সফল হয়নি। ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৭৩ রান তাড়া করে সফল হয়েছিল তারা। এবার তার চেয়ে ২৩ রান বেশি করতে হতো। সেটা সম্ভব হয়েছে স্যামসনের কারণে। আইপিএল কিংবা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি, প্রথমবার ওপেনিংয়ে নেমে অপরাজিত থেকে সফলভাবে রান তাড়া করলেন স্যামসন। বিরাট কোহলির দুটি ৮২ রানের ইনিংস পেছনে ফেলে তিনি বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে রান তাড়ায় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়লেন।
অবিশ্বাস্য ভূমিকা রেখে ভারতকে সেমিফাইনালে তুলে স্যামসন বললেন, এটা ছিল তার ‘জীবনের অন্যতম সেরা দিন’। তার কথা, ‘আমি কখনো অনুভব করিনি যে বিশেষ কিছু একটা করব। কিন্তু আমি আমার ভূমিকার দিকে মনোযোগ রেখেছিলাম। প্রত্যেক বল ধরে ধরে খেলেছি এবং খুব কৃতজ্ঞ, আমি মনে করি এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা দিন।’
ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স করে স্যামসন বললেন, ‘আমি হয়তো মাত্র ৫০-৬০টি ম্যাচ খেলেছি, কিন্তু আমি প্রায় ১০০টি ম্যাচ (বেঞ্চে বসে বা দলের সাথে থেকে) দেখেছি।’ তিনি বলে গেলেন তার অভিজ্ঞতার কথা, ‘আমি দেখেছি সেরা খেলোয়াড়রা কীভাবে খেলা শেষ করে এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কীভাবে তারা তাদের খেলার ধরন পরিবর্তন করে। তাই, গত ম্যাচে (চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে) আমরা আগে ব্যাটিং করছিলাম, সেখানে মূল লক্ষ্য ছিল একটি বিশাল স্কোর দাঁড় করানো। তাই আমি প্রথম বল থেকেই বড় শট খেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই ম্যাচটি (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে) সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল; আমি যখনই একটু আগ্রাসী হতে চেয়েছি, তখনই আমরা উইকেট হারাচ্ছিলাম, তাই আমি একটি জুটি গড়তে ও নিজের প্রক্রিয়ার ওপর মনোযোগ ধরে রাখতে চেয়েছিলাম।’
২০১৫ সালে ২০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় স্যামসনের। সুযোগ পেয়েছেন অনিয়মিতভাবে। ১১ বছরে মাত্র ৫৯ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। এই বিশ্বকাপেও ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে শুরু করেন তিনি। কিন্তু প্রতিপক্ষরা ভারতের বাঁহাতি ব্যাটার সমৃদ্ধ লাইনআপের বিরুদ্ধে অফস্পিনারদের ব্যবহার করায় স্যামনের দেরিতে হলেও আগমন ঘটে এবং সেমিফাইনালে তোলার পথে রাখলেন বড় ভূমিকা।

স্যামসন বললেন, ‘এটা আমার কাছে পুরো পৃথিবী। আমি মনে করি যেদিন থেকে আমি খেলা শুরু করেছিলাম, সেদিন থেকে দেশের জন্য খেলার স্বপ্ন দেখতে থাকি। এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম এবং খুবই কৃতজ্ঞ। উত্থানপতনের মধ্য দিয়ে আমার পথচলা সবসময় খুব বিশেষ ছিল। নিজেকে নিয়ে সন্দিহান ছিলাম, ভাবতাম যদি এমন হয়? আমি কি পারব? কিন্তু আমি বিশ্বাস রেখেছিলাম এবং স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা যে আজ তিনি আমাকে আশীর্বাদ করেছেন। আমি খুব খুশি।’
স্যামসনকে কৃতিত্ব দিয়ে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বললেন, ‘দেখলেন তো, আমি সবসময় বলি, যে ভালো মানুষ ধৈর্য ধরে তার সঙ্গে ভালো কিছু ঘটে। যখনই তার সঙ্গে দেখা হয়, আমি এটাই বলি তাকে। তার কঠোর পরিশ্রমের ফল এটা- যেটা সে করে আড়ালে, যখন সে খেলে না। তার ব্যাটিংই দলকে জয়ের বন্দরে নিয়েছে।’
এফএইচএম/