নতুন শুরুর আশায় বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার হতাশা ভুলে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য এই সিরিজটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মিরপুর শের-ই-বাংলায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডে মাঠে গড়াবে আজ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে।
২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের সেরা আট দল। পাশাপাশি স্বাগতিক তিন দল দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়াও সরাসরি খেলবে। দক্ষিণ আফ্রিকা র্যাংকিংয়ে সেরা আটের মধ্যে থাকলে সরাসরি সুযোগ পাবে সেরা ৯ দল। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অন্তত সেরা ৯-এর মধ্যে থাকতে হবে। বর্তমানে র্যাংকিংয়ে দশে আছে টাইগাররা।
গুরুত্বপূর্ণ সিরিজটিতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলের প্রস্তুতির জন্য ভালো ব্যাটিং উইকেট প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ওয়ানডের আগে মিরাজ জানান, আগামী বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে ভালো উইকেটে খেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে আমাদের।

মিরাজ বলেন, ‘বিশ্বকাপের উইকেট সবসময় ভালো হয়ে থাকে এবং আমরা এখন থেকেই ভাল উইকেটে খেলার অভ্যাস করতে চাই।’ আরও বলেন, ‘২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আগে আমাদের অনেক ম্যাচ আছে। পরিকল্পনা হলো, ভালো উইকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা। আমরা যদি ভালো উইকেটে বেশি বেশি খেলতে পারি তাহলে আমাদের জন্যই ভাল হবে। একই সাথে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে বিশ্বকাপে আমাদের সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তাই আমরা যে দলগুলোর সাথে খেলব সেসব দলের বিপক্ষে আমরা ঘরের কন্ডিশনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করব।’
বাংলাদেশের মাটিতে ২০১৫ সালে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে পাকিস্তান। ঐ সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল পাকিস্তান। গত বছর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য বাংলাদেশ সফর করেছিল পাকিস্তান। এ সিরিজও ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল পাকিস্তান।
সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৯টি ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এরমধ্যে বাংলাদেশের জয় ৫টিতে, পাকিস্তান জিতেছে ৩৪ ম্যাচে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৫ জয়ের চারটি এসেছে ২০১৫ সালে। তবে অতীত রেকর্ড খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ ওয়ানডেতে শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে টাইগাররা।
কিন্তু ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরমেন্স হতাশাজনক। তারপরও পাকিস্তানের বিপক্ষে ফেবারিট হিসেবেই শুরু করবে বাংলাদেশ। কারণ ঘরের মাঠের সুবিধা ও রেকর্ডে এগিয়ে টাইগাররা। পাশাপাশি এবার অনভিজ্ঞ দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছে পাকিস্তান।

পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি বলেন, ‘অবশ্যই, ঘরের মাঠে যেকোন দলই বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে নামে। এটা খুবই স্বাভাবিক। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের একটি ভাল দল আছে এবং তারা হোম কন্ডিশনে খুব ভাল ক্রিকেট খেলে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অন্যান্য দলকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা দল হিসেবে প্রস্তুত। দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলংকার বিপক্ষে আমরা সর্বশেষ দুই ওয়ানডে সিরিজ জিতেছি। সম্প্রতি ওয়ানডেতে আমরা ভাল খেলেছি। সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।’
বাংলাদেশ দল : মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।
পাকিস্তান দল : শাহিন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), আব্দুল সামাদ, আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, ফয়সাল আকরাম, হারিস রউফ, হুসেইন তালাত, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি (উইকেটরক্ষক), সাদ মাসুদ, সাহিবজাদা ফারহান, সালমান আলি আগা ও শামিল হুসেইন।
এফআই