অস্ট্রেলিয়ার টেনিসের রাজ্যে এক বেলা

‘দিস স্টেশন ইস এমসিজি এন্ড রড লাভার এরেনা’, মেলবোর্ন শহরে রিচমন্ড স্টেশনে দুই ঐতিহাসিক ক্রীড়া ভেন্যুর নাম আলাদাভাবে উচ্চারণ করে। মেলবোর্ন পার্ক পুরোটাই যেন খেলার রাজ্য। কয়েক শ’ গজের মধ্যে ঐতিহাসিক মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড, টেনিসের বিখ্যাত রড লাভার এরেনা, ফুটবল ও আরও অনেক ভেন্যু।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ব টেনিসের চার গ্র্যান্ডস্ল্যামের মধ্যে অন্যতম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ভেন্যু মেলবোর্নের রড লাভার এরেনা। এ যেন এক টেনিসের রাজ্য। একের পর এক কোর্ট, টেনিসের জন্য একাধিক বিল্ডিং। পুরো অঞ্চলই যেন টেনিসময়। ট্রেনে বসেই রড লাভার এরেনার নাম দেখা যায়। এই টেনিসের প্রাঙ্গণের বিশালতা এত সেটা দেখতে কাছে যেতেই হবে। কয়েকশ মিটার হাটলেই রড লাভার প্রাঙ্গণ।
মাস খানেক আগেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শেষ হয়েছে। তাই খানিকটা বিশ্রামে ঐতিহাসিক এই টেনিস ভেন্যু। ক্রিকেট ও ফুটবলের মতো টেনিস ভেন্যুতেও কনসার্ট ও অন্য সামাজিক অনুষ্ঠান হয়। তাই কাভার দিয়ে ঢাকা ছিল। কোর্টে কাভার থাকলেও অস্ট্রেলিয়ান টেনিস ও রড লাভার এরেনার ঐতিহ্য তো সদা উজ্জ্বল।

বিজ্ঞাপন
অস্ট্রেলিয়ান সাবেক এক নম্বর খেলোয়াড় রড লাভার। যাকে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের সেরা টেনিস খেলোয়াড়ও বলা হয়। রড লাভারের গ্র্যান্ডস্লামসহ নানা খেলার ছবি ও সাফল্য দিয়ে ঘেরা। নিজ দেশের সেরা টেনিস খেলোয়াড়ের নামেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ভেন্যুর নামকরণ হয়েছে।
রড লাভার আঙিনায় বিশ্বের প্রায় সকল কীর্তিমান টেনিস খেলোয়াড়ের ছবি রয়েছে। রয় এমারসন, আগাসি, ফেদেরার, জোকাভিচ থেকে শুরু করে প্রায় সবারই। বেশ সুন্দর করে ছবি দিয়ে অর্জন লেখা। রড লাভারের আঙিনার কয়েকশ মিটারের এই চত্ত্বর ঘুরলেই টেনিসের কীর্তিমান ও টেনিস সম্পর্কে ধারণা হবে যে কারোই।
রড লাভারের আঙিনার ওপরই আরেকটি ভেন্যু। সেটার ধারণক্ষমতাও হাজার বিশেকের কাছাকাছি। তপ্ত দুপুরের রোদ ও শীতল বাতাসের মধ্যে শূন্য গ্যালারিতে দেখা গেল দুই জন অনুশীলনে ব্যস্ত। এ রকম চিত্র দেখা গেল অস্ট্রেলিয়ান টেনিসের হেড কোয়ার্টারেও। টেনিস ফেডারেশনের অভ্যর্থনার কক্ষের পাশেই ইনডোর কোর্ট। এক সাথে আট কোর্টে চলছে অনুশীলন। কোর্টের বাইরেও অপেক্ষমান অনেকে।
বিজ্ঞাপন

টেনিস বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। টেনিসের জনপ্রিয়তা ও আকর্ষণ মেলবোর্নে এসে বেশ আঁচ পাওয়া গেল। পড়ন্ত বিকেলে শিশু-কিশোররা টেনিসের ব্যাগ নিয়ে আসছেন অনুশীলনের জন্য। কোচরা অত্যন্ত এক নিবিষ্ট মনে কোচিং করাচ্ছেন। অভিভাবকরা বাচ্চাদের অনুশীলন পর্যবেক্ষণ করছেন।
টেনিস আকর্ষণ ও জনপ্রিয় খেলার পাশাপাশি বেশ ব্যয়বহুলও। বল, ব্যাট, জুতার দামও প্রচুর। টেনিসপ্রেমীদের কাছে যেন এগুলো কোনো বিষয়ই নয়। রড লাভার এরেনা ও অস্ট্রেলিয়ান টেনিস হেডকোয়ার্টার জুড়ে অসংখ্য টেনিস সামগ্রীর দোকান। ঘণ্টা দু’য়েক অবস্থানকালে দেখা গেল দোকানীদের দম ফেলার ফুসরত নেই। কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের পছন্দমতো সামগ্রী কিনছেন অথবা অভিভাবকরা বাচ্চাদের চাহিদাপূরণ করছেন।

অস্ট্রেলিয়ান টেনিসের হেড কোয়ার্টারের একটু সামনে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের জন্য আলাদা ভবন। সেই ভবন থেকেই মূলত ওপেনের নানা কার্যক্রম চলমান হয়। মাস দেড়েক হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শেষ হয়েছে। তবে অফিসে গিয়ে দেখা গেল এখনো বেশ ব্যস্ততা। দুই একজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, চার গ্র্যান্ডস্লামের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন সাংগঠনিকভাবে বেশ গোছালো। তাই একটি ওপেন শেষ হওয়ার পর থেকেই পরের ওপেনের কাজ শুরু হয়।
রড লাভার এরেনা, প্র্যাকটিস ভেন্যু, অস্ট্রেলিয়ান হেড কোয়ার্টারে ইনডোর কোর্ট তো আছেই। মেলবোর্ন পাকের মধ্যে রয়েছে আরও কয়েকটি টেনিস কোর্ট। কোনো কোর্টেই সেভাবে খালি দেখা যায়নি। প্র্যাকটিস অথবা গেম চলছেই। মেলবোর্নে টেনিসের এ রকমই সংস্কৃতি।
এজেড/এফআই