বিজ্ঞাপন

ফুটবল মাঠ ছেড়ে যুদ্ধে গিয়ে বিতর্কে ইসরায়েলি ফুটবলার

অ+
অ-
ফুটবল মাঠ ছেড়ে যুদ্ধে গিয়ে বিতর্কে ইসরায়েলি ফুটবলার

দক্ষিণ লেবাননে সামরিক পোশাকে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে দেখা গেছে ইসরায়েলি প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব হাপোয়েল হাদেরার অধিনায়ক মেনাশে জালকাকে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ৩৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার একটি মেশিনগান থেকে গুলি ছুড়ছেন এবং গ্রেনেড নিক্ষেপ করছেন।

বিজ্ঞাপন

একটি প্রতিবেদনে এমনটিই তুলে ধরেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-এ প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, জালকা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্যারাট্রুপার ব্রিগেডের রিজার্ভ সদস্য হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের একটি আবাসিক এলাকায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন থেকে গুলি চালাচ্ছেন তিনি। আল জাজিরা এই ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এর আগেও গাজা যুদ্ধে দীর্ঘ সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করেছেন এই ফুটবলার।

জালকার এই কর্মকাণ্ডের পর ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) এবং সাধারণ ফুটবল ভক্তরা ফিফার কাছে তাকে এবং ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে নিষিদ্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছে। পিএফএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুসান শালাবি এই ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। অনেকের মতে, একজন পেশাদার ফুটবলারের এভাবে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া এবং বেসামরিক এলাকায় আক্রমণ করা ফিফার নিয়মাবলীর চরম লঙ্ঘন।

বিজ্ঞাপন

গত ১৯ মার্চ ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে বৈষম্যবিরোধী নীতি লঙ্ঘনের দায়ে এক লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করলেও তাদের নিষিদ্ধ করেনি। ফুটবল বিশ্লেষকরা ফিফা এবং উয়েফার বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলছেন, ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়াকে দ্রুত নিষিদ্ধ করা হলেও ইসরায়েলের ক্ষেত্রে ফিফা রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে ইসরায়েলের এই ফুটবলারের যুদ্ধকালীন কার্যক্রম ফুটবল বিশ্বকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে। যেখানে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে বীর হিসেবে প্রচার করছে, সেখানে আন্তর্জাতিক ফুটবল ভক্তরা জালকাকে বলছে যুদ্ধাপরাধী।

এমএমএম/