আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ঘর নাটকীয়ভাবে ভিন্ন এক ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। সেই ঘরকে কেন্দ্র করে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিউনিটি গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রতি সপ্তাহে শত শত মানুষ খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়ান। বুয়েন্স আয়ার্সের উপকণ্ঠ ভিলা ফিওরিটোর সেই ঘরের মালিকানা অবশ্য আগেই হাতছাড়া হয়েছিল ম্যারাডোনার পরিবারের। বর্তমান মালিক স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সেই ঘরের উঠানকে দাতব্য কাজে ব্যবহার করছেন।
বিজ্ঞাপন
ওই আঙিনায় নিয়মিত চুলা জ্বালিয়ে এলাকার দরিদ্র মানুষদের জন্য রান্না করা হয়। গত বৃহস্পতিবার মারিয়া তোরেস উত্তপ্ত হতে থাকা বড় বড় পাতিলে খাবার নেড়ে দিচ্ছিলেন, আর বাকিরা ব্যস্ত ছিলেন আলু খোসা ছাড়ানো ও মুরগি কাটায়। সেই ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই বাড়ির দেয়ালে বড় আকারে ম্যারাডোনার ছবি আঁকা এবং লেখা রয়েছে— ‘ঈশ্বরের বাড়ি’।
— Reuters (@Reuters) March 31, 2026
সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনায় দারিদ্র্যের হার কমে আসলেও, এখনও সামাজিক প্রেক্ষপটে চিন্তার বড় কারণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী– ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে দারিদ্র্যের হার কমে ৩১.৬ শতাংশে নেমেছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ৫২.৯ শতাংশ। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই–এর মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধের তথ্য শিগগিরই প্রকাশিত হবে।
বিজ্ঞাপন
ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আর্জেন্টিনার সমাজবিজ্ঞানী এদুয়ার্দো দোনজা দারিদ্র্য কমার বিষয়টি ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ বলে স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, টেকসই উন্নতির জন্য খনি খাতের মতো শ্রমনির্ভর শিল্পে জিডিপি প্রবৃদ্ধি জরুরি। এদিকে, আর্জেন্টিনার মূল্যস্ফীতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রেসিডেন্ট মিলেই দায়িত্ব নেওয়ার সময় যেখানে তা দ্বিগুণ অঙ্কে ছিল, ফেব্রুয়ারিতে তা নেমে এসেছে ২.৯ শতাংশে।

লিওনার্দো ফ্যাবিয়ান আলভারেজ নামে এক যাজক পাশাপাশি স্যুপ কিচেনও পরিচালনা করেন। তিনি বলেছেন, ভিলা ফিওরিটো এবং আশপাশের এলাকায় খাবারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যেহেতু ওই এলাকায় ছোট ছোট কারখানাগুলো এখন বন্ধ। মানুষ তাদের চাকরি হারাচ্ছে, ফলে খাবার প্রত্যাশী মানুষের লাইন বড় হচ্ছে। আমরা তাদের চাহিদা মেটাচ্ছি। উল্লেখ্য, ম্যারাডোনার এই বাড়িকে ২০২১ সালে জাতীয় ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এএইচএস
