ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপ। রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ভক্ত-সমর্থকদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকবেন তারা। কিন্তু কিছু বড় তারকাদের অনুপস্থিতি শূন্যতা ছড়াবে এবারের আসরে।
বিজ্ঞাপন
রবার্ট লেভানডোভস্কি- পোল্যান্ড
২০২২ সালের আসরই কি তাহলে রবার্ট লেভানডোভস্কির শেষ বিশ্বকাপ ছিল? অধিনায়কত্ব হারিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে কোচ পদত্যাগ করলে ফিরে আসেন। সম্ভবত বিশ্বকাপে খেলার তাড়না থেকেই সিদ্ধান্ত বদল করেন। কিন্তু আরেকটি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।
ইউরোপিয়ান প্লে অফে সুইডেনের কাছে ৩-২ গোলের নাটকীয় হারে বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না পোল্যান্ডের। লেভানডোভস্কি তার দেশকে দশম বিশ্বকাপে তুলতে পারলেন না। পোল্যান্ডের হয়ে ১৬৫ ম্যাচে রেকর্ড গড়া ৮৯ গোল করা এই স্ট্রাইকার স্টকহোমে শেষ বাঁশি বাজতেই কান্নাায় ভেঙে পড়েন। সম্ভবত এই হার ৩৭ বছর বয়সী তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিলেন।
বিজ্ঞাপন
জিয়ানলুইজি দোনারুমা- ইতালি
টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে খেলা হবে না ফুটবলের অন্যতম গর্বিত জাতি। চারবারের চ্যাম্পিয়নরা প্লে অফে হেরে গেছে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে। অভিজ্ঞ কিপার জিয়ানলুইজি দোনারুমা নায়ক হতে পারেননি। টাইব্রেকারে তাকে চারবার পরাস্ত করেছে বসনিয়া।
বিজ্ঞাপন
ফ্রান্স ফুটবলের নির্বাচিত বর্তমান বর্ষসেরা গোলকিপারের পুরস্কার ইয়াসিন ট্রফিজয়ীর বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন অধরা থেকে গেল। শেষবার ইতালি বিশ্বকাপ খেলেছিল ২০১৪ সালে। ওইবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় তারা। তাদের শেষ নকআউট ম্যাচ ছিল ২০০৬ সালের ফাইনালে, যে ম্যাচ জিতে চতুর্থবার বিশ্বজয়ীর খেতাব পেয়েছিল আজ্জুরিরা।

ডমিনিক সোবোসলাই- হাঙ্গেরি
লিভারপুলের হতাশাজনক মৌসুমে আলো ছড়ান ডমিনিক সোবোসলাই। তার ওপর ভর করে হাঙ্গেরি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখছিল। জাতীয় দলের হয়ে ছয় ম্যাচে একটি গোল ও চার অ্যাসিস্ট ছিল তার। কিন্তু মার্কো রসির দল বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে যায় এবং প্লে অফও খেলতে ব্যর্থ হয়েছে।
ভিক্টর ওসিমহেন- নাইজেরিয়া
এই টুর্নামেন্টে উঠতে না পারা সবচেয়ে হাই প্রোফাইল দল বলা চলে নাইজেরিয়াকে। বাছাইপর্বে তারা কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে ছিল। একের পর এক ড্রয়ের মাশুল গুনতে হয়েছে, প্লে অফে ডিআর কঙ্গোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায় তারা।
এই মৌসুমে গ্যালাতাসারেইর হয়ে ১০ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে সাত গোল করেন ওসিমহেন। দারুণ ফর্মে থাকলেও বিশ্বকাপে খেলা হলো না তার। ২০২২ সালেও নাইজেরিয়া বিশ্বকাপে উঠতে না পারায় এই বড় মঞ্চে খেলার জন্য অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। পরের টুর্নামেন্টের সময় তার বয়স হবে ৩১।
খভিচা কভারাটস্খেলিয়া- জর্জিয়া
ইউরো ২০২৪ দিয়ে জর্জিয়াকে প্রথমবার বড় কোনো টুর্নামেন্টে তুলেছিলেন খভিচা কভারাটস্খেলিয়া। যে আসরে তারা পর্তুগালের মতো দলকে হারায় তারা।
কিন্তু প্যারিস সেন্ট জার্মেই মহাতারকা বিশ্বকাপ বাছাইয়ে একই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি। ছয়টি গ্রুপ ম্যাচের মাত্র একটি জিতেছিল জর্জিয়া।
ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন- ডেনমার্ক
২০১৬ সালের ইউরোর পর প্রথমবার ডেনমার্ক বড় কোনো টুর্নামেন্টে উঠতে ব্যর্থ হলো। উয়েফা প্লে অফে চেক প্রজাতন্ত্রের কাছে হেরেছে তারা। নভেম্বরে বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার থেকে কয়েক মিনিট দূরে ছিল ডেনিসরা। কিন্তু স্কটল্যান্ডের কাছে শেষ দিকে দুটি গোল হজম করে। চার মাস পর প্রাগে হৃদয় ভাঙল তাদের।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ছিলেন না ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন। কিন্তু ম্যানইউ থেকে ভলফসবার্গে যোগ দিয়ে বুন্দেসলিগায় চমক দেখান। তাতে প্লে অফে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল আরেকটি বিশ্বকাপে খেলার। কিন্তু দলের সঙ্গে ৩৪ বছর বয়সী তারকার সেই আশা শেষ হয়ে গেল। ফুটবলের শীর্ষ মঞ্চে আবারো তাকে দেখা যাবে কি না, প্রবল সন্দেহ রয়েছে।
এফএইচএম/
