বিজ্ঞাপন

ক্যাবরেরার ৪ বছর: ৩৯ ম্যাচে ১০ জয়, থাকবেন আর কত দিন?

অ+
অ-
ক্যাবরেরার ৪ বছর: ৩৯ ম্যাচে ১০ জয়, থাকবেন আর কত দিন?

চোখের পলকে কেটে গেল চারটি বছর। ২০২২ সালের মার্চে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, তা এখন এসে ঠেকেছে ৩৯ ম্যাচের অভিজ্ঞতায়। বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী বিদেশি কোচের রেকর্ডও গড়েন স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরা। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়ে তার প্রাপ্তি প্রায় শূন্য! হামজা-সমিতদের মতো তারকাদের নিয়েও দলকে পাইয়ে দিতে পারেননি এশিয়া কাপের টিকিট। এমতাবস্থায় কোচ হিসেবে আর কত দিন থাকবেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে বিদেশি কোচের মধ্যে হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরাই এক টানা দীর্ঘমেয়াদী বেশি সময় কোচিং করালেন। ২০২৫ সালের মার্চে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ৩০ ম্যাচ কোচিং করানোর রেকর্ড গড়েন। সিঙ্গাপুর ম্যাচের পর সেই সংখ্যা ৩৯। তিন মেয়াদে চুক্তি বাড়ানোর পর এই এপ্রিলে শেষ হওয়ার পথে তার দায়িত্ব।

নেই কোনো সাফল্য

চার বছর বাংলাদেশের কোচ থেকেও কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেননি ক্যাবরেরা। হামজা-সামিতের মতো উঁচু মানের ফুটবলার আসার পর ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা ছিল ১৯৮০ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, আবারও এশিয়া কাপ খেলবে বাংলাদেশ। সেই আশায় গুঁড়েবালি। বাছাইয়ে ৬ ম্যাচে মাত্র ৫ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ। ক্যাবরেরার অধীনে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্জন ২০২৩ সালের সাফে সেমিফাইনালে খেলা। আর এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ২২ বছর পর ভারতকে হারানো। এই দুটি ছাড়া ক্যাবরেরার আমলে নেই কোনো উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক ফলাফল।

বিজ্ঞাপন

নেপালকেও হারাতে পারেনি

চার বছরে তার অধীনে বাংলাদেশ জিতেছে ১০টি ম্যাচ। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশের বিপক্ষে জয় সাতটি। ভুটান ও মালদ্বীপকে তিনবার করে হারিয়েছে বাংলাদেশ। মধ্য এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ার বিপক্ষে জিতেছে দুবার। আর ভারত ও সিলেশসের বিপক্ষে এসেছে একটি করে জয়। এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ নেপাল। তাদের বিপক্ষে দুবার মাটে নামলেও একবারও জেতা হয়নি ক্যাবরেরার শিষ্যদের।

চার বছরে ক্যাবরেরার অধীনে বাংলাদেশ জিতেছে ১০টি ম্যাচ।

বিজ্ঞাপন

ফিটনেস উন্নতি ও লড়াই মানসিকতা

হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার অধীনে বাংলাদেশ তেমন কোনো সাফল্য পায়নি। তবে তার সময়কালে জাতীয় ফুটবলারদের ফিটনেসে উন্নতি হয়েছে ব্যাপক। কিন্তু ম্যাচে ফিটনেস ঘাটতির প্রভাব তেমন পরিলক্ষিত হয়নি। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক লড়াই করার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ লেবাননের বিপক্ষে হোম ম্যাচে ড্র করেছিল। ঐ আসরে হোম ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশ ভালো পারফরম্যান্সই করেছে কিংস অ্যারেনায়।

খেলোয়াড়‌ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ

চার বছর ধরে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে আছেন হ্যাবিয়ের ক্যাবরেরা। দেশের ফুটবল ও ফুটবলারদের তিনি খুব কাছ থেকে দেখছেন। এরপরও তার প্রাথমিক কিংবা চূড়ান্ত স্কোয়াড ও একাদশ গঠন প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশের ফুটবলের সংস্কৃতি হচ্ছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিক তালিকায় ফুটবলাররা ক্যাম্পে ওঠেন ও অনুশীলন করেন। হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা আমলে সেটা ব্যতিক্রম হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফুটবলারদের নাম প্রকাশ করলেও অনেকে ক্যাম্পে উঠতে পারেননি। যা সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক।

হামজা-সামিতের মতো উঁচু মানের ফুটবলার আসার পর ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা ছিল ১৯৮০ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, আবারও এশিয়া কাপ খেলবে বাংলাদেশ। সেই আশায় গুঁড়েবালি। বাছাইয়ে ৬ ম্যাচে মাত্র ৫ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ। ক্যাবরেরার অধীনে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্জন ২০২৩ সালের সাফে সেমিফাইনালে খেলা। আর এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ২২ বছর পর ভারতকে হারানো।

ঘরোয়া লিগ দেখেন না

জাতীয় দলের সাবেক ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে বছরের অধিকাংশ সময় ছুটিতে থাকতেন। হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা বাংলাদেশে দায়িত্ব নেয়ার শুরুতে সেই চিত্র দেখা যায়নি। তবে দিন যতই বেড়েছে ধীরে ধীরে তার ছুটির সময়ও বেড়েছে। বিশেষ করে গত দেড় বছরে অনেক ছুটি কাটিয়েছেন তিনি। ঘরোয়া লিগের ব্যস্ত সূচির মধ্যেও তিনি স্পেনে থেকেছেন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ না দেখেই দল গঠন করেছেন একাধিকবার।

‘চুক্তি বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই’

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি। এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার যৌক্তিক সমালোচনা করছেন। সাবেক এই অধিনায়কের মতে, ‘ক্যাবরেরাকে পুনরায় দায়িত্ব দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। একজন কোচ এত দিন ধরে দায়িত্ব রয়েছেন। সাফল্য নেই, দল গঠন, খেলোয়াড় নির্বাচন, ম্যাচের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তো রয়েছেই।’

আরো আগেই ক্যাবরেরার বিদায় হওয়া উচিত ছিল জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর তিন মাস সময় ছিল। ঐ সময় তাকে বিদায় দেয়া যেত অথবা ঢাকায় সিঙ্গাপুর ম্যাচের পর। যাই হোক তখন হয়নি, এখন চুক্তি শেষের পর তাকে রাখার কোনো কারণ নেই।’

ভাবনায় সাফ

জাতীয় দলের এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের মিশন শেষ। বিশ্বকাপের আগে জুন উইন্ডো রয়েছে। ঐ জুন উইন্ডোতে বাংলাদেশ কাদের সাথে প্রীতি ম্যাচ খেলবে সেটা এখনো ঠিক হয়নি। ঐ প্রীতি ম্যাচের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ আগামীকাল জাতীয় দল কমিটির সভায় ঠিক হতে পারে। এই বছর সেপ্টেম্বরে সাফ ফুটবল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত সাফে বাংলাদেশ ২০০৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। হামজা-সামিতরা বাংলাদেশ দলে যোগ হওয়ায় সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। আগামী পাঁচ মাস পর টুর্নামেন্টে নতুন কোচ নাকি ক্যাবরেরার অধীনেই খেলবে বাংলাদেশ- এ নিয়ে বাফুফের নীতি-নির্ধারকরা খানিকটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে।

বছর ভিত্তিক সাফল্য-ব্যর্থতা

সাল জয় হার ড্র
২০২৬
২০২৫
২০২৪
২০২৪
২০২২
মোট ১০ ১৯ ১০

হ্যাভিয়েরের অধীনে বাংলাদেশ

জয় : ভুটান ও মালদ্বীপের বিপক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি, কম্বোডিয়ার বিপক্ষ দুটি; সিলেশলস ও ভারতের বিপক্ষে একটি করে।
ড্র : লেবানন, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, ভারত, নেপাল ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুটি করে।
হার : সিশেলস, ভুটান, কুয়েত, বাহরাইন, তুর্কমেনিস্তান, মালয়েশিয়া, নেপাল, হংকং ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে একটি করে এবং অস্ট্রেলিয়া, ফিলিস্তিন, মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর ও লেবাননের বিপক্ষে দুটি করে।

এজেড/এমএমএম