বিজ্ঞাপন

বড় নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে নেইমার, বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শঙ্কা

অ+
অ-
বড় নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে নেইমার, বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শঙ্কা

বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির স্পষ্ট বার্তা– শতভাগ ফিট থাকতে হবে। স্কোয়াড ঘোষণার আগে ১৪ ম্যাচ বাকি ছিল সান্তোসের। সেই মিশনে নেমে এক ম্যাচ খেলতে না খেলতেই নেইমার জুনিয়র কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন। সান্তোসের পরের ম্যাচ মিস করতে হবে জেনে রেফারির ওপর মেজাজ হারিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া বেফাঁস মন্তব্যের জেরে আরও বড় নিষেধাজ্ঞায় পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সান্তোসের পরবর্তী ম্যাচ ফ্ল্যামেঙ্গোর মতো বড় দলের বিপক্ষে। যা নিজেকে ফিট দেখানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হতে পারত নেইমারের জন্য। হলুদ কার্ড দেখার আগে ৮৬ মিনিটে প্রতিপক্ষ রেমোর ফুটবলার দিয়েগো হার্নান্দেজ নেইমারকে পেছন থেকে কড়া ফাউল করেন। যার প্রতিক্রিয়ায় তিনি তেড়ে যান হার্নান্দেজের দিকে। সতীর্থরাও যোগ দেয় সেই বাদানুবাদ ও ধাক্কাধাক্কি পর্বে। পরবর্তীতে নেইমারকে কার্ড দেখান রেফারি সাভিও পেরেইরা সাম্পাইও। তার ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আপত্তি ব্রাজিল ফরোয়ার্ডের। 

যদিও রেমোর বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের পথে একটিতে সরাসরি অ্যাসিস্ট এবং অপর গোলেও নেইমারের অবদান ছিল। কিন্তু হলুদ কার্ডের বিষয়টি মানতে পারছেন না তিনি। ম্যাচ শেষে রেফারি সাভিও পেরেইরার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে নেইমার বলেন, ‘আমাকে পেছন থেকে ফাউল করা হয়েছে। কোনো দরকার ছিল না। আর ওটাই প্রথম ফাউল নয়, তৃতীয় কিংবা চতুর্থ ফাউল। আমি তার কাছে অভিযোগ করতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখেছি। এটা অন্যায়।’

dhakapost

নেইমারের বক্তব্যের শেষদিকে বলা কথা নিয়েই মূলত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রেফারির আচরণ রীতিমতো অশ্রদ্ধার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। সে ম্যাচের তারকা হতে চায়। খেলোয়াড়দের প্রতি তার আচরণ মোটেও সম্মানজনক নয়। কারও কথা শুনতে চায় না। সবখানে আধিপত্য বজায় রাখতে চায়। সাম্পাইও এমন–ই, মনে হচ্ছে তার পিরিয়ড চলছে।’ নারী-সম্পৃক্ত বিষয়কে হেয়প্রতিপন্ন করার দায়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই তারকা। 

বিজ্ঞাপন

গত মাসে ব্রাজিলিয়ান লিগে এমন মন্তব্যের জন্য ১২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান রেডবুল ব্রাগান্তিনোর ডিফেন্ডার গুস্তাভো মারকুইস। এমন বড় শাস্তি নেইমারও পেতে পারেন বলে উল্লেখ করেছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’। এক প্রতিবেদনে বলা হয়– আনচেলত্তি আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগে ব্রাজিলের কোড অব স্পোর্টস জাস্টিস অনুসারে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন সান্তোস তারকা। ২৪৩-জি অনুচ্ছেদে অপরাধের বর্ণনায় বলা হয়েছে– ‘কুসংস্কারের ভিত্তিতে জাতিগত উৎস, বর্ণ, লিঙ্গ, গাত্রবর্ণ, বয়স, বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কিত বৈষম্যমূলক, অবজ্ঞাপূর্ণ বা জঘন্য মন্তব্য কিংবা আচরণ করা।’

নিষেধাজ্ঞায় পড়লে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন অনেকটাই ভেস্তে যেতে পারে নেইমারের। কারণ জাতীয় দলে ডাক পেতে তাকে সান্তোসের আসন্ন ম্যাচগুলো কেবল খেললেই হবে না, পুরোপুরি ফিট থাকার প্রমাণও দেখাতে হবে। ও গ্লোবো’র তথ্যমতে– কোনো অ্যাথলেট, কোচ, চিকিৎসক কিংবা অন্য কোনো সদস্য লিঙ্গ-সম্পৃক্ত আপত্তিকর মন্তব্য করলে, তাদের ৫ থেকে ১০ ম্যাচ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হবে। আর সমর্থক পর্যায়ে এমন অপরাধ সংঘটিত হলে নিষেধাজ্ঞা হতে পারে ১২০ থেকে ৩৬০ দিন পর্যন্ত। এ ছাড়া ১ লাখ ব্রাজিলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানারও সুযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এএইচএস