গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমিত হয়ে দ্বিতীয় বিভাগের প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নশিপে নেমে গিয়েছিল লেস্টার সিটি। এবার তারা তৃতীয় বিভাগ থেকেও অবনমনের শঙ্কায় পড়েছে। আর্থিক নিয়ম ভাঙার দায়ে ফেব্রুয়ারিতে লেস্টারের ৬ পয়েন্ট কেটে নিয়েছিল ইংলিশ ফুটবল লিগ (ইএফএল) কর্তৃপক্ষ। এর বিরুদ্ধে আপিল করলেও সেই শাস্তি বহাল রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রিমিয়ার লিগে উন্নতির আগে ২০২৩-২৪ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপে ছিল লেস্টার। ওই মৌসুম পর্যন্ত তিন বছরের লাভ ও টেকসই নীতি (পিএসআর) ভঙ্গের অভিযোগে গত বছরের মে মাসে প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবটির বিরুদ্ধে মামলা করে। এরপর রায়ে সিদ্ধান্ত আসে– লেস্টারের ৬ পয়েন্ট কর্তন করা হয়েছে। ফলে দলটি ১৭ থেকে নেমে যায় ২০তম স্থানে। বর্তমানে তারা চ্যাম্পিয়নশিপের অবনমন অঞ্চলে (২২তম) অবস্থান করছে এবং নিরাপদ অবস্থান থেকে এক পয়েন্ট পিছিয়ে আছে। হাতে আছে আর পাঁচটি ম্যাচ।
এর আগে শাস্তির সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর ৫ ফেব্রুয়ারি লেস্টার এটিকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছিল। আপিলেও সেই শাস্তি বহাল থাকায় ক্লাবটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এখন বিষয়টি শেষ হয়েছে এবং মৌসুমে পাঁচটি ম্যাচ বাকি। তাই আমরা পুরোপুরি মাঠের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দিচ্ছি।’
বিজ্ঞাপন
পিএসআর–এর নীতিমালা অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লিগের কোনো ক্লাব তিন বছরে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি লোকসান করতে পারবে না। তবে কোনো ক্লাব শীর্ষ লিগের বাইরে প্রতিটি মৌসুম কাটালে এই সীমা ২ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড করে প্রতি মৌসুমে কমে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী লেস্টারের লোকসান হয়েছে ১ কোটি ৯৪ লাখ পাউন্ড।
২০২২-২৩ মৌসুমের আর্থিক বিবরণীতে লেস্টার জানিয়েছিল, সে সময় তাদের লোকসান ছিল ৮ কোটি ৯৭ লাখ পাউন্ড। আর ২০২২ সালের মে পর্যন্ত আগের ১২ মাসে ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ড লোকসান হয়। তবে ওই হিসাবের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ বা নারী ফুটবলে বিনিয়োগের মতো ‘অ্যাড ব্যাকস’ খরচ ধরা হয়নি। যেগুলোকে প্রিমিয়ার লিগ ও ইএফএল সাধারণভাবে ক্লাবের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে দেখে।
যদিও লেস্টার যুক্তি দিয়েছিল যে, তাদের হিসাব ৩৭ মাস নয়, ৩৬ মাস ধরে বিবেচনা করা উচিত। কমিশন শেষ পর্যন্ত ৩৬ মাসকেই বৈধ ধরে এবং দেখে যে তারা নির্ধারিত ৮ কোটি ৩০ লাখ সীমার চেয়ে ২.৮ কোটি পাউন্ড বেশি খরচ করেছে। আপিলের পরও শাস্তি বহাল রয়েছে লেস্টারের। নতুন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গ্যারি রোয়েট নিয়োগ পাওয়ার পরও দলটির পারফরম্যান্সে উন্নতি হয়নি, শেষ ১২ ম্যাচে তাদের জয় মাত্র একটি। ফলে লেস্টার টানা দ্বিতীয়বার অবনমনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এএইচএস
