১০ ম্যাচের আইপিএল ক্যারিয়ারে বলার মতো নজির গড়ে ফেলেছেন বৈভব সূর্যবংশী। ১৫ বছর বয়সী ভারতীয় এই ব্যাটার বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বেশ কয়েকটি বড় বড় রেকর্ডও নিজের দখলে নিয়েছেন। সম্প্রতি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ১৪ বলে ৩৯ রানের ইনিংসটি নতুন করে আবারও আলোচনায় এনেছে সূর্যবংশীকে। যেখানে তিনি শুরুটা করেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ’র বলে লং-অনে ছক্কা হাঁকিয়ে।
বিজ্ঞাপন
তরুণ এই ব্যাটারের অতিরিক্ত ব্যাক-লিফট (শট খেলার আগে ব্যাট পেছনের দিকে টেনে তোলা) নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। যা নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে সূর্যবংশীর কোচ জুবিন ভারুচা বলেন, ‘অনেকে বলে তার এই ব্যাকলিফট অনেক উঁচুতে নিয়ে যাওয়ায় সমস্যার মুখে পড়বে, আমি তা শুনে হাসি। যা ব্যবহার করে সে ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার গতির বলকেও আঘাত করে, আক্রমণ করতে পারে বুমরাহ-জোফরা আর্চারের মতো বোলারদেরও। এটাই তার শক্তি এবং তাকে বিশেষ করে তুলেছে।’
ভারুচা বলেন, ‘ব্যাকলিফটের মূল বিষয় হলো এটি যথেষ্ট সময় এবং জায়গা তৈরি করে। যা ব্যাটসম্যানরা পেতে চায়, কিন্তু উচ্চমানের পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে এমন কিছু করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে উঁচু ব্যাকলিফটের কারণে সে দেরিতে ব্যাট চালাবে, এই ভয়টা অযৌক্তিক। তার ব্যাট সুইংয়ের ধরনটা আসলে বাড়তি সময় দেয়, যা ক্রীড়াবোদ্ধাদের অনেকেই দেরিতে বল মোকাবিলা হিসেবে উল্লেখ করেন। ব্যাট যত পেছনে যায়, সে তত সময় পায় এবং যত চওড়া হয় তত জায়গা তৈরি হয়। এটি তার অনন্য ব্যাটিং ডিএনএ (সহজাত বৈশিষ্ট্য)।’
— IndianPremierLeague (@IPL) April 7, 2026
বিজ্ঞাপন
১৩ বছর বয়সে সূর্যবংশী যখন ভারুচার ব্যাটিং ট্রায়ালে অংশ নেন, তখন তার দ্রুত হাঁটা ও ব্যাটিংয়ের ধরন দেখে কোচের প্রশ্ন ছিল– ‘তুমি কার ভক্ত? ঋষভ পান্ত?’ চটপট উত্তর দেন সূর্যবংশী, ‘না স্যার, ব্রায়ান লারা।’ যা শুনে বিস্মিত ভারুচা, ‘তার কথা শুনে আমি হতবাক হয়েছি। বিহারের ১৩ বছরের এক ছেলে, যে লারার ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর বড় হয়েছে, হয়তো তাকে শুধু ইউটিউবেই দেখেছে। লারাকে আদর্শ মানা এক বিষয়, কিন্তু তার মাঝে সেই মহান ব্যাটসম্যানের কি কোনো ছাপ আছে?’
সূর্যবংশীর ব্যাটিংয়ে কেবল লারাই নন, সাবেক দুই ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার এবং রাহুল দ্রাবিড়ের ছায়াও দেখেন কোচ ভারুচা, ‘লারার ছাপ তার ব্যাটিংয়ে স্পষ্ট। তার ব্যাট সুইং প্রায় ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত যায়, যা খুবই বিরল। তার মাথার পজিশনে দেখা যায় শচীন টেন্ডুলকারের ছাপ। মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে থাকায় বল সবসময় তার চোখের লাইনের মধ্যে থাকে, ফলে অফ-স্টাম্পের বলও সহজে লেগ-সাইডে মারতে পারে। আবার ব্যাটিংয়ে রাহুল দ্রাবিড়ের মতো কব্জির দ্রুত নড়াচড়াও দেখা যায়, যা তাকে দ্রুত ব্যাট নামাতে সাহায্য করে।’
বিজ্ঞাপন
সূর্যবংশীর ব্যাটিংয়ে শক্তির জায়গা তো আলোচনা হলো। দুর্বলতাও চিহ্নিত করেছেন তার কোচ, ‘তার জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ডেলিভারি হলো ইনসুইং বল, বিশেষ করে স্টাম্প লাইনে ঢুকে আসা বল। উদাহরণস্বরূপ খলিল আহমেদের (বর্তমানে চেন্নাই সুপার কিংসে খেলছেন) একটি সুইং ডেলিভারিতে তিনি সমস্যায় পড়েন। পরে নিজেই স্বীকার করেন, আগের ওভারে বল সুইং না করায় সে প্রস্তুত ছিলেন না। যে কারণে তার ব্যাট সোজা নামানো, কব্জি ব্যবহার করে বলকে মিড-উইকেট বা স্কয়ার-লেগে নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে কাজ করছেন কোচরা।’

‘আমি রাহুলের (দ্রাবিড়) সঙ্গে তার নিজের ব্যাটিং নিয়ে কথা বলেছি, সে একমত হয়েছে যে যারা (অনুশীলনে) অনেক বেশি বল মোকাবিলা করে তাদের ব্যাটিং সহজ হয়। যার মিল রয়েছে বৈভবের মাঝেও। তার ব্যাটিং পুরোপুরি নির্ভর করে সঠিক টাইমিং ও রিদমের ওপর। কখনও কখনও এই সমন্বয় নষ্ট হলে, এলবিডব্লিউ হতে পারেন অথবা ভুল শট খেলতে পারেন। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক মিললে তখনই শুরু হয় ম্যাজিক’, আরও যোগ করেন ভারুচা।
তরুণ এই ব্যাটারের সাম্প্রতিক ব্যাটিংয়ে আগের চেয়ে উন্নতি ধরা পড়েছে। গত বছর তিনি শর্ট বল টানতে গিয়ে কয়েকবার টপ-এজ হয়েছিলেন। যা নিয়ে কাজ করেছেন গত ছয় মাস। এখন তিনি শর্ট বল আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে খেলছেন, শরীরের কাছাকাছি এনে শট নিচ্ছেন। আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থির ও আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে তাকে। চলতি আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে সূর্যবংশী ৩ ম্যাচে প্রায় ২৪৯ স্ট্রাইকরেট এবং ৪০.৬৬ গড়ে ১২২ রান করেছেন।
এএইচএস
