বিজ্ঞাপন

বৈশাখী প্রীতি ম্যাচে ক্রীড়া কূটনীতির বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

অ+
অ-
বৈশাখী প্রীতি ম্যাচে ক্রীড়া কূটনীতির বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার বিকেলে উৎসবমুখর পরিবেশে ক্রিকেট আনন্দে মেতেছিল বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসজেএ) ও ঢাকাস্থ ইউএস দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও বিএসজেএ’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় এই প্রীতি ম্যাচ।

বিজ্ঞাপন

প্রাণবন্ত আয়োজনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘দারুণ একটি ক্রিকেট ম্যাচের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনকে ধন্যবাদ। এটি আমাদের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ৷ জাতীয় ক্রিকেট মাঠে এসে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারা আমাদের জন্য দারুণ সম্মানের।’

খেলাধূলা কূটনীতির অন্যতম বড় মাধ্যম। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ক্রীড়া কূটনীতিকে বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন। এ নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমরা ‘নেক্সট উইকেট’ কর্মসূচির পৃষ্ঠপোষকতা করছি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি প্রোগ্রাম, যা বাংলাদেশে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে। এ বছরের শেষ দিকে ১০ জন বাংলাদেশি ক্রিকেট পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রে যাবে এবং আগামী বছর আমরা ১০ জন আমেরিকান ক্রিকেট পেশাজীবীকে বাংলাদেশে নিয়ে আসব। এর মাধ্যমে ক্রিকেটের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাও বাড়বে। আমরা ইতোমধ্যে ভালো ক্রিকেট খেলোয়াড়ও তৈরি করছি এবং আশা করছি আগামী বছর আবার এখানে ফিরে এসে আমাদের চ্যাম্পিয়নশিপ রক্ষা করতে পারব।’

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেট খুব বেশি জনপ্রিয় বা তেমন প্রচলিতও নয়। এরপরও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস কেন ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে ক্রিকেটে আগ্রহী হলো? সেই কৌতুহলও মিটিয়েছেন রাষ্ট্রদূত, ‘আপনারা হয়তো ভাবছেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন ক্রিকেট খেলতে এসেছে। আমরা তো মূলত বেসবল আর আমেরিকান ফুটবলের দেশ—সেটাও কিন্তু আসল ফুটবল, পা দিয়ে খেলা নয়। তবে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস অনেক পুরোনো। আমাদের দেশের প্রথম কূটনীতিক বেনজামিন ফ্র্যাঙ্কলিন আমেরিকান উপনিবেশে ক্রিকেট পরিচয় করিয়ে দেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন বিপ্লবী যুদ্ধের সময় ‘উইকেট’ নামে ক্রিকেটের মতো একটি খেলা খেলেছিলেন।’

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল, বিসিবির অন্যতম সদস্য সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, বিএসজেএ সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু ও বিএসজেএ সাধারণ সম্পাদক এসএম সুমন। সৌহাদ্যপূর্ণ এই ম্যাচের শুরুতে বিএসজেএ সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক এসএম সুমন রাষ্ট্রদূতের হাতে বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটে তিন পুরুষ অধিনায়কের পাশাপাশি নারী দলের অধিনায়কের স্বাক্ষরিত সম্বলিত ব্যাট রাষ্ট্রদূতের হাতে তুলে দেন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত বিএসজেএ ও বিসিবি সভাপতিকে বেসবল ব্যাট উপহার দেন।

হোম অব ক্রিকেটে ১৫ ওভারের এই ম্যাচে বিএসজেএ অধিনায়ক আরিফুল ইসলাম রনি টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ৮ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান করে বিএসজেএ। সৌহাদ্যপূর্ণ ম্যাচও যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ ছিল। ৩ বল বাকি থাকতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছায় ঢাকাস্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। অনবদ্য ব্যাটিংয়ের জন্য ইউএস দূতাবাসের আল আমিন ম্যাচ সেরা হন।

এজেড/এমএমএম