পিঠের সমস্যায় ভুগছেন রশিদ খান। হুমকির মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। তবে এখনই সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই। সম্প্রতি এই আফগানিস্তান স্পিনার জানান, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার লম্বা করতে টেস্ট ক্রিকেটকে সময় কম দিতে চান। দলের প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস তার পাশে থাকার ঘোষণা দিলেন। লাল বলের ক্রিকেটে তাকে খেলতে বাধ্য করে তার দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চান না তিনি।
বিজ্ঞাপন
রশিদ এমন আভাস দেওয়ার পর আগামী জুনে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গুজরাট টাইটান্সের হয়ে চলতি আইপিএলে খেলা এই লেগস্পিনার বলেছিলেন, “ডাক্তার আমাকে বলেছেন, ‘তুমি যদি ক্রিকেট খেলতে না চাও, তবে লাল বলের ক্রিকেট খেলতে থাকো।’ কারণ এটা তোমার জন্য ভালো কিছু হবে না। তুমি আর লম্বা সময় ধরে আফগানিস্তানের হয়ে খেলতে পারবে না।’ তারপরও আমি খেলছি। যখন তিনি শুনলেন যে আমি ৬৭ (৫৫) ওভার বল করেছি দুই ইনিংসে (জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে), তখন হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তার কথা এমন ছিল যে, ‘না, তুমি এটা করতে পার না।’ আমি এটা নিয়ে ভাবব।”
এখন রশিদের লক্ষ্য ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। লাল বলের ক্রিকেটে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পাইবাস ক্রিকবাজ-কে বলেন, ভালো-মন্দ দিকগুলো বিবেচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তার কথা, ‘হ্যাঁ, আমিও তাই মনে করি (সাদা বলের ব্যস্ত সূচির আগে কোনো ইনজুরির ঝুঁকি থাকলে ভারতের বিপক্ষে বিশ্রাম দেওয়া ভালো)।’
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে বছরে এক টেস্ট খেলার ব্যাপারে আলোচনা এটাই নিয়েই হবে যে, সে কোন টেস্ট খেলবে? কিন্তু জানেন তো, রশিদের স্বাস্থ্যের ব্যাপার আছে। ক্রিকেটের বাইরে তার দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের কথাও ভাবতে হবে। আপনি চান না যে খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারে পাওয়া কোনো চোটের কারণে কেউ ৪০, ৫০ বা ৬০ বছর বয়সে গিয়ে কেউ কষ্ট পাক।’
তিনি বলে গেলেন, ‘দেখুন, পুরো ব্যাপারটাই তার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল, বুঝলেন? আমি এখনো নির্বাচকদের সঙ্গে বিভিন্ন ফরম্যাটের খেলোয়াড়দের নিয়ে আলোচনা করিনি। কিন্তু তার পিঠের সমস্যার ইতিহাস এবং সে কোথা থেকে উঠে এসেছে, সেই দিক থেকে দেখলে ব্যাপারটা খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল।’
‘তাই এমন ওয়ার্কলোডের কারণে কোনো খেলোয়াড় স্বাস্থ্য বা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ফেলার ইচ্ছা কারো থাকে না, যেটা টেকসই নয়। সুতরাং সে যদি এক টেস্ট খেলতে চায়, তাহলে কোন টেস্ট খেলবে? এটা নিয়েই নির্বাচকদের সঙ্গে ভালোভাবে আলোচনা করতে হবে।’, বললেন পাইবাস।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে আফগানিস্তানে আছেন পাইবাস। জাতীয় দলের আসন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও ট্রেনিং ক্যাম্প সামনে রেখে প্রথমবার দেশটির রাজধানী কাবুলে পা রেখেছেন। নির্বাচক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট বিভাগগুলোর সঙ্গেও মতবিনিময় করেছেন। হাই পারফরম্যান্স সেন্টারও ঘুরে দেখেছেন এই কোচ।
এফএইচএম/
