মঙ্গলবার রাতে কি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রত্যাবর্তনের আরেকটি অবিশ্বাস্য অধ্যায় জন্ম নেবে নাকি গতানুগতিক চিত্রনাট্য দেখা যাবে? অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হতে স্প্যানিশ রাজধানীতে যাচ্ছে বার্সেলোনা। অ্যানফিল্ডে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে স্বাগত জানাবে লিভারপুল। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে দুই দলই ২-০ ব্যবধানে হারের পর প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখার অপেক্ষায়। তাদের সামনে অসাধ্য সাধনের চ্যালেঞ্জ।
বিজ্ঞাপন
বার্সার জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের ম্যাচ এটি। কারণ মেত্রোপলিতানোতে অদম্য অ্যাতলেটিকো। প্রথম লেগে হ্যান্সি ফ্লিকের দল ঘরের মাঠে হোঁচট খায়, লাল কার্ড ও বাজে ফিনিশিংয়ে হার মানে তারা। যদিও ম্যাচের বেশিরভাগ সময় ছিল তাদের আধিপত্য। ইতিহাস বার্সাকে খুব বেশি স্বস্তিতে রাখতে পারছে না— চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে নকআউট ম্যাচে প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুইবার।
এই ম্যাচ খেলার আগে বার্সা এস্পানিওলকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। লামিনে ইয়ামাল ও ফেরান তোরেস দারুণ ফর্মে, আগের ম্যাচে বেঞ্চ থেকে উঠে এসে গোল করা মার্কাস র্যাশফোর্ডও রাখতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্রথম লেগে ইংলিশ ফরোয়ার্ড বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট করেন। র্যাশফোর্ডের মতে, দ্বিতীয় লেগে ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাস থাকতে হবে বার্সেলোনাকে।
বিজ্ঞাপন
ফ্লিক এই ম্যাচেও আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে দল সাজাবেন, যদিও এই কৌশল তাদের পক্ষে শতভাগ কাজ করছে না। রক্ষণে তারা সংগ্রাম করছে। টানা ১৪ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে গোল হজম করেছে তারা। অন্যদিকে এই প্রতিযোগিতায় অ্যাতলেটিকোর ঘরের মাঠের আক্রমণভাগ খুব শক্তিশালী। প্রথম লেগে গোল করা জুলিয়ান আলভারেজ এখনো তাদের জন্য বড় হুমকি। পাশাপাশি আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান ও আলেক্সান্দার সোরলোথও বিপজ্জনক।
পিএসজির বিপক্ষে ২-০ গোলের হারের পর অ্যানফিল্ডে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন লিভারপুলের সামনে। ইতিহাস ও পরিবেশের ওপর ভরসা রাখতে হচ্ছে তাদের। প্যারিসে ছোট ব্যবধানে হারলেও পুরো ম্যাচে পিছিয়ে ছিল লিভারপুল। লক্ষ্যে একটিও শট রাখতে পারেনি তারা। দেসির দুয়ে ও কভিচা কাভারাতস্খেলিয়ার গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন লিভারপুলের হাতে।
কিন্তু লিভারপুল অধিায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের বিশ্বাস, ইউরোপের আরেকটি স্মরণীয় রাত সম্ভব। ২০১৯ সালে তাদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন অনুপ্রাণিত করছে তাকে। ওইবার সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বার্সেলোনার বিপক্ষে তিন গোলে পিছিয়ে পড়েও অ্যানফিল্ডে অনুষ্ঠিত ফিরতি লেগে ৪-০ গোলে জিতেছিল লিভারপুল। ওই দলের সদস্য ছিলেন ফন ডাইক।
বিজ্ঞাপন
তার কথা, ‘আমরা ঘরের মাঠে খেলব। আমাদের আত্মবিশ্বাস দেখাতে হবে.... এজন্য প্রয়োজন বিশেষ পারফরম্যান্স।’ একই মনোভাব দেখিয়ে কোচ আর্নে স্লট তার দলকে অনুপ্রেরণা দিতে দর্শকদের আহ্বান করেছেন। তিনি বলেন, ‘অ্যানফিল্ড অনেকবার দেখিয়েছে যে এটি দলকে আরেক স্তরে নিয়ে যেতে পারে এবং আবার আমাদের সেটা প্রয়োজন।
ইয়াংস্টার রিও এনগুমোহা ও মোহাম্মদ সালাহর গোলে সবশেষ ম্যাচে ফুলহ্যামকে ২-০ গোলে হারায় লিভারপুল, কিছু মুহূর্ত তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে। কিন্তু তাদের ধারাবাহিকতা ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
পিএসজি কিন্তু বেশ সাজানো গোছানো থেকে মাঠে নামছে। তাদের খেলোয়াড়রাও দারুণ ফর্মে। কাভারাতস্খেলিয়া নকআউট ম্যাচে গোলের ধারা অব্যাহত রেখেছেন।
মাদ্রিদে আক্রমণভাগ নিয়ে কি বার্সেলোনা বাজি ধরবে নাকি অন্য কিছু কিংবা অ্যানফিল্ডে লিভারপুল জাদু দেখাবে। যাই হোক না কেন, মঙ্গলবার রাতটা হতে যাচ্ছে চিরস্মরণীয় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রূপকথায় আরেকটি অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়তো যুক্ত হচ্ছে।
এফএইচএম/
